বৈদ্যবাটি

‘নির্মল জেলা’, তবুও মাঠে ছুটতে হয় বাসন্তী, সুমিত্রাদের

শৌচাগারে দরজা নেই। নেই জলের ব্যবস্থা। অথচ গোটা হুগলিই ‘নির্মল জেলা’ তকমা পেয়েছে।

Advertisement

প্রকাশ পাল

শেষ আপডেট: ১৩ ডিসেম্বর ২০১৬ ০১:৩১
Share:

অর্ধসমাপ্ত শৌচাগার। —নিজস্ব চিত্র।

শৌচাগারে দরজা নেই। নেই জলের ব্যবস্থা। অথচ গোটা হুগলিই ‘নির্মল জেলা’ তকমা পেয়েছে।

Advertisement

প্রত্যন্ত কোনও গ্রাম নয়, বৈদ্যবাটি স্টেশন লাগোয়া ঝুপড়িতে শৌচাগারের এমন ছবি দেখে যে কারও মনে নির্মল জেলার তকমা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিতে পারে। ফলে ঝুপড়ির বাসিন্দাদের কাছে আজও মাঠঘাটই প্রাকৃতিক কাজ সারার উপায়।

পুরসভা ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ১৭ নম্বর ওয়ার্ডে রেল লাইনের দু’ধারে প্রায় দু’শো ঝুপড়ি রয়েছে। প্রাকৃতিক কাজ সারতে ওই ঝুপড়িবাসীদের মাঠঘাটে বা রেল লাইনের ধারে যেতে হয়। স্থানীয় মহিলারা বলেন, ‘‘কী শীত, কী গরম দিনের আলো ফোটার আগেই আমাদের কাজ সারতে হয়। না হলে তো লজ্জার ব্যাপার।’’

Advertisement

এ বছরের গোড়া থেকেই হুগলিকে নির্মল জেলা ঘোষণা করতে জোর অভিযানে নামে জেলা প্রশাসন। প্রচারের পাশাপাশি মানুষকে সচেতন করতে ভোরে মাঠঘাটেও অভিযান চালায় প্রশাসনের লোকজন। কয়েক মাস আগে খোদ মুখ্যমন্ত্রী হুগলিকে ‘নির্মল জেলা’ ঘোষণা করেন। কিন্তু ঘোষণা আর কাজে যে ফারাক রয়েছে, বৈদ্যবাটির ঘটনায় তা পরিষ্কার।

নির্মল বাংলা প্রকল্পে কয়েক মাস আগে এখানে টিনের শেডের বারোটি শৌচাগার (কমিউনিটি টয়লেট) তৈরি করে পুরসভা। কিন্তু একটিতেও দরজা নেই। ব্যবস্থা নেই জলেরও। ফলে সেগুলি ব্যবহার করতে পারছেন না মানুষজন। বাসন্তী দাস, সুমিত্রা দাসের বক্তব্য, ‘‘শৌচাগারগুলির কাজ কবে শেষ হবে জানি না। তা ছাড়া, যে ক’টা তৈরি হয়েছে তা প্রয়োজনের তুলনায় কম। না চাইলেও পরিস্থিতিই মাঠঘাটে যেতে বাধ্য করছে।’’ স্থানীয় তৃণমূল কাউন্সিলর বাসুদেব চৌধুরী বলেন, ‘‘কিছু সমস্যার জন্য ওই প্রকল্পের টাকা আটকে গিয়েছিল। ঠিকাদারদের টাকা দেওয়া যায়নি। তাই কাজ আটকে গিয়েছে। তবে সমস্যা মিটে গিয়েছে। শীঘ্রই কাজ শেষ করা হবে।’’

শ্রীরামপুরের মহকুমাশাসক রজত নন্দা বলেন, ‘‘আমি পুরসভার সঙ্গে কথা বলছি। কাজ দ্রুত শেষ করা হবে।’’ প্রয়োজনে জায়গা খুঁজে আরও শৌচাগার তৈরি করা হবে বলে প্রশাসন সূত্রে জানানো হয়েছে।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement