দিন কয়েক আগেই কালীঘাটে দলের নেতাদের ডেকে তৃণমূল নেত্রী বুঝিয়ে দিয়েছেন, গোষ্ঠী কোন্দল বরদাস্ত করা হবে না। ‘অনৈতিক’ কাজকর্ম নিয়েও নেতাদের সাবধান করে দেন তিনি। তারকেশ্বরের পুরসভার চেয়ারম্যান এবং ভাইস-চেয়ারম্যানের দ্বন্দ্ব নিয়ে উষ্মা প্রকাশ করেন তিনি। তাতে যে ফল হয়নি, তা স্পষ্ট হল তারকেশ্বর ডিগ্রি কলেজের পরিচালন সমিতির সভাপতি মনোনয়ন কেন্দ্র করে।
গত দু’বার ওই পদে ছিলেন পুরপ্রধান স্বপন সামন্ত। এ বার তাঁর পরিবর্তে এলেন উপ-পুরপ্রধান উত্তম কুণ্ডু। তা নিয়ে অবশ্য নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। নিয়ম মেনে উত্তমবাবুকে ওই পদে বসানো হয়েছে কি না, তা নিয়ে তৃণমূলে শোরগোল পড়েছে। যদিও বুধবার কলেজ থেকে বেরনোর সময় উত্তমবাবু দাবি করেন, ‘‘সর্বসম্মতিক্রমেই আমি মনোনীত হয়েছি। চেয়ারম্যানও সায় দিয়েছেন।’’ স্বপনবাবুর মন্তব্য, ‘‘আমি কিছু বলব না। যা জিজ্ঞাসা করার দলকে করুন।’’
প্রশাসন সূত্রে খবর, কলেজে সাহায্য করেছেন এমন কিছু প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তি সেখানকার দাতা-সদস্য। পুরসভা এর অন্যতম। স্বপনবাবু দু’বারে ৬ বছর ওই দায়িত্ব সামলেছেন। এ বার ‘তারকেশ্বর মিউনিসিপ্যাল এমপ্লয়িজ অ্যাসোসিয়েশন’ নামে পুরকর্মীদের একটি সংগঠনের তরফে পরিচালন সমিতির সদস্য হিসেবে উত্তমবাবুর নাম পাঠানো হয়।
সংগঠনটি আদৌ দাতা-সদস্য কি না, তা নিয়েই প্রশ্ন রয়েছে। কলেজ কর্তৃপক্ষ অবশ্য ওই সংগঠনের পক্ষ থেকে উত্তমবাবুকে ভোটাধিকার দেন। বুধবার ছিল নির্বাচন। বিষয়টি তৃণমূলের জেলা এবং রাজ্য নেতৃত্বের কানেও পৌছয়। পরিস্থিতির হেরফের হয়নি। সভাপতি পদ নিয়ে স্বপনবাবু ও উত্তমবাবুর মধ্যে ভোটাভুটি করার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়। ভোটদাতা হিসেবে ১২ জনের তালিকা প্রকাশ করেন কলেজ কর্তৃপক্ষ। এ দিন ১১ জন উপস্থিত ছিলেন। আলোচনার মাধ্যমেই সভাপতির নাম ঠিক করার সিদ্ধান্ত হয়। সরকারি প্রতিনিধি তথা তারকেশ্বর পুরসভার তৃণমূল কাউন্সিলর মহম্মদ নইম ওই পদের জন্য উত্তমবাবুর নাম প্রস্তাব করেন। অধ্যক্ষ অমলকান্তি হাঁটি বলেন, ‘‘আলোচনায় উত্তমবাবুর নাম ঠিক হয়। যা হয়েছে নিয়ম মেনেই হয়েছে।’’
বিষয়টি নিয়ে তৃণমূলের অন্দরে জলঘোলা হচ্ছে। এক ব্লক তৃণমূল নেতা এ দিন বলেন, ‘‘উপপ্রধান কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে যা খুশি তাই করছেন।’’