—ফাইল চিত্র।
সার্ধশতবর্ষে পা রাখা ইন্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েশন ফর দ্য কাল্টিভেশন অব সায়েন্স-এর (আইএসিএস) নানা কর্মকাণ্ড ও গবেষণার প্রসারে তাঁরা কী আশা করছেন, তা কেন্দ্রীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রকের তরফে প্রতিষ্ঠানের কর্তৃপক্ষের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার আইএসিএস-এর রেজিস্ট্রার সর্বাণী সাহা এ কথা জানান। চিকিৎসক মহেন্দ্রলাল সরকার প্রতিষ্ঠিত, এশিয়ার প্রথম এই বিজ্ঞান গবেষণা প্রতিষ্ঠানে এসে কেন্দ্রীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রকের স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী জিতেন্দ্র সিংহ এ দিন বলেন, ‘‘এখানে আসা সাক্ষাৎ ইতিহাসের স্পর্শলাভ। মনে হচ্ছে, এটা ঈশ্বরের অভিপ্রায় যে, পশ্চিমবঙ্গে পালাবদলের পরে প্রথম বার এখানে আসতে পেরেছি।’’
কেন্দ্রীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রকের প্রযুক্তিগত গবেষণা কেন্দ্র প্রকল্পে পরীক্ষাগার ও বাজারের মধ্যে গাঁটছড়ার একটি ইনকিউবেশন সেন্টারের উদ্বোধন করেন মন্ত্রী। পঠনপাঠন-জগৎ থেকে বাণিজ্যিক পরিসরে প্রয়োগ, উদ্ভাবন, সমন্বয়ের (ট্রান্সলেশন, ইনোভেশন, নেভিগেশন) এই কেন্দ্রটি কাজ করবে বলে আশা সংশ্লিষ্ট মহলে। তবে কেন্দ্রীয় অনুদান নিয়মিত এলেও গত পাঁচ বছরে রাজ্য সরকারি অনুদানের খরার কথা জানান আইএসিএস-এর রেজিস্ট্রার।
প্রতিষ্ঠানটির উজ্জ্বল অতীতের স্বাক্ষর অ্যামরফাস সিলিকন সোলার সেল তৈরির কৃতিত্ব এখানে মেলে ধরা হয়েছে। ১৯৮৮ সালে এই প্রতিষ্ঠানের ল্যাবে পদ্মশ্রীপ্রাপ্ত অশোককুমার বড়ুয়ার নেতৃত্বে যা তৈরি হয়। সেই সময়ে গোটা দেশে পথিকৃৎ এই সাফল্যের যন্ত্রটি এখন শিক্ষাঙ্গনে প্রদর্শনীর জন্য রাখা হয়েছে। জিতেন্দ্র সিংহ বলেন, ‘‘গোটা দেশকে পথ দেখানো এই প্রতিষ্ঠানের ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল। আইআইটি, আইআইএমের সঙ্গে সমন্বয়ে এর কর্মকাণ্ড আরও বিস্তার লাভের সুযোগ রয়েছে।’’ বারুইপুরে আইএসিএস-এর শিক্ষাঙ্গন তৈরির কাজ চলছে।
১৮৭৬-এ মহেন্দ্রলাল সরকার প্রতিষ্ঠিত গবেষণা প্রতিষ্ঠানটিতে বাংলার তাবড় দিকপাল বিজ্ঞানীরা জড়িয়ে ছিলেন। বৌবাজারে প্রতিষ্ঠানটির আদি ক্যাম্পাসে সি ভি রমন তাঁর নোবেলজয়ী গবেষণার কাজ করেছেন। পরে মেঘনাদ সাহা অধিকর্তা থাকাকালীন প্রতিষ্ঠানটি যাদবপুরের ঠিকানায় সরে আসে। এ দিন মহেন্দ্রলাল সরকার, সি ভি রমনের প্রতিকৃতিতে মালা দেন মন্ত্রী। অনুষ্ঠানে ছিলেন বর্তমান অধিকর্তা কালোবরণ মাইতি।
রেজিস্ট্রার সর্বাণী সাহা বলেন, ‘‘ধারাবাহিক ভাবে গবেষণায় কেন্দ্রীয় সহায়তা আমরা পেয়েছি। তবে ২০২১-২৬ রাজ্য সরকারি অনুদানে সমস্যা হয়েছিল। আগে ২০১৭-১৮ সালে রাজ্য সরকার এই প্রতিষ্ঠানটিকে ডিম্ড বিশ্ববিদ্যালয় হওয়ার ছাড়পত্র দিয়েছে। বারুইপুরে দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের জমিও দিয়েছে।’’
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে