হাল ফিরবে কোন পথে, ফাঁপরে মিলটন

কথা ছিল হাওড়া জেলায় দুগ্ধ সমবায় তৈরি হলে তাদের সংগৃহীত দুধ প্রক্রিয়াকরণে নিজস্ব সংস্থার প্রয়োজন হবে। সেই প্রয়োজন মেটানো হবে সালকিয়ার রোজ মেরি লেনে অবস্থিত মিলটন ডেয়ারি প্ল্যান্টটির মাধ্যমে। কিন্তু ২০০৭ সালে জেলা দুগ্ধ সমবায় তৈরি হওয়ার পরেও ভাগ্য ফেরেনি মিলটনের। কারণ, জেলা দুগ্ধ সমবায় শ্যামপুর এবং আমতায় দু’টি নিজস্ব দুগ্ধ শীতলীকরণ (চিলিং প্ল্যান্ট) প্রকল্প গড়েছে।

Advertisement

নুরুল আবসার

শেষ আপডেট: ২৮ অগস্ট ২০১৫ ০২:৩০
Share:

কথা ছিল হাওড়া জেলায় দুগ্ধ সমবায় তৈরি হলে তাদের সংগৃহীত দুধ প্রক্রিয়াকরণে নিজস্ব সংস্থার প্রয়োজন হবে। সেই প্রয়োজন মেটানো হবে সালকিয়ার রোজ মেরি লেনে অবস্থিত মিলটন ডেয়ারি প্ল্যান্টটির মাধ্যমে। কিন্তু ২০০৭ সালে জেলা দুগ্ধ সমবায় তৈরি হওয়ার পরেও ভাগ্য ফেরেনি মিলটনের। কারণ, জেলা দুগ্ধ সমবায় শ্যামপুর এবং আমতায় দু’টি নিজস্ব দুগ্ধ শীতলীকরণ (চিলিং প্ল্যান্ট) প্রকল্প গড়েছে। এই অবস্থায় মাদার ডেয়ারি থেকে শুধুমাত্র দুধ প্যাকেজিং-এর বরাত নিয়েই টিকে রয়েছে মিলটন। লাভ তো দূরের কথা, মাসে অন্তত ১৫ লক্ষ টাকা লোকসান হচ্ছে সংস্থার।

Advertisement

রাজ্য ডেয়ারি অ্যান্ড পোলট্রি ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশন বা ‘ডেয়ারপোল’-এর অধীন ‘মিলটন’ তৈরি হয় নয়ের দশকের মাঝামাঝি। কিন্তু কয়েক মাস চলার পরে এটি বন্ধ হয়ে যায়। কয়েক বছর পরে, ২০০০ সালের গোড়ায় মিলটনের বেসরকারীকরণের পরিকল্পনা করে রাজ্য প্রাণিম্পদ বিকাশ দফতর। এতে আপত্তি করে জেলা পরিষদ। তাদের যুক্তি ছিল, খুব শীঘ্র জেলায় দুগ্ধ সমবায় তৈরি হবে। রাজ্যের প্রতিটি জেলা দুগ্ধ সমবায়ের নিজস্ব দুগ্ধ প্রক্রিয়াকরণ এবং শীতলীকরণ প্ল্যান্ট আছে। হাওড়ায় দুগ্ধ সমবায় তৈরি হলে তাদেরও নিজস্ব শীতলীকরণ প্ল্যান্ট লাগবে। তখন মিলটনকে কাজে লাগানো যাবে। শুধু তাই নয়, ২০০১ সালে জেলা পরিষদ এই সংস্থার আধুনিকীকরণে নিজস্ব তহবিল থেকে প্রায় ১০ লক্ষ টাকা খরচও করে। এরপরে ডেয়ারপোল চুক্তি করে মাদার ডেয়ারির সঙ্গে। তার ভিত্তিতে মাদার ডেয়ারি এখান থেকে দুধ প্যাকেজিং শুরু করে। এর জন্য তারাও মিলটনের আধুনিকীকরণে বেশ কিছু টাকা খরচ করে। যদিও তা ঋণ হিসাবে দেওয়া হয়েছিল সংস্থাকে। প্রথম কয়েক বছর লাভ করতে না পারলেও ২০০৬ সাল থেকে ঘুরে দাঁড়ায় সংস্থা। এক সময় দৈনিক ৩৭ হাজার লিটার দুধ এখানে প্যাকেজিং হত। নতুন যন্ত্রপাতি বসানোয় প্যাকেজিংয়ের ক্ষমতা দাঁড়ায় দৈনিক ৫০ হাজার লিটার। কিন্তু ক্ষমতা বাড়লেও সেই পরিমাণ বরাত মিলটন মাদার ডেয়ারির কাছ থেকে কোনওদিনও পায়নি বলে ডেয়ারপোল সূত্রে খবর। উল্টে ধীরে ধীরে বরাত কমায় ফের লোকসানে পড়ে মিলটন। যা এখন ছুঁয়েছে মাসে ১৫ লক্ষ টাকায়।

