— প্রতীকী চিত্র।
ছোট থেকেই শিক্ষকতার স্বপ্ন দেখতেন দৃষ্টিহীন ছেলেটি। সে তাগিদে ’১৮-এ নেট পরীক্ষায় পাশও করেন পশ্চিম মেদিনীপুর চাঁদপুরের তন্ময় নাগ। পরে রাজ্যের কলেজ সার্ভিস কমিশনের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী বিশেষ ভাবে সক্ষম বিভাগে সহকারী অধ্যাপকের শূন্য পদে আবেদন করেন তিনি। ২০২০-র ফেব্রুয়ারিতে হুগলির মশাটের বিদ্যাসাগর মহাবিদ্যালয়ে তাঁর নিয়োগের অনুমোদন দেয় কমিশন। সেই অনুমোদনের পরিপ্রেক্ষিতে নিয়োগপত্রও দেয় কলেজ। তবে সেই সময়ে তাঁর বাবা গুরুতর অসুস্থ থাকায় নিয়োগের সময়সীমা বাড়ানোর আর্জি জানান তন্ময়। কারণ, সম্পূর্ণ দৃষ্টিহীন হওয়ায় বাবার সাহায্যেই চলাফেরা করেন তন্ময়। ২০২০ সালের মার্চে ওই কলেজ দ্বিতীয় বার নিয়োগের নোটিস দিলেও করোনা-কালে কাজে যোগ দিতে পারেননি তন্ময়। কিন্তু করোনা পর্ব কাটলে বার বার কমিশন ও কলেজে আর্জি জানিয়েও যোগদানের বিষয়ে সদর্থক সাড়া পাননি ওই দৃষ্টিহীন চাকরিপ্রার্থী। কার্যত বাধ্য হয়ে হাই কোর্টের দ্বারস্থ হন তিনি।
কমিশনের অনুমোদনের ছ’বছর পরে অবশেষে তন্ময়কে সহকারী অধ্যাপক পদে নিয়োগের নির্দেশ দেন বিচারপতি ঋতব্রতকুমার মিত্র। তাঁর নির্দেশ, ২০২০-র কমিশনের অনুমোদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২০ ফেব্রুয়ারির মধ্যে তন্ময়কে সহকারী অধ্যাপক পদে নিয়োগ করবে কলেজ। দেবে নতুন নিয়োগপত্র। বিচারপতির পর্যবেক্ষণ, তন্ময়ের প্রতিবন্ধকতা ও করোনা-কালের অস্বাভাবিক পরিস্থিতির বিবেচনা করে শূন্য পদে তন্ময়কে নিয়োগ করবে কলেজ। তবে, ছ’বছর অপেক্ষার পরেও কোর্টের নির্দেশ, ২০২০ সালের কমিশনের অনুমোদনে নিয়োগ হলেও কোনও বাড়তি আর্থিক সুবিধা পাবে না মামলাকারী। এখনকার নিয়োগের দিন থেকে বেতন ও অন্যান্য আর্থিক দিকগুলি বিবেচনা করা হবে ।
তন্ময়ের আইনজীবী ফিরদৌস শামিম ও গোপা বিশ্বাসের দাবি, ওই চাকরিপ্রার্থীকে তাঁর প্রতিবন্ধকতার কারণে বঞ্চিত করতে পারে না কমিশন। কলেজের আইনজীবী দাবি করেন, সেই শূন্য পদ এখনও ফাঁকা। কমিশনের সম্মতি পেলে নিয়োগপত্র দেবে কলেজ। কমিশনের আইনজীবী জানান, নিয়োগের বিষয়ে আপত্তি নেই কমিশনের। সব পক্ষের বক্তব্য শোনার পর তন্ময় নাগকে নিয়োগের নির্দেশ দেন বিচারপতি ঋতব্রতকুমার মিত্র।
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে