মূর্তি তৈরির কাজ চলছে জোরকদমে। ছবি: দীপঙ্কর দে।
পুজোর জাঁক-জৌলুস বজায় থাকুক। থাকুক নানা বিষয় নিয়ে থিমপুজোর লড়াই। কিন্তু সবই যেন হয় দূষণমুক্ত পরিবেশের কথা মাথায় রেখে। চন্দননগরে জগদ্ধাত্রী পুজোর আর এক সপ্তাহও বাকি নেই। এরই মধ্যে পরিবেশ বান্ধব পুজোর প্রস্তাবকে সামনে রেখে মাঠে নেমে পড়েছেন এখানকার ১৪টি গণসংগঠন। পুরসভার মেয়রের কাছে এই মর্মে স্মারকিপিও জমা পড়েছে। শুধু পরিবেশ নিয়েই নয়, চারপাশে অস্থিরতা যে ভাবে বাড়ছে তাতে ইতিহাস প্রাচীন এই শহরে একটি সংহতি মিছিলের প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে ওই সংগঠনগুলির তরফে।
সংগঠনগুলির বক্তব্য, স্থানীয় পুলিশ ও প্রশাসনের সঙ্গে এলাকার সমস্ত অংশের মানুষকে নিয়ে স্থানীয় বিভিন্ন সংস্থার সদস্যরা যৌথভাবে একটি মিছিল করবে। ওই মিছিলে দলমত নির্বিশেষে শহরের সমস্ত মানুষ সামিল হবেন। মিছিল শহরের বিস্তীর্ণ অংশ পরিক্রমা করবে। মিছিলে উৎসবের দিনগুলিতে সাধারণ মানুষের কাছে নির্বিঘ্নে পুজোর আনন্দ উপভোগে সহায়তার জন্য আহ্বান জানানো হবে। পাশাপাশি পরিবেশ বান্ধব পুজো করতে উৎসাহিত করা হবে পুজো উদ্যোক্তাদের। মিছিলে থাকবে সেই সংক্রান্ত নানা পোষ্টার।
সম্প্রতি এ জন্য চন্দননগরের মেয়র রাম চক্রবর্তীর সঙ্গে এলাকার ১৪টি সংগঠনের প্রতিনিধিরা দেখা করেন। প্রতিনিধি দলের এক সদস্য জানান, এই বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের কর্তাদের সঙ্গে আলোচনার আশ্বাস দিয়েছেন মেয়র। প্রসঙ্গত, চন্দননগরের জগদ্ধাত্রী পুজোর দিনগুলিতে শুধু এ রাজ্যই নয়, ভারতের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ উৎসবে সামিল হতে হাজির হন। এই শহরে দুর্গাপুজোয় তেমন ধুমধাম না হলেও জগদ্ধাত্রী পুজোকে কেন্দ্র করে গোটা শহরের সমস্ত অংশের মানুষ মেতে ওঠেন। সেই উৎসবকেই নির্বিঘ্ন করেতই এ বার উদ্যোগী হয়েছেন সেখানকার বিভিন্ন গণসংগঠনের সদস্যরা। ওই সব সংগঠনের তরফে পরিবেশবিদ তথা শহরের বাসিন্দা বিশ্বজিৎ মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘‘যে কোনও উৎসবের পরিবেশটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। এ বার আমরা তাই পরিবেশ বান্ধব পুজোর জন্যই শহরের বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে এককাট্টা হতে চাইছি। এই উদ্যোগে স্থানীয় প্রশাসনকেও সামিল করতে চাইছি।’’
মহকুমা প্রশাসনের এক কর্তা জানান, তাঁরা এলাকার সংগঠনগুলির প্রস্তাবটি বিবেচনা করে দেখছেন। এই নিয়ে জেলা প্রশাসনের শীর্ষ কর্তাদের মতামতও নেওয়া হবে। তবে উদ্যোগটি প্রশংসনীয়।