রেলে চাকরির নামে জালিয়াতি, গ্রেফতার দুই

বৃহস্পতিবার বিকেলে ঘটনাটি ঘটেছে আর জি কর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৬ জুলাই ২০১৯ ০৮:৫৬
Share:

চাকরিতে যোগ দেওয়ার আগে মেডিক্যাল পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়েছিল কর্মপ্রার্থীকে। বেশ কিছু ক্ষণ অপেক্ষা করার পরেও কোনও চিকিৎসক না আসায় সন্দেহ দানা বেঁধেছিল ওই যুবকের। সঙ্গে থাকা ‘সরকারি অফিসারদের’ কাছে এর কারণ জানতে চাইলে তারা উত্তর দিতে ইতস্তত করছে দেখে সন্দেহ আরও দৃঢ় হয় ওই যুবকের। জালিয়াতদের পাল্লায় পড়েছেন বুঝতে পেরে চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু করেন তিনি। হাসপাতালে থাকা পুলিশকর্মীরা এসে ওই যুবক ও সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের আটক করে থানায় নিয়ে যায়।

Advertisement

বৃহস্পতিবার বিকেলে ঘটনাটি ঘটেছে আর জি কর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। কর্মপ্রার্থী ওই যুবকের নাম দেবাশিস কোলে। তাঁর অভিযোগের ভিত্তিতে ওই দুই ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃতদের নাম অর্ণব চক্রবর্তী ও বাপি মণ্ডল। অর্ণবের বাড়ি সোনারপুরে। বাপি থাকে বাগুইআটিতে। অভিযোগ, রেলে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার নাম করে এরা দেবাশিসের কাছ থেকে কয়েক দফায় প্রায় আড়াই লক্ষ টাকা নিয়েছিল। বৃহস্পতিবার মেডিক্যাল চেক-আপের নাম করে দেবাশিসকে তারা আর জি কর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসে।

টালা থানা সূত্রের খবর, ধৃতদের কাছ থেকে রেল অফিসারদের সই জাল করা ভুয়ো চিঠি ও ভুয়ো নিয়োগপত্র-সহ একাধিক নথি উদ্ধার করে হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ওই চক্রের মূল পাণ্ডা পলাতক। তার খোঁজ শুরু হয়েছে। সে-ই মেডিক্যাল পরীক্ষার জন্য বাকিদের পাঠিয়েছিল।

Advertisement

ধৃতদের শুক্রবার শিয়ালদহ আদালতে তোলা হলে তাদের আইনজীবী দিব্যেন্দু বিশ্বাস দাবি করেন, তাঁর মক্কেলরা এই ঘটনায় যুক্ত নয়। সরকারি কৌঁসুলি অরূপ চক্রবর্তী জানান, ধৃতদের কাছ থেকে সরকারি লোগো-সহ বিভিন্ন ভুয়ো নথি উদ্ধার করা হয়েছে। যা থেকে পরিষ্কার, তারা ওই প্রতারণা চক্রের সঙ্গে যুক্ত ছিল। পরে বিচারক ধৃতদের ১১ জুলাই পর্যন্ত পুলিশি হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেন।

প্রাথমিক তদন্তের পরে পুলিশ জানায়, হুগলির সিঙ্গুরের বাসিন্দা দেবাশিসের সঙ্গে মাস কয়েক আগে আলাপ হয় ওই প্রতারণা চক্রের পাণ্ডা সুবর্ণের। পূর্ব রেলে চাকরি দেওয়ার টোপ দিয়ে দেবাশিসের কাছ থেকে বেশ কয়েক দফায় টাকা নেয় সুবর্ণ। দেবাশিস জানান, বৃহস্পতিবার চাকরির আগের রুটিন স্বাস্থ্য-পরীক্ষা হবে বলে তাঁকে ধর্মতলায় ডেকে পাঠানো হয়। সেখানে প্রতারকেরা প্রথমে ওই বাবদ পাঁচ হাজার টাকা নেয়। তার পরে তাঁকে নিয়ে যায় আর জি করে।

পুলিশের অনুমান, অভিযুক্তেরা হুগলি, বর্ধমান, হাওড়া-সহ শহরতলির বিভিন্ন জায়গায় একই কায়দায় চাকরি পাইয়ে দেওয়ার নাম করে লক্ষ লক্ষ টাকা তুলেছে। চাকরিপ্রার্থীদের বিশ্বাস অর্জনের জন্য তাঁদের বিভিন্ন রেলওয়ে অফিসে নিয়ে যাওয়া হত। সেখানে অভিযুক্তেরা নিজেদের অফিসার বা রেলের কর্মী বলে পরিচয় দিত। পরে তাদের কাছ থেকে মোটা টাকা আদায় করত।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement