দস্তা চুরির ঘটনায় ধৃত ৩

কন্টেনার ছিল দস্তা ভর্তি। বন্দরে তা খালি করার সময়ে দস্তার জায়গায় মিলেছিল বালি! পুলিশ জানায়, শুক্রবার দুপুর থেকে রাত পর্যন্ত তল্লাশিতে মাল পাচার করার একটি চক্রের সন্ধান মিলেছে।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১২ জুন ২০১৬ ০৫:৪৩
Share:

কন্টেনার ছিল দস্তা ভর্তি। বন্দরে তা খালি করার সময়ে দস্তার জায়গায় মিলেছিল বালি!

Advertisement

পুলিশ জানায়, শুক্রবার দুপুর থেকে রাত পর্যন্ত তল্লাশিতে মাল পাচার করার একটি চক্রের সন্ধান মিলেছে। কন্টেনার থেকে প্রায় ৫৩ লক্ষ টাকার দস্তা চুরি করে বালি রাখার ঘটনায় তিন জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মিলেছে উধাও হয়ে যাওয়া দস্তার বেশ কিছু অংশ। ধৃতদের নাম, বাবলু খান ওরফে আবু ইব্রাহিম, সইফ আহমেদ ওরফে সুরজ ও সুরিন্দর মাহাতো। ধৃতদের শনিবার আলিপুর আদালতে পেশ করা হলে বিচারক তাদের পুলিশ হেফাজত দেন।

পুলিশের দাবি, বাবলু কন্টেনারের মালিক। সেই চক্রের অন্যতম পাণ্ডা সইফ তার পরিচিত। আর হাওড়ার বাসিন্দা সুরিন্দরের গ্যারাজে কন্টেনারটির সিল ভেঙে দস্তা চুরি করা হয়েছিল। পশ্চিম বন্দর থানার এবং বন্দর বিভাগের বিশেষ গোয়েন্দা দল জানায়, চক্রের মূল পাণ্ডা পলাতক।

Advertisement

পুলিশ জানায়, মধ্য কলকাতার এক বেসরকারি সংস্থা ইথিওপিয়ায় ৫০ টন দস্তার নিরেট বাট সরবরাহের দায়িত্ব পেয়েছিল। ওই সংস্থার তরফে শুল্ক দফতরের অনুমোদিত এক বেসরকারি ক্লিয়ারিং সংস্থাকে তা ইথিওপিয়ায় পৌঁছনোর দায়িত্ব দেওয়া হয়। তারা এক পরিবহণ সংস্থাকে তা হাওড়ার গুদাম থেকে নেতাজি সুভাষ ডকে পৌঁছনোর ভার দেয়। দু’টি কন্টেনারে ২৫ টন করে দস্তার বাট ছিল। প্রতিটি কন্টেনারে থাকা দস্তার বাজারদর অন্তত ৫৩ লক্ষ টাকা।

পুলিশ জানায়, ২৪ মে রাতে দু’টি কন্টেনারই রওনা দেয় বন্দরের উদ্দেশে। একটি কন্টেনার পর দিন ডকে পৌঁছলেও অন্যটি পