পুকুর ভরাট, আদালতে বাসিন্দারা

প্রশাসনের নাকের ডগায় উত্তরপাড়ার বি কে স্ট্রিটে একটি পুকুর বোজানো হচ্ছে দীর্ঘদিন ধরে। অথচ, আবাসন নির্মাণের জন্য ওই প্রচেষ্টা রুখতে পুরসভার তরফে কোনও হেলদোল নেই বলে অভিযোগ স্থানীয় বাসিন্দাদের। কয়েকটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার সঙ্গে মিলিত ভাবে তাঁরা পুকুরটি বাঁচাতে দীর্ঘদিন ধরেই মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছেন। পুকুর বাঁচানোর জন্য পুরসভার কোনও উদ্যোগ না দেখে স্থানীয় লোকজন সম্প্রতি কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন। জনস্বার্থে মামলাও করা হয়েছে।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৫ নভেম্বর ২০১৪ ০১:০৭
Share:

আংশিক বুজিয়ে ফেলা হয়েছে উত্তরপাড়ার একটি পুকুর। —নিজস্ব চিত্র।

প্রশাসনের নাকের ডগায় উত্তরপাড়ার বি কে স্ট্রিটে একটি পুকুর বোজানো হচ্ছে দীর্ঘদিন ধরে। অথচ, আবাসন নির্মাণের জন্য ওই প্রচেষ্টা রুখতে পুরসভার তরফে কোনও হেলদোল নেই বলে অভিযোগ স্থানীয় বাসিন্দাদের। কয়েকটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার সঙ্গে মিলিত ভাবে তাঁরা পুকুরটি বাঁচাতে দীর্ঘদিন ধরেই মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছেন।

Advertisement

পুকুর বাঁচানোর জন্য পুরসভার কোনও উদ্যোগ না দেখে স্থানীয় লোকজন সম্প্রতি কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন। জনস্বার্থে মামলাও করা হয়েছে। কলকাতা হাইকোর্ট জেলা মৎস্য দফতরের সহ-অধিকর্তা পার্থসারথি কুণ্ডুকে বিষয়টি তদন্ত করে দেখার জন্য নির্দেশ দিয়েছে। সেই নির্দেশের পরে পুকুর ভরাট বন্ধ হলেও ফের সেই কাজ শুরু হতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে স্থানীয় বাসিন্দাদের।

কয়েক কাঠা জুড়ে ওই পুকুরটি এক সময়ে যথেষ্ট গভীর ছিল। রীতিমতো মাছ চাষ হত। পর্যায়ক্রমে মাটি ফেলে পুকুরটি বুজিয়ে দেওয়া হচ্ছিল কয়েক মাস ধরে। উত্তরপাড়া এবং সংলগ্ন এলাকায় পরিবেশ সচেতনতা নিয়ে দীর্ঘদিন কাজ করে চলেছে ‘গণউদ্যোগ’ নামে একটি সংস্থা। সংস্থার কার্যকরী সম্পাদক শশাঙ্ক কর বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী পরিবেশ রক্ষার জন্য ‘জল ধরো, জল ভর’-সহ নানা প্রকল্প করছেন। অথচ, তাঁর দল পুরসভায় থেকেও পুকুর বোজানোর বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপ করছে না। এই ধরনের অপরাধের ক্ষেত্রে যুক্ত লোকজনকে জামিন অযোগ্য ধারায় গ্রেফতার করার কথা। কিন্তু তা হচ্ছে কই?” পুকুরটি রক্ষার কাজে দীর্ঘদিন ধরেই চেষ্টা চালাচ্ছেন ভদ্রকালীর বাসিন্দা কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, “উত্তরপাড়া, ভদ্রকালী এলাকায় বহু পুকুর ইতিমধ্যেই বুজে গিয়েছে। ফলে এলাকায় পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। এখন এমন পরিস্থিতি যে কোনও অগ্নিকাণ্ডে জল নেওয়ার পুকুর আর অবশিষ্ট নেই এলাকায়।” এলাকারই দীপক ভট্টাচার্য বলেন, “আমরা চাই বি কে স্ট্রিটের পুকুরটি পূর্বাবস্থায় ফিরিয়ে দেওয়া হোক এলাকার মানুষের স্বার্থে। তার জন্য আমরা প্রশাসন এবং আদালতের কাছে আবেদন করেছি।” স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, “পুরসভার তরফে কলকাতা হাইকোর্টকে চিফ ইঞ্জিনিয়ার তাঁর রিপোর্টে জানান, জমিটি জলাজমি। সেই জন্য সেখানে নির্মাণ সম্ভব নয়। অথচ, ওই জমির সাইট প্ল্যান অনুমোদন করে প্রোমোটারকে পুকুর বোজানোর রাস্তা করে দেওয়া হল।”

Advertisement

সম্প্রতি মৎস্য দফতরের পদস্থ কর্তারা পুলিশের উপস্থিতিতে উত্তরপাড়ার ওই পুকুরটি পরিদর্শন করেন। স্থানীয় দু’টি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার প্রতিনিধিরাও সেখানে ছিলেন। তাঁরা অভিযোগ তোলেন, প্রশাসন ও পুরসভার মদতে অবৈধ ভাবে পুকুরটি বোঝানো হচ্ছে। সেই কাজে যে প্রোমোটাররা জড়িত তাঁদের একজন বৈদ্যবাটির বাসিন্দা। শেওড়াফুলির এক রাজ্য স্তরের কংগ্রেস নেতার ঘনিষ্ঠ।

এ নিয়ে উত্তরপাড়ার পুর কর্তৃপক্ষ এবং প্রশাসনের কর্তারা কেউই সে ভাবে মন্তব্য করতে চাননি। তাঁরা জানান, বিষয়টি এখন আদালতের বিবেচ্য। সংশ্লিষ্ট দফতর তদন্তও করছে। তাই তাঁরা কোনও মন্তব্য করবেন না। জেলা মৎস্য দফতরের অতিরিক্ত ডিরেক্টর পার্থসারথি কুণ্ডু বলেন, “উত্তরপাড়ার ওই জায়গাটি আমরা দেখেছি। সব পক্ষের বক্তব্য শুনেছি। কাগজপত্র পরীক্ষা করে তদন্তের কাজ চলছে। পুরো বিষয়টিই আমরা আদালতকে যথা সময়ে জানাব।”

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement