চারপাশ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছে লোকজন। তার মধ্যেই মারামারি করছেন এক প্রৌঢ় ও এক যুবক। পথ চলতি অনেকেই দাঁড়িয়ে পড়েছিলেন কারণ জানতে। মারামারির মধ্যে হঠাৎই একজন পকেট থেকে কাঁচি বের করে প্রতিপক্ষকে লক্ষ্য করে চালিয়ে দিলেন। আঘাতে চিৎকার করে উঠলেও কাঁচি কেড়ে পাল্টা প্রতিপক্ষকে আঘাত করলেন অন্যজন। রাস্তার মধ্যে এমন কাণ্ড দেখে হকচকিয়ে গিয়েছিলেন পথচারীরা। খবর পেয়ে চলে আসে পুলিশ। জানা যায়, পারিবারিক বিবাদকে কেন্দ্র করে এতক্ষণ শ্বশুর আর জামাইয়ের মধ্যেই চলছিল লড়াই। বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা নাগাদ সাঁকরাইলের আন্দুল এইচসি হাইস্কুলের সামনে এই ঘটনায় রক্তাক্ত অবস্থায় শ্বশুর আর জামাইকে নিয়ে যাওয়া হয় একটি নার্সিংহোমে। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পরে শ্বশুরকে ছেড়ে দেওয়া হলেও অবস্থা গুরুতর হওয়ায় জামাইকে হাওড়া জেলা হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, পেশায় হালুইকর চন্দন দাসের বাড়ি সাঁকরাইলের আন্দুল রাজ মাঠ সংলগ্ন এলাকায়। তাঁর দু’টি বিয়ে। মাস কয়েক ধরেই দ্বিতীয় পক্ষের স্ত্রী তারা দাসের সঙ্গে চন্দনবাবুর অশান্তি চলছিল। তারাদেবী আলমপুরের গেঞ্জি কারখানায় কাজ করেন। চন্দনবাবুর বিরুদ্ধে মদ্যপান করে মারধরের অভিযোগ করে তিনি ঝোড়হাটে বাপের বাড়িতে থাকছিলেন। দিন কয়েক আগে সাঁকরাইল থানায় গিয়ে তারাদেবী চন্দনবাবুর বিরুদ্ধে মারধরের লিখিত অভিযোগও করেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, এ দিন সকালে আন্দুল বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন সিদ্ধেশ্বরীতলার একটি মন্দিরের পাশ দিয়ে আলমপুরের কারখানায় যাচ্ছিলেন তারাদেবী। ওই রাস্তা দিয়েই যাচ্ছিলেন চন্দনবাবুও। স্ত্রীকে দেখেই তাঁকে শ্বশুরবাড়িতে ফিরে আসতে বলেন। তারাদেবী রাজি হননি। স্ত্রীর সঙ্গে বচসা শুরু হয় চন্দনবাবুর। খবর পেয়ে সেখানে চলে আসেন তারাদেবীর মা লক্ষ্মী লোহার ও বাবা কৃষ্ণ লোহার। তাঁদের সঙ্গে বাদানুবাদের সময় হঠাৎই নিজের পকেট থেকে কাঁচি বের করে শ্বশুরকে আঘাত করেন চন্দন। শাশুড়িকেও মারধর করেন বলে অভিযোগ। তার পর সেই কাঁচি নিজের শরীরেই চালিয়ে দেন তিনি। চন্দনবাবুর থেকে কাঁচি কেড়ে নিয়ে পাল্টা আঘাত করেন কৃষ্ণবাবুও।
লক্ষ্মীদেবী বলেন, ‘‘জামাই আমার মেয়েকে মারধর করত। আমরা মিলেমিশে থাকতে বললেও শোনেনি। তার পরই আজকের ঘটনা।’’ যদিও কোনও পক্ষই অভিযোগ দায়ের করেনি বলে পুলিশ জানিয়েছে।