হাওড়ায় গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের জের

ফের সভাপতি বদল শহর টিএমসিপি-র

মাস কয়েক আগেই হাওড়ায় শাসকদলের ছাত্র সংগঠনে রদবদল হয়েছিল। সংগঠনকে শহর ও গ্রামীণ—এই দু’ভাগে ভেঙে নতুন সভাপতি নির্বাচন করা হয়েছিল। গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে দীর্ণ জেলার ছাত্র সংগঠনকে শক্তিশালী করাই যে এর মূল লক্ষ্য ছিল, সে কথা ঠারেঠোরে অনেক তৃণমূল নেতাই মেনে নিয়েছিলেন। কিন্তু তার পরেও গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব যে এড়ানো যাচ্ছে না সোমবার রামরাজাতলায় আইটিআই কলেজের গোলমালের ঘটনায় তা ফের সামনে এল।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৭ মে ২০১৫ ০১:৩২
Share:

মাস কয়েক আগেই হাওড়ায় শাসকদলের ছাত্র সংগঠনে রদবদল হয়েছিল। সংগঠনকে শহর ও গ্রামীণ—এই দু’ভাগে ভেঙে নতুন সভাপতি নির্বাচন করা হয়েছিল। গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে দীর্ণ জেলার ছাত্র সংগঠনকে শক্তিশালী করাই যে এর মূল লক্ষ্য ছিল, সে কথা ঠারেঠোরে অনেক তৃণমূল নেতাই মেনে নিয়েছিলেন। কিন্তু তার পরেও গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব যে এড়ানো যাচ্ছে না সোমবার রামরাজাতলায় আইটিআই কলেজের গোলমালের ঘটনায় তা ফের সামনে এল। সেখানে টিএমসিপি-র গোষ্ঠী-সংঘর্ষে বোমা-গুলি চলে বলেও অভিযোগ। এরপরেই জেলা শহর সভাপতি অঞ্জন টাকিকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে টিএমসিপি-র রাজ্য নেতৃত্ব। তবে, সংগঠনের গ্রামীণ হাওড়ার সভাপতি আপাতত বদল করা হচ্ছে না।
মঙ্গলবার টিএমসিপি-র রাজ্য সভাপতি অশোক রুদ্র বলেন, ‘‘দলবিরোধী কাজের অভিযোগে অঞ্জনকে বহিষ্কার ও আইটিআই কলেজের সাধারণ সম্পাদক নিয়ামত আলিকে শোকজ করা হয়েছে। হাওড়া শহর কমিটির নতুন সভাপতি করা হয়েছে ডোমজুড় আজাদ হিন্দ কলেজের তুফান ঘোষকে।’’

Advertisement

কিন্তু সভাপতি বদলেই গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব মিটবে না বলেই মনে করছেন জেলা তৃণমূল নেতাদের একাংশ। নতুন ছাত্র সভাপতির নাম ঘোষণার পরে মঙ্গলবারই নরসিংহ দত্ত কলেজ, লালবাবা কলেজ ও আন্দুল জগবন্ধু কলেজ, জগৎবল্লভপুর শোভারানি কলেজ-সহ জেলার কয়েকটি কলেজের টিএমসিপি কর্মীদের একাংশ বিক্ষোভ দেখান। তাঁদের দাবি, আইটিআই কলেজের গোলমালে অঞ্জনের সঙ্গেই ছিলেন তুফান। গোষ্ঠী-রাজনীতির ভারসাম্য বজায় রাখতেই কয়েক মাস আগে জেলার ছাত্র সংগঠনকে দু’টি ভাগে ভাগ করা হয়েছিল। কিন্তু সভাপতি পদে রদবদল হলেও গোষ্ঠী-রাজনীতির ছায়া এড়ানো যায়নি।

জেলা তৃণমূলের এক নেতা বলেন, ‘‘হাওড়ায় দল এখন দুই মন্ত্রীর শিবিরে ভাগ হয়ে গিয়েছে। তাই ছাত্র সংগঠনেও দ্বন্দ্ব চরমে। অঞ্জন যে শিবিরের ছাত্র নেতা ছিলেন, তুফান ঘোষও সেই শিবিরের। তাই মুখ বদলালেও শিবির বিন্যাসে কোনও বদল হয়নি।’’

Advertisement

যদিও নিজেকে কোনও শিবিরভুক্ত বলে মানতে চাননি মাকড়দহ-১ পঞ্চায়েতের সদস্য তুফান। তাঁর দাবি, ‘‘দলের বদনাম হয় এমন কোনও কাজ যাতে না হয় সে দিকে নজর রাখাই আমার প্রথম কাজ।’’ অঞ্জনের মোবাইল বন্ধ থাকায় তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি। তবে তাঁর ঘনিষ্ঠ মহল সূত্রে জানা গিয়েছে, নিজের অনুগামীদের কয়েক জন বিশ্বাসঘাতকতা করার জন্যই আইটিআই কলেজের ঘটনা ঘটে গিয়েছে বলে মনে করেন অঞ্জন। পুরো বিষয়টি তিনি সংগঠনের শীর্ষ নেতৃত্বকে জানিয়েছেন।

ছাত্র সংগঠনের প্রাক্তন জেলা সভাপতি তথা যুব তৃণমূলের শহর সভাপতি অনুপম ঘোষ মানছেন, ‘‘সংগঠনে ভাল মুখের অভাব হচ্ছে। সেই শূন্যস্থান পূরণ না হওয়া পর্যন্ত এই বদল মোটেও অস্বাভাবিক নয়।’’

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement