প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ দাবি

বেআইনি ছোট গাড়ির প্রতিবাদে বন্ধ ট্রেকার, হয়রানি যাত্রীদের

ট্রেকার ছাড়া বিকল্প কোনও যান নেই। অথচ সেটাও বন্ধ রয়েছে প্রায় একমাস। ফলে বিপাকে পড়েছেন সাধারণ মানুষ এবং কয়েক হাজার নিত্যযাত্রী। চিত্রটি হাওড়ার বাগনান-নারিট রুটের। স্থানীয় সূত্রে খবর, এই রুটে ছোট গাড়ি চালানো নিয়ে স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের সঙ্গে বিবাদ বেধেছে ট্রেকার চালকদের। তার জেরেই গাড়ি বন্ধ করেছেন ট্রেকার মালিকেরা।

Advertisement

নুরুল আবসার

শেষ আপডেট: ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৫ ০১:২৪
Share:

ট্রেকার ছাড়া বিকল্প কোনও যান নেই। অথচ সেটাও বন্ধ রয়েছে প্রায় একমাস। ফলে বিপাকে পড়েছেন সাধারণ মানুষ এবং কয়েক হাজার নিত্যযাত্রী। চিত্রটি হাওড়ার বাগনান-নারিট রুটের। স্থানীয় সূত্রে খবর, এই রুটে ছোট গাড়ি চালানো নিয়ে স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের সঙ্গে বিবাদ বেধেছে ট্রেকার চালকদের। তার জেরেই গাড়ি বন্ধ করেছেন ট্রেকার মালিকেরা।

Advertisement

বাগনান-নারিট রুটে হাজার পাঁচেক মানুষ যাতায়াত করেন। এঁদের বেশিরভাগই আমতা ২ ব্লকের তাজপুর, কুশবেড়িয়া এবং গাজিপুরের বাসিন্দা। এক সময়ে এই রুটে বাস চলত। কিন্তু খারাপ রাস্তার জন্য তা বন্ধ হয়ে .যায়। ফলে নিত্যযাত্রীদের সম্বল ট্রেকার। ট্রেকারে বাগনানে এসে ট্রেন বা বাস ধরে কলকাতায় যাতায়াত করেন।

১৯৯৭ সাল থেকে বাগনান-নারিট রুটে ট্রেকার চলাচল করে। যদিও প্রয়োজনের তুলনায় ট্রেকার কম চলে বলে নিত্যযাত্রীদের অভিযোগ। মাসখানেক আগে এই রুটে কিছু ছোট গাড়ি নামাতে উদ্যোগী হয় তাজপুর এলাকার কিছু যুবক। ঝামেলার শুরু তখন থেকেই। ট্রেকার চালকদের অভিযোগ, যে ছোট গাড়িগুলি ওই রুটে নামানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে সেগুলির কোনও রুট পারমিট নেই। জোর করে সেগুলি চালানোর চেষ্টা করছেন গাড়ির মালিকেরা। তাঁদের মদত দিচ্ছেন ওই এলাকা থেকে নির্বাচিত জেলা পরিষদের খাদ্য কর্মাধ্যক্ষ হামিদা বেগম খানের স্বামী তথা স্থানীয় তৃণমূল নেতা গোলাম খান। তাঁদের আরও অভিযোগ, ছোট গাড়িগুলির সুবিধার জন্য গোলাম ট্রেকার তুলে দিতে চাইছেন। এ নিয়ে গোলামের সঙ্গে বিবাদ বাধে ট্রেকার চালকদের। তারপরেই গোলামেরই হুমকিতে ট্রেকার চলাচল বন্ধ হয়ে গিয়েছে।

Advertisement

গোলামের বক্তব্য, ‘‘এই রুটে যাত্রীর যা চাপ রয়েছে, তাতে গুটিকয় ট্রেকার চালিয়ে সমস্যার সমাধান হবে না। তা ছাড়া ট্রেকারগুলি নিজেদের খেয়ালখুশি মতো চলায় যাত্রীদেরও অসুবিধা হচ্ছে অভিযোগ এসেছে। তাই আমরা বিভিন্ন মহলের সঙ্গে কথা বলে ছোট গাড়ি নামিয়েছি। তবে ট্রেকার বন্ধ করে ছোট গাড়ি চলুক তা আমরা চাই না। ট্রেকারের পাশপাশি ছোট গাড়ি চললে যাত্রীরা অনেক বেশি পরিষেবা পাবেন বলেই আমরা মনে করি।’’ একই সঙ্গে তাঁর দাবি, ট্রেকার মালিকদের সঙ্গে আলোচনা করেই ছোট গাড়ি কয়েকদিনের জন্য রুটে নামানো হয়েছিল। তাঁর পাল্টা অভিযোগ, ‘‘কিছু মানুষের সঙ্গে হাত মিলিয়ে ট্রেকার চালকেরা ছোট গাড়ি চলাচল বন্ধ করে দেন। পরে নিজেরাই আতঙ্কিত হয়ে ট্রেকার চালানো বন্ধ করেছেন।’’

কিন্তু প্রশ্ন উঠেছে, ছোট গাড়িগুলির লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও সেগুলি চালানো হবে কী ভাবে ?

গোলামের যুক্তি, ‘‘দু’একটি ছাড়া অধিকাংশ ট্রেকারের লাইসেন্স নেই। সেগুলি চলছিল কী ভাবে?’’ ট্রেকার মালিকদের তরফে দুলাল মিত্র বলেন, ‘‘আমাদের রুটটি ট্রেকার চলার জন্য অনুমোদিত। অধিকাংশ ট্রেকারের বৈধ রুট পারমিট রয়েছে।’’ তিনি জানান, বেআইনি ছোট গাড়ি যাতে এই রুটে না চলতে পারে সেই আর্জি জানিয়ে এবং ট্রেকার চালু করার জন্য অবিলম্বে প্রশাসনিক সহায়তা চেয়ে তাঁরা হাওড়া জেলা পরিবহণ দফতরে চিঠি লিখেছেন। জেলা আঞ্চলিক পরিবহণ দফতরের সহ-সভাপতি তথা জেলা পরিষদের সহকারি সভাধিপতি অজয় ভট্টাচার্য অবশ্য জানান, এ ধরনের কোনও আবেদন তাঁদের কাছে এখনও আসেনি। তবে তাঁর আশ্বাস, ‘‘আবেদনপত্র হাতে পেলে সংশ্লিষ্ট সব মহলকে ডেকে আলোচনা করে বিষয়টির মীমাংসা করা হবে।’’

এদিকে ট্রেকার বন্ধ থাকায় নিত্যযাত্রীদের এখন বাগনান থেকে অটোরিকশায় চড়ে আসতে হচ্ছে বাইনানে। সেখান থেকে ভ্যানোয় চড়ে আসতে হচ্ছে নারিটে। একইভাবে বাগনানেও আসছেন তাঁরা। বরুণ দাস নামে এক যাত্রী বলেন, ‘‘এ ভাবে যাতায়েত আমাদের অনেক বেশি খরচ হচ্ছে। সেই সঙ্গে হয়রানিরও শিকার হচ্ছি আমরা। অবিলম্বে প্রশাসন এ ব্যাপারে হস্তেক্ষপ করুক।’’

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement