চন্দননগরের ক্রীড়াপ্রেমীরা হতাশ

সরকার বদলেও হাল ফেরেনি স্টেডিয়ামের

সালটা ১৯৮৯। রাজ্যের তৎকালীন ক্রীড়ামন্ত্রী প্রয়াত সুভাষ চক্রবর্তীর উদ্যোগে চন্দননগরের বিবিরহাট চড়কতলা অঞ্চলে মিনি স্টেডিয়ামের শিলান্যাস হয়।

Advertisement

তাপস ঘোষ

শেষ আপডেট: ১৫ জুন ২০১৬ ০৮:৪৮
Share:

আগাছায় ভরেছে স্টেডিয়াম। ছবি: তাপস ঘোষ।

সালটা ১৯৮৯। রাজ্যের তৎকালীন ক্রীড়ামন্ত্রী প্রয়াত সুভাষ চক্রবর্তীর উদ্যোগে চন্দননগরের বিবিরহাট চড়কতলা অঞ্চলে মিনি স্টেডিয়ামের শিলান্যাস হয়। পাঁচ বিঘা জমির উপর স্টেডিয়াম তৈরির জন্য ক্রীড়া দফতর তিন কোটি টাকাও বরাদ্দ করে। ১৯৯২ সালের ৬ই ডিসেম্বর স্টেডিয়ামের কাজও শুরু হয়। কিন্তু কিছুদিন কাজ চলার পরে তা বন্ধ হয়ে যায়। তারপর কেটে গিয়েছে চব্বিশটা বছর। ইতিমধ্যে রাজ্যে সরকার বদল হয়েছে। পাঁচ বছর আগে নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর এলাকার মানুষ ভেবেছিলেন, এ বার স্টেডিয়ামের কাজ শেষ হবে। কিন্তু তাঁদের সেই আশা পূরণ হয়নি আজও। ফলে পড়ে থেকে থেকে আগাছায় ভরে গিয়েছে মাঠ।

Advertisement

প্রশাসন সূত্রে খবর, ২০১০ সালে চন্দননগর পুরসভায় তৃণমূল বোর্ড গঠনের পর স্টেডিয়ামের কাজ শুরু করতে উদ্যোগী হয়। তবে স্টেডিয়ামের চারিদিকে দর্শকদের বসার জন্য গ্যালারি এখনও অসমাপ্ত অবস্থায়। মূলত ইন্ডোর গেমের জন্যই এই স্টেডিয়াম তৈরি করা হচ্ছিল। টেবল টেনিস, ভলিবল খেলার উপযুক্ত হিসাবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা ছিল। এলাকার ক্রীড়াপ্রেমীদের সুবিধার্থে কাজও শুরু করে পুরসভা। কথা ছিল ২০১৫ সালের জানুয়ারি মাসের মধ্যে স্টেডিয়ামের কাজ শেষ করা হবে। কিন্তু বছর ঘুরলেও আজও মিনি স্টেডিয়াম পূর্ণ রূপ পেল না। টাকার অভাবেই স্টেডিয়ামের কাজ শেষ করা যাচ্ছে না বলে প্রশাসন সূত্রে খবর।

কাজ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অর্ধসমাপ্ত স্টেডিয়াম জঙ্গলে পরিণত হয়েছে। সেখানে বিষধর সাপের আড্ডা। পুরসভার পক্ষ থেকে নজরদারি চালানোর জন্য একজন পাহারাদার অবশ্য রয়েছেন। বাসিন্দাদের অভিযোগ, শুধু সাপের আড্ডা নয়, বহিরাগত যুবকদের নানা আসামাজিক কাজের জায়গা হয়ে দাঁড়িয়েছে ওই জায়গা। সন্ধ্যে নামলেই অবাধে বসে যায় মদের আসর।

Advertisement

স্টেডিয়ামের এমন হাল নিয়ে কী বলছে প্রশাসন?

চন্দননগর পুরসভার ১ নম্বর বরো চেয়ারম্যান অনিমেষ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘‘এটা ঠিক যে মিনি স্টেডিয়ামের কাজ দীর্ঘদিন ধরেই বন্ধ। তবে ক্রীড়াপ্রেমীদের কথা ভেবে স্টেডিয়ামের কাজ ফের যাতে দ্রুত শুরু করা যায় সে জন্য স্থানীয় বিধায়ক ই‌ন্দ্রনীল সেনের উদ্যোগে চেষ্টা হচ্ছে।’’

স্টেডিয়ামের এমন পরিণতিতে চন্দননগরের ক্রীড়াপ্রেমীরা হতাশ। চন্দননগর টেবল টেনিস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি বামাপদ চট্ট্যোপাধ্যায় বলেন, ‘‘এই শহরে কোনও ইন্ডোর স্টেডিয়াম নেই। ফলে খেলোয়াড়দের প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রে খুবই অসুবিধা হচ্ছে। খেলোয়াড়রা আলাদা ভাবে যে যার মতো স্থানীয় ক্লাবে প্রশিক্ষণ নিচ্ছে। তা ছাড়া প্রতিযোগিতার আয়োজন করতে গেলেও কোনও স্টেডিয়াম নেই। এই স্টেডিয়ামটা তৈরি হয়ে গেলে ক্রীড়াপ্রেমীদের মস্ত সুবিধা হতো।’’

টেবল টেনিস খেলোয়াড় অনন্যা সাঁতরার কথায়, ‘‘চন্দননগরে এই স্টেডিয়াম হলে আমাদের খেলার খুব সুবিধা হবে। বিশেষ করে আরও ভাল করে প্রশিক্ষণ নিতে পারবেন খেলোয়াড়রা। নানা রকম খেলার আয়োজনও করা যাবে। এর ফলে এলাকায় খেলাধূলার উন্নতি হবে।’’

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement