কখনও নির্বাচিত জন প্রতিনিধিদের তাড়িয়ে পঞ্চায়েতে ক্ষমতা বজায় রাখার চেষ্টা হচ্ছে। কখনও আবার পাল্টা শক্তি সঞ্চয় করে ক্ষমতা পুনর্দখলের চেষ্টা বা বালি খাদান দখলকে কেন্দ্র করে দু’পক্ষের সংঘর্ষ হচ্ছে। গত এক বছর ধরে দফায় দফায় দলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে উন্নয়নের কাজ প্রায় স্তব্ধ তৃণমূল পরিচালিত আরামবাগের পরিচালিত হরিণখোলা ১ পঞ্চায়েতে। এই ডামাডোল নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন আরামবাগের বিডিও মহম্মদ বদরুজ্জামান। তিনি বলেন, ‘‘পঞ্চায়েতকে স্বাভাবিক কাজকর্মের মধ্যে ফেরাতে যুগ্ম বিডিওকে তদারকির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সব পক্ষকে নিয়ে বসে সমস্যাগুলি চিহ্নিত করা এবং তা সমাধানের রাস্তা খোঁজা হবে।’’
হরিণখোলা ১ পঞ্চায়েতে মোট আসন ১৬। বিরোধীশূন্য এই পঞ্চায়েত আরামবাগ পঞ্চায়েত সমিতির অধীন হলেও পুরশুড়া বিধানসভা এলাকার মধ্যে পড়েছে। ফলে বোর্ড গঠনের শুরু থেকেই সরকারি বিভিন্ন প্রকল্পে উপভোক্তা বাছাইয়ের ক্ষেত্রে দলের পুরশুড়া গোষ্ঠী ও আরামবাগ গোষ্ঠীর মধ্যে দ্বন্দ্ব অব্যাহত। এর সঙ্গে জুড়েছে স্থানীয় মুণ্ডেশ্বরী নদীর উপর বালিখাদান দখল ও পুনর্দখলকে কেন্দ্র করে দু’পক্ষের লাগাতার সংঘর্ষও। দু’পক্ষের দ্বন্দ্বে গত জানুয়ারি মাস থেকে প্রায় বিধানসভা ভোটে কেন্দ্রীয় বাহিনী আসার আগে পর্যন্ত প্রধান গীতা ঘোড়ুই-সহ অন্য সদস্যরা অফিস আসা প্রায় বন্ধই করে দেন। সেই ডামাডোল ভোটের পরেও মেটেনি।
এর জেরে এই আর্থিক বছরে গ্রামসংসদ, গ্রাম এবং উপসমিতির বৈঠকও হয়নি। ফলে গ্রামোন্নয়ন সংক্রান্ত কোনও পরিকল্পনাও উঠে আসেনি। নাগরিকদের উন্নত পরিষেবা পৌঁছে দিতে তহবিল মজুত থাকলে সেই তহবিল খরচ হচ্ছিল না বলে পঞ্চায়েত থেকে ব্লকে অভিযোগও জমা পড়ে। পঞ্চায়েত থেকে পরিষেবা না পাওয়ায় পূর্ব কৃষ্ণপুর, কুলহরাদিত্য, মজফফরপুর, অরুণবেড়া, হরিণখোলা, আমডোবা প্রভৃতি গ্রামের মানুষ গত অগস্ট মাসের শেষে ব্লক অফিসে বিক্ষোভও দেখিয়েছিলেন। তার জেরে সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাসে আরামবাগের যুগ্ম বিডিও (২) প্রদীপ রায়ের তদারকিতে চতুর্দশ অর্থ কমিশনের গত মার্চ মাস থেকে পড়ে থাকা ২২ লক্ষ টাকা খরচ হয়েছে। হরিণখোলা ১ পঞ্চায়েত প্রধান গীতা ঘোড়ুইয়ের দাবি, ‘‘পুরশুড়া বিধায়ক মহম্মদ নুরুজ্জামানের হস্তক্ষেপে পঞ্চায়েত ক্রমশ কাজের মধ্যে ফিরছে।’’ আরামবাগ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি শিশির সরকারও দাবি করেন, ‘‘পঞ্চায়েত এলাকায় নিয়মিত গ্রামসংসদ, গ্রামসভা এবং উপসমিতির বৈঠক না হলেও কিছু প্রকল্পের কাজ হচ্ছে।’’ গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘‘স্থানীয় সমস্যার প্রভাব যাতে পঞ্চায়েতে না পড়ে সে বিষয়ে চেষ্টা চলছে।’’
তবে পুরশুড়ার বিধায়ক মহম্মদ নুরুজ্জামান গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের কথা অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, ‘‘দুষ্কৃতীদের কড়া হাতে নিয়ন্ত্রণ করতে বলা হয়েছে পুলিশকে। গ্রামোন্নয়নের ক্ষেত্রে কোনও বাধা বরদাস্ত করা হবে না।’’
অবরোধে কংগ্রেস। দিল্লিতে রাহুল গাঁধীকে আটক করার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার হুগলির ডানকুনিতে দিল্লি রোড অবরোধ করল কংগ্রেসের কৃষক সংগঠন। এ দিন সকালে ডানকুনির চাকুন্দিতে সংগঠনের তরফে বিক্ষোভও দেখানো হয়। বেলা সাড়ে ১১টা নাগাদ অবরোধ শুরু হয়। প্রায় আধঘণ্টা অবরোধ চলে।