ময়লাপুকুর-রানিহাটি

বাস চালু করতে প্রশাসনিক উদাসীনতার অভিযোগ

বছর পাঁচেক আগে পর্যন্ত রমরমিয়ে বাস পরিষেবা চালু ছিল। কিন্তু ১৫ বছরের বেশি বয়স হয়ে যাওয়া বাস চালানো যাবে না, কলকাতা হাইকোর্টের এই নির্দেশের প্রেক্ষিতে বাস চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। সেই থেকে আর পরিস্থিতির কোনও পরিবর্তন না হওয়ায় দিনের পর দিন চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে এলাকার নিত্য যাত্রী থেকে শুরু করে স্কুল-কলেজের ছাত্রছাত্রীদের। সমস্যাটি হাওড়ার বাউড়িয়ার ময়লাপুকুর-রানিহাটি ৬১বি রুটের।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৫ নভেম্বর ২০১৫ ০২:৫৪
Share:

বাস নেই, ভরসা ভ্যানো।—নিজস্ব চিত্র।

বছর পাঁচেক আগে পর্যন্ত রমরমিয়ে বাস পরিষেবা চালু ছিল। কিন্তু ১৫ বছরের বেশি বয়স হয়ে যাওয়া বাস চালানো যাবে না, কলকাতা হাইকোর্টের এই নির্দেশের প্রেক্ষিতে বাস চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। সেই থেকে আর পরিস্থিতির কোনও পরিবর্তন না হওয়ায় দিনের পর দিন চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে এলাকার নিত্য যাত্রী থেকে শুরু করে স্কুল-কলেজের ছাত্রছাত্রীদের। সমস্যাটি হাওড়ার বাউড়িয়ার ময়লাপুকুর-রানিহাটি ৬১বি রুটের।

Advertisement

জেলা প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, কয়েক দশক ধরে ওই রুটে বাস চালু রয়েছে। ৯ থেকে ১০টি বাস চলাচল করত। বাস যখন চলত সেই সময় এলাকার লোকেদের যাতায়াতের ক্ষেত্রে অনেক সুবিধা হতো। সহজে ও কম খরচে তাঁরা দ্রুত গন্তব্যস্থলে পৌঁছে যেতে পারতেন। কিন্তু হাইকোর্টের নির্দেশের পরে ওই রুটে বাস বন্ধ হয়ে যায়। পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে জায়গা দখল করেছে অটো। কিন্তু তাতে সমস্যা কিছুটা মিটলেও বার বার অটো বদলের জেরে গন্তব্যে পৌঁছতে অনেকে বেশি খরচ হচ্ছে বলে যাত্রীদের অভিযোগ।

রানিহাটি যাওয়ার ক্ষেত্রে যাত্রীদের বাউড়িয়া ময়লাপুকুর থেকে অটোয় আসতে হচ্ছে বাউড়িয়া স্টেশনে। সেখান থেকে ফের অটো চেপে আসতে হচ্ছে পাঁচলা মোড়। সেখান থকে অটো বা বাস ধরে রানিহাটি পৌঁছতে হচ্ছে। এতে যাতায়াতে খরচ হচ্ছে বেশি। তা ছাড়া ছোট গাড়িতে যাতাযাতের ঝুঁকিও থাকে যাচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বাস চালু থাকলে শুধু বাউড়িয়া এলাকার লোকেদের সুবিধা হতো তা নয়, গঙ্গার অপর পাড়ে দক্ষিণ ২৪ পরগনার বজবজ-সহ কয়েকটি এলাকার মানুষজনও রানিহাটি এলাকার কলকারখানায় কাজে আসতে পারতেন। পাশপাশি রানিহাটি এলাকার লোকজনও বাউড়িয়ার বিভিন্ন মিলে ও বজবজ এলাকায় কর্মসূত্রে যাতায়াত করতে পারতেন। এ ছাড়া বাউড়িয়ার প্রচুর ছাত্রছাত্রী বুড়িখালি হাইস্কুল, বাসুদেবপুর হাইস্কুল, বেলকুলাই হাইস্কুলে পড়তে আসে। বহু ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজেও পড়তে যান ছাত্রছাত্রীরা। কিন্তু বাস চলাচল বন্ধ থাকায় প্রত্যেককেই দুর্ভোগ পোহানোর সঙ্গে সঙ্গে অনেক বেশি খরচ করে যাতায়াত করতে হচ্ছে।

Advertisement

সাধারণ ও নিত্যযাত্রীরা জেলা প্রশাসনকে দায়ী করেছেন। তাঁদের অভিযোগ, হাইকোর্টের নির্দেশে পুরনো বাস বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর এলাকার পরিবহণ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখতে স্থানীয় প্রশাসন নতুন বাস নামাতে উদ্যোগী হয়নি বলেই সমস্যা মিটছে না। তাদের ভূমিকা সদর্থক হলে সমস্যার সমাধান হয়ে যেত।

জেলার পরিবহণ দফতরের এক কর্তা জানান, এই রুটে বাস বন্ধ থাকার বিষয়টি জানা নেই। খোঁজ নিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন। ওই রুটের বাসমালিকদের অবশ্য বক্তব্য, তাঁরা নতুন বাস চালাতে উদ্যোগী। কিন্তু পরিবহণ দফতরে গিয়ে কোনও সাড়া মেলেনি। স্থানীয় বিধায়ক তথা রাজ্যের কারামন্ত্রী হায়দার আজিজ সফি সমস্যা মেটানোর আশ্বাস দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘‘যে সব বাস মালিক ওই রুটে বাস চালাতে ইচ্ছুক তাঁরা আমার সঙ্গে যোগাযোগ করুন। আমি তাঁদের পূর্ণ সহযোগিতা করব।’’

জেলা পরিবহণ দফতর, মন্ত্রীর আশ্বাস যাই-ই হোক, স্থানীয় মানুষের দাবি, অবিলম্বে ওই রুটে বাস চলাচল শুরু হোক। বাউড়িয়ার বাসিন্দা পেশায় শিক্ষক তুষারকান্তি মণ্ডল বলেন, ‘‘সাধারণ মানুষের স্বার্থে প্রশাসন ও বাসমালিকদের এগিয়ে আসা উচিত। দু’পক্ষ আলোচনা করে সমস্যা সমাধানের পথ বের করুক।’’

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement
Advertisement