West Bengal Government

নয়া সরকারে দুই উপ-মুখ্যমন্ত্রী রাখার ভাবনা

রীতি অনুযায়ী পরিষদীয় দলের নেতাই পরবর্তী সরকারের মুখ্যমন্ত্রী হন। সেই নেতা নির্বাচনে পর্যবেক্ষকের ভার রয়েছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাহের উপরে। এর বাইরে বাকি মন্ত্রিসভা কেমন হতে পারে, তা নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৭ মে ২০২৬ ০৭:৩০
Share:

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা। — ফাইল চিত্র।

বিপুল জনাদেশ পক্ষে যাওয়ার পরেই সরকার গঠনের প্রস্তুতি শুরু করে দিল বিজেপি। সব ঠিক থাকলে, আগামী শনিবার, ৯ মে ব্রিগেড ময়দানে হতে পারে নতুন মন্ত্রিসভার শপথের কর্মসূচি। উপস্থিত থাকার কথা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের। তার আগে শুক্রবার সন্ধ্যায় বসতে চলেছে বিজেপির পরিষদীয় দলের বৈঠক।

রীতি অনুযায়ী পরিষদীয় দলের নেতাই পরবর্তী সরকারের মুখ্যমন্ত্রী হন। সেই নেতা নির্বাচনে পর্যবেক্ষকের ভার রয়েছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাহের উপরে। এর বাইরে বাকি মন্ত্রিসভা কেমন হতে পারে, তা নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। বিজেপি-শাসিত রাজ্যের রীতি মেনে এখানেও ফিরতে পারে উপ-মুখ্যমন্ত্রীর পদ। দু’জন উপ-মুখ্যমন্ত্রী হতে পারেন বলে সূত্রের ইঙ্গিত। এর মধ্যে এক জন মহিলা হওয়ার সম্ভাবনা। অন্য জন উত্তরবঙ্গের প্রতিনিধি হতে পারেন।

পশ্চিমবঙ্গের মন্ত্রিসভায় প্রতিটি জেলা থেকে এক জনকে মন্ত্রী সভায় রাখার রেওয়াজ আছে। পূর্ণ মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী এবং স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী মিলিয়ে বেশ কয়েকটি জেলা থেকে একাধিক মন্ত্রী হতে পারেন। তফসিলি জাতি, জনজাতি, রাজবংশী-সহ বিভিন্ন সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্ব নতুন মন্ত্রিসভায় রাখার ভাবনা রয়েছে। নানা জেলা থেকে বিভিন্ন নাম নিয়ে আলোচনা চলছে। নতুন বিধানসভার স্পিকার ও শাসক পক্ষের মুখ্য সচেতকের নাম নিয়েও চর্চা চলছে।

পরিষদীয় নেতা বাছাইয়ের বৈঠকের আগে জেলার জয়ী প্রার্থীদের কলকাতায় চলে আসার নির্দেশিকা পাঠানো হয়েছে বিজেপির তরফে। নিউ টাউনের বিশ্ব বঙ্গ কনভেনশন সেন্টারে বসতে পারে বিধায়ক দলের বৈঠক। কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক হিসেবে সেখানে থাকার কথা শাহের। বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য, রাজ্য বিজেপির সাধারণ সম্পাদক জ্যোতির্ময় সিং মাহাতো, সৌমিত্র খাঁ, রাজ্য সম্পাদক শঙ্কর ঘোষ-সহ প্রথম সারির নেতারা বুধবার বিশ্ববঙ্গ কনভেনশন সেন্টারে গিয়ে সব ব্যবস্থাপনা খতিয়ে দেখেছেন। সেই সঙ্গেই হিংসা ও বিশৃঙ্খলা বন্ধের বার্তা দিয়ে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক বলেছেন, “আমরা বিজেপির তৃণমূলীকরণ হতে দেব না। অনেক ঘাম-রক্ত ঝরিয়ে ৮০-৯০ সাল থেকে যাঁরা দলটাকে এই জায়গায় এনেছেন, দলটা তাঁদেরই থাকবে। আজ হঠাৎ করে যাঁরা বিজেপি হওয়ার চেষ্টা করছেন, তাঁদের আমরা দল থেকে বার করে দেব।”

এই প্রস্তুতির মধ্যেই এ দিন নবান্নে গিয়েছিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক। রাজ্যের মুখ্যসচিবের সঙ্গে তাঁর আলোচনা হয়েছে শপথের ব্যবস্থাপনা নিয়ে। ছিলেন বিষ্ণুপুরের সাংসদ সৌমিত্র খাঁ, রাজ্য সাধারণ সম্পাদক শশী অগ্নিহোত্রী ও কেন্দ্রীয় পরিদর্শক সুনীল বনসল। ব্রিগেডে ৯ মে সকাল ১০টায় প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্টমন্ত্রী, বিজেপি-শাসিত বিভিন্ন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী, শরিক দলের মুখ্যমন্ত্রী, জাতীয় পুরস্কার ও পদ্ম পুরস্কারপ্রাপ্ত-সহ বিশিষ্ট এবং সমাজে নিজ নিজ ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিতরা উপস্থিত থাকতে পারেন বলে জানা গিয়েছে। শমীক জানিয়েছেন, ২০২১-এর পর থেকেই তাঁরা জানিয়েছেন, মহাকরণ থেকে তাঁরা সরকার চালানোর পক্ষপাতী। এর পরে মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচিত হলে তিনি এ বিষয়ে তাঁর মতামত জানাবেন বলে শমীক জানান। মহাকরণ সংস্কার হওয়ার আগে পর্যন্ত বিধানসভায় নতুন মুখ্যমন্ত্রীর জন্য অস্থায়ী সচিবালয় গড়ে কাজ চালাতে পারে সরকার।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন

এটি একটি প্রিমিয়াম খবর…

  • প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর

  • সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ

  • সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে

সাবস্ক্রাইব করুন