WB Assembly Elections 2026

গেরুয়া-গড়ে ঘাসফুল ফোটাতে লড়াইয়ে সেনাপতি

এ বারে ওন্দায় তৃণমূলের প্রার্থী দলের বিষ্ণুপুর সাংগঠনিক জেলা সভাপতি সুব্রত দত্ত ওরফে গোপে। তিনি সংগঠনের জেলার সেনাপতিও বটে।

রাজদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়

শেষ আপডেট: ০৮ এপ্রিল ২০২৬ ০০:২৫
Share:

—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

এক প্রার্থী ‘বহিরাগত’ তকমা ঝেড়ে ফেলতে শোনাচ্ছেন উন্নয়নের ফিরিস্তি। অন্য জন ‘গড়’ রক্ষা করতে কেন্দ্র-রাজ্য ডবল ইঞ্জিন সরকারের সুফল ও উন্নয়নের স্বপ্ন দেখাচ্ছেন। রাজ্যে তৃণমূল শাসনেই গত কয়েকটি নির্বাচনে জেলায় কার্যত বিজেপির শক্ত ঘাঁটি হিসাবে উঠে আসা ওন্দা বিধানসভা কেন্দ্রে তৃণমূল ও বিজেপির লড়াই এক অন্য মাত্রা পেতে চলেছে।

২০১১ ও ২০১৬-র বিধানসভা নির্বাচনে ওন্দা কেন্দ্র দখলে ছিল তৃণমূলের। ২০১৯-র লোকসভা নির্বাচন থেকে ভোলবদলের শুরু। ওই নির্বাচনে ভোটপ্রাপ্তির নিরিখে তৃণমূলকে পিছিয়ে ফেলাই শুধু নয়, ধারাবাহিকতা বজায় রেখে ২০২১-এর বিধানসভা ভোটেও ওন্দায় ফোটে পদ্ম। বিধায়ক হন জেলার পুরনো বিজেপি নেতা অমরনাথ শাখা।

বছর দুই পরে পঞ্চায়েত নির্বাচনেও এলাকার ১৯টি পঞ্চায়েতের পাঁচটিতে ও পঞ্চায়েত সমিতির ৫৫টি আসনের মধ্যে ১৯টিতে জিতে নজর কাড়ে গেরুয়া শিবির। এলাকায় একটি জেলা পরিষদের আসনও বিজেপি জেতে। ২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচনে ওন্দা কেন্দ্রে ভোটপ্রাপ্তির নিরিখে এগিয়ে রয়েছে বিজেপি। এমন একটি কেন্দ্রের গেরুয়া থেকে সবুজ হওয়াটা কঠিন কাজ হিসাবেই দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।

এ বারে ওন্দায় তৃণমূলের প্রার্থী দলের বিষ্ণুপুর সাংগঠনিক জেলা সভাপতি সুব্রত দত্ত ওরফে গোপে। তিনি সংগঠনের জেলার সেনাপতিও বটে। তবুও পাত্রসায়রে বাড়ি হওয়ার কারণে সইতে হচ্ছে ‘বহিরাগত’ কটাক্ষ। সমস্যা নতুন নয়। গত তিন বিধানসভা ভোটে ওন্দায় প্রার্থী হওয়া বাঁকুড়ার বাসিন্দা অরূপ খাঁ-র সঙ্গেও জুড়েছিল ‘বহিরাগত’ তকমা। এ বারে নির্বাচনের আগে ‘বহিরাগত হটাও’ পোস্টার পড়েছিল এলাকায়। এলাকার কাউকে প্রার্থী করার দাবি না মিটলেও জেলা সভাপতিকে দল প্রার্থী করার পরে এককাট্টা হয়েই মাঠে নেমেছেন তৃণমূল কর্মীরা। যদিও প্রচারে বিজেপি নেতাদের কটাক্ষ শোনা যাচ্ছে, ‘আগে বিধায়কের শংসাপত্র পেতে কুড়ি মিনিট মোটরবাইক হাঁকিয়ে বাঁকুড়ায় ছুটতে হত ওন্দার মানুষকে। এ বারের তৃণমূল প্রার্থীকে জিতলে দু’ঘণ্টা বাইক চালিয়ে পাত্রসায়রে যেতে হবে।’

বিজেপি প্রার্থী অমরনাথ বলেন, “তৃণমূল প্রার্থীর চরিত্র এখানকার মানুষ জানেন। তাই তা নিয়ে কিছু বলব না। তবে ওঁকে ভোট দিয়ে জেতালে বিধায়কের দেখাই পাবেন না মানুষ।” আর আপনি জিতলে? অমরনাথের উত্তর, “এ বারে রাজ্যে পালাবদল হবেই। কেন্দ্র-রাজ্য ডবল ইঞ্জিন সরকার গড়ে উঠলে উন্নয়নের জোয়ার বইবে ওন্দায়।”

পাল্টা সুব্রতর দাবি, “এক জন বিধায়ক মানুষকে উন্নয়নের আশ্বাস দিয়ে স্বপ্ন দেখাচ্ছেন। আর প্রার্থী হওয়ার আগেই আমার দল এখানে ৫৫০ কোটি টাকার কাজ করে ফেলেছে। বিজেপি বিধায়ক গত নির্বাচনের আগে মানুষকে যে কথা দিয়েছিলেন, তা রাখতে পারেননি। আর জেলা সভাপতি হওয়ার পরেই দলীয় সাংসদকে ধরে এক কোটি টাকার স্বাস্থ্যকেন্দ্র বানিয়েছি পুনিশোলে।” তাঁর সংযোজন, “কেবল শংসাপত্র দেওয়া বা বাতিস্তম্ভ বসানোর জন্য বিধায়ক হতে চাই না। আর আমি বহিরাগত না ভূমিপুত্র, তা সময়েই প্রমাণিত হবে।”

যুযুধান দলের প্রার্থীদের তরজা যখন চরমে, দলের ভোট-ব্যাঙ্ক পুনরুদ্ধারে একের পর এক এলাকা চষে বেড়াচ্ছেন ফরওয়ার্ড ব্লকের প্রার্থী অসিত শর্মা। তাঁর আশা, “এ বারে সব বাম দল যে ভাবে মাঠে নেমেছে, চমকপ্রদ ফল হবে আমাদের।” দীর্ঘদিন পরে ওন্দায় একক প্রার্থী দিয়েছে কংগ্রেসও। কতটা ছাপ ফেললেন দলের প্রার্থী পবন সালামপুরিয়া, পরীক্ষা নেবে আগামী নির্বাচন।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন

এটি একটি প্রিমিয়াম খবর…

  • প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর

  • সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ

  • সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে

সাবস্ক্রাইব করুন