কী ভাবে সংস্থার লোকসান ঠেকানো যায়, সে ব্যাপারে ২০১০ সালে প্রাইস ওয়াটার হাউস কুপার্স-কে দিয়ে সমীক্ষা করায় প্রাণিম্পদ বিকাশ দফতর। সমীক্ষায় জানা যায়, জেলা দুগ্ধ সমবায় যদি এখানে দুধ পাঠায় তাহলে দুগ্ধ প্রক্রিয়াকরণ ইউনিট পুরোমাত্রায় চালু করা যাবে। সেই সঙ্গে মাদার ডেয়ারি-সহ অন্য সংস্থা থেকে দিনে অন্তত ৫০ হাজার লিটার দুধ প্যাকেজিংয়ের জন্য পাঠানো হলে সংস্থা লাভজনক অবস্থায় পৌঁছতে পারবে। যদিও সেই মতামত শেষ পর্যন্ত গৃহীত হয়নি।

Advertisement

জেলা পরিষদ সূত্রে খবর, বর্তমানে জেলা দুগ্ধ সমবায়ের মাধ্যমে প্রতিদিন প্রায় ৩ হাজার লিটার দুধ সংগ্রহ করা হচ্ছে। সেই দুধ শীতলীকরণ করা হচ্ছে শ্যামপুর এবং আমতায় সমবায়ের নিজস্ব দু’টি শীতলীকরণ কেন্দ্রে। জেলা দুগ্ধ সমবায়ের এক কর্তা জানান, মিলটনকে নিয়ে তাঁদের কোনও আগ্রহ নেই। অন্যদিকে মাদার ডেয়ারিও প্যাকেজিংয়ের বরাত বাড়াতে রাজি নয়। ডেয়ারপোলের চেয়ারম্যান তথা জগৎবল্লভপুরের তৃণমূল বিধায়ক আবুল কাশেম মোল্লা বলেন, ‘‘আমরা মাদার ডেয়ারিকে বরাত বাড়াতে বলেছি। কিন্তু তারা উত্তর দেয়নি।’’ মাদার ডেয়ারি সূত্রে খবর, মিলটনকে বেশি বরাত দিলে তাদের নিজস্ব প্যাকেজিং ইউনিটের কাজ কমে যেতে পারে। তাই মিলটনকে বেশি প্যাকেজিংয়ের বরাত দেওয়া যাচ্ছে না।

এই পরিস্থিতিতে সংস্থার পুনরুজ্জীবনে রাজ্য প্রাণিসম্পদ বিকাশ দফতরের কাছেই দাবি জানিয়েছেন মিলটনের কর্মীরা।

Advertisement

আবুল কাশেম মোল্লা বলেন, ‘‘গত আর্থিক বছরে প্রায় ৭ কোটি টাকা লাভ করেছে ডেয়ারপোল। সেই টাকায় মিলটনের পুনরুজ্জীবন ঘটিয়ে দুগ্ধজাত পণ্য উৎপাদন করা যায়। কিন্তু সেখানেও সমস্যা রয়েছে। কারণ মিলটন যেখানে তৈরি হয়েছে, সেই জমি মালিকানা রয়েছে রাজ্য দুগ্ধ কমিশনারের হাতে। ওই জমি ডেয়ারপোলের মালিকানায় না এলে মিলটনের আধুনিকীকরণের কাজ করার আইনি বাধা রয়েছে। জমিটি ডেয়ারপোলকে দেওয়ার জন্য মিল্ক কমিশনারকে চিঠি দেওয়া হয়েছে।’’

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement