মোমবাতির আলোয় স্নেহাশিস দাশগুপ্ত স্মরণ।
ফুটবলার স্নেহাশিস দাশগুপ্ত ওরফে রাজার মৃত্যু-মামলায় তাঁর পরিবারকে আইনি সাহায্যের আশ্বাস দিল ‘সেভ ডেমোক্রেসি’। প্রয়োজনে সিবিআই তদন্তের দাবি জানানো হবে বলে জানিয়েছে তারা।
শুক্রবার সকালে ওই সংগঠনের তরফে শ্রীরামপুরের তারাপুকুর গভর্নমেন্ট কলোনিতে রাজার বাড়িতে আসেন বিরোধী দলনেতা আব্দুল মান্নান। রাজার বাবা দোলনবাবু এবং মা রিঙ্কুদেবী তাঁর কাছে ক্ষোভে ফেটে পড়েন। দম্পতির অভিযোগ তৃণমূল নেতা পিন্টু নাগের নেতৃত্বেই গোটা ঘটনা ঘটে। দশমীর ভোরে ছেলের দেহ উদ্ধারের পর থেকে পিন্টুবাবুই তৎপর হয়ে দ্রুত ময়নাতদন্ত থেকে সৎকারের ব্যবস্থা করেন। পিন্টুবাবুকে ইতিমধ্যেই পুলিশ গ্রেফতার করেছে।
রিঙ্কুদেবী বলেন, ‘‘ওদের ক্ষমতা প্রদর্শনের জন্যই ছেলেকে মরতে হল।’’ দোলনবাবু বলেন, ‘‘অনেকেই আমার ছেলেকে মারধর করেছে। সবাইকেই গ্রেফতার করা হোক।’’ ওই কংগ্রেস নেতা রাজার বাবা-মাকে জানান, ‘সেভ ডেমোক্রেসি’র তরফে তাঁদের আইনি সাহায্য দেওয়া হবে। কাল, রবিবার আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য তাঁদের বাড়িতে আসতে পারেন। আদালতে আইনি লড়াইয়ের পাশাপাশি রাস্তায় আন্দোলন করা হবে।
ওই বাড়ি থেকে বেরিয়ে বর্ষীয়ান নেতার তোপ, রিজওয়ানুর-কাণ্ডে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ-আন্দোলন গড়ে তুলেছিলেন। সন্দেহজনক আইপিএস অফিসারদের পর্যন্ত শাস্তির ব্যবস্থা হয়েছিল। আর এ ক্ষেত্রে মূল অভিযুক্ত শাসকদলের লোক হওয়ায় সরকার তাঁকে আড়াল করতে চাইছে। এ ক্ষেত্রে মুখ্যমন্ত্রী কেন রাজার বাড়িতে আসবেন না, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি। তাঁর আরও অভিযোগ, ‘‘এই ঘটনায় যিনি প্রধান অভিযুক্ত, শাসকদলের সেই নেতার উদ্যোগে গোপনে দেহের ময়নাতদন্ত করা হয়। দেহ পুড়িয়ে দেওয়া হয়। পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করলেও শাসকদলের লোক বলেই নিজেদের হেফাজতে চায়নি। সরকার অপরাধীকে আড়াল করতে চাইছে।’’ প্রয়োজনে তাঁরা সিবিআই তদন্তের দাবি জানাবেন বলেও আশ্বাস দেন তিনি।
পুলিশের বক্তব্য, ইতিমধ্যেই পিন্টুবাবু-সহ চার জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তিন জনকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। যথাযথ তদন্ত করেই ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। গত ৩০ সেপ্টেম্বর, দশমীর ভোরে শ্রীরামপুর মাল গুদামের কাছে রেললাইন থেকে রাজার দ্বিখণ্ডিত দেহ মেলে। পরে খুনের অভিযোগ দায়ের হয়।