চকচকে: মঞ্চ থেকে দর্শকাসন— বদলে গিয়েছে সবই। নিজস্ব চিত্র
পাঁচ বছর বন্ধ থাকার পর অবশেষে আগামী বৃহস্পতিবার থেকে নতুন রূপে আত্মপ্রকাশ করতে চলেছে চুঁচুড়া রবীন্দ্রভবন। ফলে, খুশির জোয়ার শহরের সাংস্কৃতিক মহলে।
জেলা তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের আধিকারিক মন্দাক্রান্তা মহলানবীশ জানিয়েছেন, সোমবার রবীন্দ্রভবন উদ্বোধনের পরে ভাড়া নিয়ে জেলা প্রশাসনে বৈঠক হবে। তার পরেই অনুষ্ঠানের জন্য ভবনটি খুলে দেওয়া হবে। ওই দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রায় চার কোটি টাকা খরচ করে উন্নত মানের সাউন্ড সিস্টেম, আধুনিক আলোকসজ্জা, উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন বাতানুকূল ব্যবস্থা এবং নতুন দর্শকাসনের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
গঙ্গাতীরে প্রেক্ষাগৃহটি তৈরি হয়েছিল ১৯৮০ সালে। কিন্তু দীর্ঘদিন সার্বিক সংস্কার না-হওয়ায় বেহাল হয়ে পড়েছিল ভবনটি। চুঁচুড়া ছাড়াও বাঁশবেড়িয়া, বলাগড়, পান্ডুয়া, পোলবা বা ধনেখালি এলাকার সংস্কৃতিপ্রেমী মানুষ অনুষ্ঠান দেখতে এখানে আসতেন। বর্ষায় অনুষ্ঠানের সময়ে চালের ফুটো দিয়ে দর্শকদের গায়ে জল পড়ত। ভাঙা আসন থেকে পড়ে আহত হয়েছেন অনেক দর্শক। তা ছাড়া, আলো এবং পুরনো সাউন্ড সিস্টেম নিয়েও অসন্তুষ্ট ছিলেন শিল্পীরা। ভবনটির হাল ফেরানোর জন্য শহরের বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংস্থা এবং স্থানীয় বাসিন্দারা আন্দোলনে নেমেছিলেন। প্রশাসনেরও দ্বারস্থ হয়েছিলেন তাঁরা।
অবশেষে রাজ্য তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের উদ্যোগে সার্বিক সংস্কারের জন্য ২০১৩ সালের এপ্রিল মাস থেকে রবীন্দ্রভবনের দরজা বন্ধ হয়। কথা ছিল, বছর দুয়েকের মধ্যে কাজ সম্পূর্ণ করে ফের দর্শকদের জন্য ভবনটি খুলে দেওয়া হবে। কিন্তু সংস্কারের জন্য যে টাকা বরাদ্দ হয়েছিল তা সঙ্কুলান না-হওয়ায় মাঝপথে কাজ থমকে যায়। তাতে ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন অনেকে। কাজ চালুর দাবিতে ফের আন্দোলনও হয়। শেষমেশ সমস্যা কাটিয়ে রবীন্দ্রভবনের সংস্কারের কাজ ফের শুরু হয় গত বছর।
রবীন্দ্রভবন চালু হওয়ার কথা জানতে পেরে শহরের সংস্কৃতিপ্রেমী মানুষ খুশি। অনেকেই মনে করছেন, ফের শহরে নাটক, নাচ-গানের অনুষ্ঠান-সহ সংস্কৃতি চর্চায় জোয়ার আসবে।
চুঁচুড়ার একটি নৃত্য শিক্ষাকেন্দ্রের সম্পাদক সৌমিত্র সিংহ বলেন, ‘‘রবীন্দ্রভবন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আমাদের মতো অনেক সংস্থার সমস্যা হয়েছিল। এতদিনে সেই সমস্যা মিটল।’’ ‘অন্তরীপ’ নাট্যসংস্থার সদস্য রাজীব দে’র কথায়, ‘‘রবীন্দ্রভবন বন্ধ হয়ে যাওয়ার পরে আমরা অন্যত্র অনুষ্ঠান করেছি। কিন্তু ততটা সাড়া পাইনি। তাই গত দু’বছর বাইরে তেমন অনুষ্ঠান করিনি। রবীন্দ্রভবন চালু হলে নতুন ভাবে নাটক মঞ্চস্থ করার চিন্তাভাবনা করব।’’