— প্রতীকী চিত্র।
ট্রেনে বিশেষ ভাবে সক্ষম ব্যক্তিদের জন্য নির্দিষ্ট কামরা (প্রতিবন্ধী কামরা) প্ল্যাটফর্মের বাইরে থাকার অভিযোগ করলেন দুই বিশেষ ভাবে সক্ষম যাত্রী। অভিযোগ, এর জেরে তাঁদের ট্রেনের ওই কামরায় উঠতে খুব অসুবিধা হয়। ঘটনাটি নিয়ে তাঁরা হাওড়া স্টেশনের কর্মরত আধিকারিকদের অভিযোগও জানিয়েছেন।
বিশ্বজিৎ ঘোষ নামে এক সম্পূর্ণ দৃষ্টিহীন ব্যক্তির অভিযোগ, তিনি ও তাঁর এক দৃষ্টিহীন সঙ্গীর মঙ্গলবার কুলিক এক্সপ্রেসে চেপে রামপুরহাট যাওয়ার কথা ছিল। তাঁরা সকালে হাওড়া স্টেশনে এসে ১০ নম্বর প্ল্যাটফর্মে দাঁড়ানো কুলিক এক্সপ্রেসের বিশেষ ভাবে সক্ষমদের কামরাটি কোথায় জিজ্ঞাসা করলে জানতে পারেন, সেটি প্ল্যাটফর্মের একেবারে শেষে আছে।
বিশ্বজিৎ বলেন, ‘‘আমরা হেঁটে হেঁটে প্ল্যাটফর্মের শেষ প্রান্তে গিয়ে জানতে পারি, কামরাটি আসলে প্ল্যাটফর্ম ছাড়িয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে। ওই কামরায় কী ভাবে উঠব, তা বুঝতে পারছিলাম না। দুই কামরার মাঝে কোনওভেস্টিবিউলও ছিল না। শেষে কয়েক জন যাত্রীর সহযোগিতায় প্ল্যাটফর্ম থেকে নেমে ওই কামরায় কোনও রকমে উঠি। এ দিন আমার মতো বেশ কয়েক জন বিশেষ ভাবে সক্ষম যাত্রীর কামরায় উঠতে একই রকম অসুবিধা হয়েছে।’’
বিশ্বজিৎ রামকৃষ্ণ মিশন ব্লাইন্ড বয়েজ় অ্যাকাডেমির প্রাক্তন অধ্যক্ষ। অবসরের পরেও তিনি বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত। তিনি জানান, তাঁকে মাঝেমধ্যেই বিভিন্ন জায়গায় কাজে যেতে হয়। ট্রেনে বিশেষ ভাবে সক্ষমদের জন্য নির্দিষ্ট কামরাতেই তিনি যাতায়াত করেন।
বিশ্বজিতের অভিযোগ, ‘‘বিশেষ ভাবে সক্ষমদের কামরায় উঠে জানতে পারি, বেশ কয়েক জন সাধারণ মানুষও ওই কামরায় উঠে বসে রয়েছেন। পুরো বিষয়টি আমরা স্টেশনের এক আধিকারিককে জানিয়েছি।’’
পূর্ব রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক শিবরাম মাঝি বলেন, ‘‘রেল কখনওই এমন ঘটনা সমর্থন করে না। এ রকম ঘটনা ঘটেছে বলে আমার কাছে খবর নেই। তবে এই নিয়ে প্রয়োজনীয় খোঁজখবর করা হবে এবং দরকারে পদক্ষেপ করা হবে।’’
রেলের এক আধিকারিক জানান, বিশেষ ভাবে সক্ষমদের কামরায় সাধারণ যাত্রীদের বসার কথা নয়। এ নিয়ে আরপিএফ নজরদারি বাড়ানো হবে ও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে