জমি নিয়ে ক্লাবের সঙ্গে দ্বন্দ্ব

চাপে পড়ে সুর বদল কলেজের

ক্লাবের সঙ্গে জমি বিবাদে ভাঙচুর করে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয় বালির একটি বিএড কলেজে। আগুন লাগানো হয় ওই কলেজের মালিকের বাড়িতেও। ঘটনার এক দিনের মাথায় সেই কলেজ মালিকই নিজের কৃতকর্মের সাফাই দিয়ে নতি স্বীকার করে বললেন, ‘‘ক্লাবের বিপক্ষে গিয়ে ঠিক করিনি।’’

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৮ জানুয়ারি ২০১৬ ০১:৫৬
Share:

ক্লাবের সঙ্গে জমি বিবাদে ভাঙচুর করে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয় বালির একটি বিএড কলেজে। আগুন লাগানো হয় ওই কলেজের মালিকের বাড়িতেও। ঘটনার এক দিনের মাথায় সেই কলেজ মালিকই নিজের কৃতকর্মের সাফাই দিয়ে নতি স্বীকার করে বললেন, ‘‘ক্লাবের বিপক্ষে গিয়ে ঠিক করিনি।’’

Advertisement

বুধবার সকালে কলেজ ভাঙচুর ও আগুন লাগানোর ঘটনায় জড়িত ১৬ জনকে এখন পর্যন্ত গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার তাদের হাওড়া আদালতে তোলা হলে বিচারক সাত দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেন। এ দিন সকালে বিষ্ণুবাবুকে প্রাণে মারার হুমকি দেওয়ায় স্থানীয় ওষুধ ব্যবসায়ী তন্ময় নস্করকে আটক করেছে পলিশ। আবার বিষ্ণুবাবুর বন্ধু সুভাষচন্দ্র দাসের বাড়িতে ইট মারার অভিযোগে রবি মণ্ডল নামে এক যুবকও গ্রেফতার হয়েছে। রয়েছে কড়া পুলিশি পাহারা। তা সত্ত্বেও এ দিন সন্ধ্যায় নিজের বড়িতে বসে ‘খুব ভয় হচ্ছে’ বলে মন্তব্য করেন বিষ্ণুবাবু।

কিন্তু কেন এই ভয়?

Advertisement

প্রথমে খোলসা করে কিছু বলতে না চাইলেও পরে বিষ্ণুবাবু বলেন, ‘‘যখন সিপিএম সংগঠন করতাম তখন মনে খুব জোর ছিল। সেই জোর নিয়েই ভাল কিছু করার জন্য কলেজ বানিয়েছি। পরে রাজনীতি ছেড়ে দিয়েছি। তবে এখনকার নেতাদের সঙ্গেও সম্পর্ক খারাপ নয়।’’ অভিযুক্ত ক্লাবের একসময়ের একনিষ্ঠ সদস্য কিছুটা ভেঙে পড়ে বলেন, ‘‘ক্লাবের এই জমির বিষয়ে না ঢুকলেই ভাল করতাম। যার জমি তিনি বুঝে নিতেন। সবাই যখন ক্লাবের পক্ষে তখন আমি একা জমির বিষয়ে মাথা গলিয়ে হিরো হতে গিয়েই ভুল করেছি। এখন সবাই আমার বিপক্ষে। তাই ভয় হচ্ছে।’’

এত বড় ঘটনার খবর পেয়ে তা থামানোর জন্য শাসকদলের স্থানীয় নেতারা কেন ব্যবস্থা নেননি সে বিষয়ে তৃণমূলের হাওড়া জেলা সভাপতি তথা মন্ত্রী অরূপ রায় এ দিন বলেন, ‘‘সংগঠনের গাফিলতি ছিল বলেই এটা হতে পেরেছে। তাঁরা এটাকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারেনি। দল সবই দেখছে, লক্ষ্য করছে। প্রয়োজনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’’ তবে স্থানীয় বিধায়ক তথা মন্ত্রী রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘‘উনি কেন এ কথা বলেছেন জানি না। এতে তো দলের বিষয় নেই। খবর পেয়েই পুলিশ প্রশাসন ব্যবস্থা নিয়েছে। তাই আইন-শৃঙ্খলার কাজে নাক গলাতে দলের কেউ গেলে অন্য বার্তা দিত।’’

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement
Advertisement