আর্থিক জরিমানা দিয়ে কারাদণ্ড থেকে ছাড় পাবেন না বেআইনি অর্থলগ্নি সংস্থার মালিকেরা। রাজ্য সরকারের এই যুক্তি অবশেষে মেনে নিল কেন্দ্র। মঙ্গলবার বিধানসভায় এ কথা জানিয়েছেন রাজ্যের অর্থমন্ত্রী অমিত মিত্র। কেন্দ্রের দেওয়া অন্য শর্তগুলি মেনে নিয়েছে রাজ্য। এবং তার পরেই বেআইনি অর্থলগ্নি সংস্থা নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত বিলটি কাল, বৃহস্পতিবার বিধানসভায় ফের পেশ হতে চলেছে বলে জানান তিনি। গত তিন বছরে এই নিয়ে তিন বার বিলটি পেশ হবে বিধানসভায়।
গত এপ্রিলে কেন্দ্রীয় সরকার কয়েক দফা সংশোধনী সুপারিশ করে বিলটি রাজ্যের কাছে ফেরত পাঠায়। বাকিগুলি মেনে নিলেও রাজ্য সরকার ‘কম্পাউন্ড অফ অফেন্স’ শব্দটি বিলে রাখা নিয়ে কেন্দ্রের সঙ্গে একমত হতে পারেনি। রাজ্যের বক্তব্য ছিল, ‘কম্পাউন্ড অব অফেন্স’ শব্দ আইনে রাখলে অর্থদণ্ড দিয়ে অভিযুক্তদের ছাড়া পাওয়ার সম্ভাবনা থেকে যায়। রাজ্য তা চায় না। অর্থ দফতর সূত্রের খবর, সোমবার রাতে কেন্দ্রের চিঠি পৌঁছেছে রাজ্যের হাতে। রাজ্য সরকারের যুক্তি মেনে নিয়েছে কেন্দ্র।
বিলটি নিয়ে রাজ্যকে শর্ত দিতে গিয়ে কেন্দ্র জানিয়েছিল, এই ধরনের অপরাধের বিচারের জন্য যে বিশেষ আদালত গঠনের কথা খসড়া বিলে বলা হয়েছে, সেখানকার বিচারপতিকে অর্থলগ্নি সংস্থার যাবতীয় সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার অধিকার দিতে হবে।
প্রয়োজনে ভিন্ রাজ্যের অর্থলগ্নি সংস্থার বিরুদ্ধে মামলা করার অধিকার দিতেও বলা হয়েছিল। তামিলনাড়ুতে এ রকম ব্যবস্থা আছে। কোনও ভাবেই যাতে অভিযুক্তদের আগাম জামিন না হয়, আইনে তার ব্যবস্থা রাখার কথাও বলেছিল কেন্দ্র। বিহার, মধ্যপ্রদেশে এই সংক্রান্ত আইনে আগাম জামিন নামঞ্জুর করার বিষয়টি রয়েছে। বেআইনি লগ্নি সংস্থাগুলিকে নিয়ন্ত্রণ করা নিয়ে টানাপড়েন চলছে ১২ বছর ধরে। পরিবর্তনের জমানাতেও এই নিয়ে পর পর তিন বছর তিন বার সংশ্লিষ্ট বিলটির সংশোধনী আসছে।