পুলিশি পাহার রয়েছে। তার পরেও কী ভাবে সেই বেড়াজাল টপকে নির্যাতিতাদের বাড়িতে ঢুকে পড়ছে অভিযুক্তরা। বৃহস্পতিবার আমতার মুক্তিরচক গ্রামে নির্যাতিতাদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে পুলিশকে এই প্রশ্ন করলেন সেভ ডেমোক্রেসির সদস্যরা। পুলিশ জানিয়েছে, সব অভিযুক্তের ক্ষেত্রে আমতা থানা এলাকায় ঢোকার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা নেই। তবে যাদের ঢুকতে বারণ আছে তারা যাতে আসতে না পারে সেটা দেখা হয়।
২০১৪ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি রাতে বধূ এবং তাঁর জেঠশাশুড়িকে গণধর্ষণের অভিযোগ ওঠে তাঁদেরই প্রতিবেশী তথা তৃণমূলের দুই স্থানীয় নেতা বরুণ মাখাল, রঞ্জিত মণ্ডল-সহ দশ জনের বিরুদ্ধে। পুলিশ ১০ জনকেই গ্রেফতার করে। আমতা আদালতে এই মামলার শুনানি চলছে। আগেই অভিযুক্তেরা হাইকোর্ট থেকে জামিন পেয়ে গিয়েছে। নির্যাতিতাদের অভিযোগ, গত ১৮ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় অভিযুক্তদের একজন শঙ্কর মাখাল তাঁদের বাড়িতে এসে মামলা তুলে নেওয়ার চাপ দেয়। না হলে ফের তাঁদের নির্যাতন করা হবে বলে হুমকি দেয়। ঘটনার পর থেকেই নির্যাতিতাদের বাড়ির সামনে রয়েছে ২৪ ঘন্টার পুলিশ প্রহরা। পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। আদালতের নির্দেশে এখন শঙ্কর জেল হাজতে আছে।
তবে ভয় কাটছে না নির্যাতিতাদের। তাঁদের অভিযোগ, হাইকোর্ট অভিযুক্তদের শর্তসাপেক্ষে জামিন দিয়েছে। হাইকোর্ট সাফ জানিয়েছে অভিযুক্তরা আমতা থানা এলাকায় ঢুকতে পারবে না। তবুও তারা প্রতিদিন গ্রাম আসছে। তাঁদের হুমকি দিচ্ছে। সেভ ডেমোক্রেসির সদস্যরা এ দিন নির্যাতিতাদের পরিবারের লোকজনের সঙ্গে দেখা করে আমতা থানায় যান। তাঁরা পুলিশের সঙ্গে কথা বলেন।
সেভ ডেমোক্রেসির রাজ্য সম্পাদক চঞ্চল চক্রবর্তী বলেন, ‘‘জামিন দেওয়ার পরে আদালত স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছে যাতে অভিযুক্তরা আমতা থানা এলাকায় ঢুকতে না পারে। কিন্তু তারা নিয়মিত গ্রামে আসছে। নির্যাতিতাদের হুমকি দিচ্ছে। এটা যাতে না ঘটে পুলিশকে সেটাই আমরা বললাম।’’ তৃণমূলের তরফে জানানো হয়েছে, আইন তার নিজের পথে চলবে।