Kalyan Banerjee

কাকলিকে সরিয়ে কল্যাণকেই ফের লোকসভার মুখ্যসচেতক করলেন মমতা, ‘বেঁধে বেঁধে’ থাকার বার্তা দলের সাংসদদের

২০২৫ সালের অগস্টে আচমকাই মুখ্যসচেতক পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছিলেন কল্যাণ। মমতা তা গ্রহণও করে নিয়েছিলেন। সেই পর্বে কৃষ্ণনগরের সাংসদ মহুয়া মৈত্রের সঙ্গে প্রকাশ্য তরজা চলছিল কল্যাণের।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৪ মে ২০২৬ ১৯:২১
Share:

(বাঁ দিক থেকে) কাকলি ঘোষ দস্তিদার, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

বিধানসভা ভোটের নিরিখে বারাসত এবং শ্রীরামপুর লোকসভার ফলাফল ড্র হয়েছে। কিন্তু সাংসদ হিসাবে বারাসতের কাকলি ঘোষ দস্তিদারকে গোল দিয়ে দিলেন শ্রীরামপুরের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়।

Advertisement

ন’মাসের মধ্যেই পুরনো পদে ফিরলেন কল্যাণ। বৃহস্পতিবার কালীঘাটে তৃণমূলের সাংসদদের নিয়ে বৈঠক ডেকেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই বৈঠকেই তিনি জানিয়ে দেন, কল্যাণই এ বার থেকে মুখ্যসচেতকের দায়িত্ব পালন করবেন। ২০২৫ সালের অগস্টে আচমকাই মুখ্যসচেতক পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছিলেন কল্যাণ। মমতা তা গ্রহণও করে নিয়েছিলেন। সেই পর্বে কৃষ্ণনগরের সাংসদ মহুয়া মৈত্রের সঙ্গে প্রকাশ্যে তরজা চলছিল কল্যাণের। তখনই সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়কে লোকসভার দলনেতার পদ থেকে সরিয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে সেই দায়িত্ব দেওয়া হয়। উপদলনেতা করা হয়েছিল শতাব্দী রায়কে। বৃহস্পতিবার কাকলিকে সরিয়ে ফের কল্যাণকেই পুরনো দায়িত্ব দিলেন মমতা।

শ্রীরামপুর লোকসভার অন্তর্গত সাতটি বিধানসভার মধ্যে এ বার পাঁচটি জিতেছে বিজেপি। ডোমজু়ড় আর চণ্ডীতলা ধরে রাখতে পেরেছে তৃণমূল। বারাসতের ক্ষেত্রেও তা-ই। সেখানেও ৫-২ ব্যবধানে পিছিয়ে তৃণমূল। ফলে সংসদীয় দলে পদ বণ্টনের ক্ষেত্রে যে বিধানসভার ফলাফল ‘সূচক’ হয়নি, তা স্পষ্ট। তা হলে কেন কাকলিকে সরিয়ে ফের কল্যাণ?

Advertisement

এ প্রসঙ্গে তৃণমূলের তরফে আনুষ্ঠানিক ভাবে কোনও ব্যাখ্যা মেলেনি। তবে দলের অনেক সাংসদ একান্ত আলোচনায় জানিয়েছেন, এসআইআর থেকে শুরু করে বৃহস্পতিবার কলকাতা হাই কোর্ট— মামলা মোকদ্দমায় কল্যাণ যে ভূমিকা নিয়েছিলেন, মমতা তারই পুরস্কার দিলেন। অন্য একটি অভিমতও রয়েছে তৃণমূলের অন্দরে। সেই অংশের বক্তব্য, কল্যাণের পুত্র শীর্ষণ্য বন্দ্যোপাধ্যায় উত্তরপাড়া থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। পরাজিত হওয়ার পরেও তিনি দলের শীর্ষ নেতৃত্বের সামনে রাজনীতিতে টিকে থাকার কথা বলেছেন। বেশ কিছু আইনি প্রস্তাবও দিয়েছেন দলকে। অন্য দিকে, কাকলির পুত্র বৈদ্যনাথ সমাজমাধ্যমে ধারাবাহিক ভাবে যে ধরনের মন্তব্য করছেন, তাতে দল বিড়ম্বনায় পড়ছে। সব মিলিয়েই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মমতা। তৃণমূল সূত্রে খবর, কাকলির ঘনিষ্ঠেরাও আঁচ করছিলেন সংসদীয় দলে বারাসতের সাংসদের মর্যাদা কমতে পারে। তার বিবিধ কারণ রয়েছে বলেই অভিমত। অন্য অংশের বক্তব্য, দলনেত্রী আগে থেকেই কাকলিকে জানিয়ে রেখেছিলেন।

নতুন দায়িত্ব পেয়ে কল্যাণ বলেন, ‘‘আমি মমতাদির প্রতি কৃতজ্ঞ। তিনি যে দায়িত্ব দিয়েছেন, তা পালন করব। ২০১১ থেকে ২০২৫ পর্যন্ত আমি এই দায়িত্বে ছিলাম। আমার কাছে এটা নতুন নয়। দল নতুন যে দায়িত্ব দিয়েছে, তার যথাযথ মর্যাদা রাখব।’’

সূত্রের খবর, বৃহস্পতিবারের বৈঠকে কল্যাণের ভূমিকার প্রশংসা করেছেন মমতা। একই সঙ্গে সাংসদদের বার্তা দিয়েছেন, নিয়মিত নিজেদের সংসদীয় এলাকার সঙ্গে যোগাযোগ, সমন্বয় রাখতে। তৃণমূল সূত্রে এ-ও জানা গিয়েছে, মমতার ওই কথার পরে জয়নগরের সাংসদ প্রতিমা মণ্ডল জানিয়েছেন, নির্বাচনে বিপর্যয়ের পরে তিনি বিভিন্ন এলাকায় যেতে চেয়েছিলেন। কিন্তু স্থানীয় নেতৃত্বই তাঁকে আপাতত যেতে বারণ করেছেন।

তৃণমূলের সর্বোচ্চ নেতৃত্বের তরফে সাংসদদের বৈঠকে আভাস দেওয়া হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গের ভোটে যা হয়েছে, তা জাতীয় স্তরে তুলে ধরার ব্যাপারে বিজেপি-বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’-ভুক্ত দলগুলির সঙ্গে আলোচনা চলছে। সূত্রের খবর, বৈঠকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, দলের কাছে এমনও খবর আসছে, বিভিন্ন জায়গায় সিআরপিএফ-এর পোশাক পরে বিজেপির লোকজন তৃণমূলকর্মীদের উপর হামলা চালাচ্ছে। তিনি এ-ও বলেছেন, এই কঠিন সময়ে ঐক্যবদ্ধ ভাবে থাকলে দ্রুত এই পরিস্থিতি তৃণমূল পার করতে পারবে।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement