JP Nadda in Kolkata

অনুপ্রবেশ, প্রকল্পে ‘বাধা’য় সরব নড্ডা, পাল্টা তোপে তৃণমূল

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৯ জানুয়ারি ২০২৬ ০৯:১৫
Share:

রাজ্য বিজেপির কোর কমিটির বৈঠকে দলের সর্বভারতীয় সভাপতি জে পি নড্ডা। কলকাতায়। ফাইল চিত্র।

রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের (আরএসএস) প্রধান মোহন ভাগবত থেকে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহেরা পশ্চিমবঙ্গে এসে রাজ্যের অনুপ্রবেশ সমস্যা নিয়ে বার বার সরব হয়েছেন। সেই ধারাতেই অনুপ্রবেশের জন্য দলীয় বৈঠকে তৃণমূল কংগ্রেসকে দায়ী করে প্রচারের পরামর্শ দিলেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জগৎ প্রকাশ নড্ডা। পাশাপাশি, কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী নড্ডা ‘আয়ুষ্মান ভারত’-সহ বিভিন্ন কেন্দ্রীয় প্রকল্পে রাজ্য সরকারের বাধার অভিযোগও তুলেছেন। নড্ডার বিরুদ্ধে বিভ্রান্তি ছড়ানোর পাল্টা অভিযোগ তুলেছে তৃণমূল।

নড্ডা বৃহস্পতিবার শহরে পৌঁছে বিধাননগরের একটি হোটেলে ভিন্‌-রাজ্য থেকে পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। সূত্রের খবর, পশ্চিমবঙ্গে শাসক দলের মদতে যে ভাবে অনুপ্রবেশ ঘটছে, তা দেশের জন্য বিপদ এবং রাজ্যের জনবিন্যাস বদলে যাচ্ছে বলে দলীয় বৈঠকে বার্তা দিয়েছেন তিনি। বিকেলে শহর ও শহরতলির চিকিৎসকদের একাংশের সঙ্গেও বৈঠকে রাজ্যে একটিমাত্র এম্‌স থাকার কারণ হিসাবে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অসহযোগিতার অভিযোগ তুলেছেন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী। এই সূত্রেই তাঁর সংযোজন, “রাজ্য সরকার রাজনীতির স্বার্থে পশ্চিমবঙ্গের মানুষকে কেন্দ্রীয় প্রকল্প থেকে বঞ্চিত করছে। ‘আয়ুষ্মান ভারতে’র বিরোধিতা করেছিল দিল্লি, ওড়িশা ও পশ্চিমবঙ্গ সরকার। দিল্লি ও ওড়িশায় বিরোধীরা সাফ। পশ্চিমবঙ্গেও তৃণমূল তা-ই হবে! এখানেও আয়ুষ্মান ভারত চালু হবে।” আয়ুষ্মান ভারত রাজ্যে চালু করতে অনেক বার মুখ্যমন্ত্রী মমতার সঙ্গে কথাও বলেছেন বলে দাবি নড্ডার। তাঁর দাবি, “কে ওঁকে (মমতা) কী বুঝিয়েছেন, জানি না। উনি শুধু বলেন, ‘হবে না, করবে না’!” নড্ডা জানিয়েছেন, আয়ুষ্মান ভারত-প্রধানমন্ত্রী জন আরোগ্য যোজনায় দেশের সত্তোরর্ধ্ব সবাই যত দিন বাঁচবেন, তত দিন প্রতি বছর পাঁচ লক্ষ টাকা করে স্বাস্থ্যবিমার সুযোগ পাচ্ছেন। পাশাপাশি, দেশ জুড়ে এক লক্ষ ৮১ হাজার ‘আয়ুষ্মান আরোগ্য মন্দির’ থেকে ইতিমধ্যেই ৪০ কোটি মানুষের মুখের ক্যানসার ‘স্ক্রিনিং’ করা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি। নড্ডার তোপ, “দেশে প্রসূতি মৃত্যুর হার (এমএমআর) ৩১% কমলেও পশ্চিমবঙ্গে সেটা মাত্র ১৬%।”

এই প্রেক্ষিতে পাল্টা সরব হয়েছে তৃণমূল। দলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ বলেছেন, “উনি মানুষকে বিভ্রান্ত করা বন্ধ করুন। নড্ডার উচিত আগে আয়ুষ্মান ভারতের শর্তাবলির কথা বলা। কারা-কারা ওই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন না, তা বলুন। সমাজের অর্ধেক মানুষই তো এটা পাবেন না। ‘স্বাস্থ্যসাথী’ সমাজের সবার জন্য।” পাশাপাশি, অনুপ্রবেশ যদি হয়ে থাকে, সে ক্ষেত্রে সীমান্ত নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের দফতর দায়ী বলেও তৃণমূলের পাল্টা অভিযোগ।

রাজ্যের আসন্ন ভোটে তৃণমূলকে হারাতে সাংগঠনিক বার্তাও দিয়েছেন নড্ডা। সূত্রের খবর, বাইরে থেকে রাজ্যে কাজ করতে আসা নেতাদের বিধানসভা-ভিত্তিক ছড়িয়ে পড়া, প্রতিটি বিধানসভায় এক এক জনকে দায়িত্বে নেওয়ার কথা বলেছেন নড্ডা। দায়িত্বে থাকা নেতার নেতৃত্বে ১০-১২ জনের দল কাজ করবে। প্রসঙ্গত, শাহের সঙ্গে বৈঠকে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী বাইরে থেকে আসা দলের নেতা-কর্মীদের ‘হাত খুলে কাজ’ করতে দেওয়ার জন্য আর্জি জানিয়েছিলেন।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন

এটি একটি প্রিমিয়াম খবর…

  • প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর

  • সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ

  • সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে

সাবস্ক্রাইব করুন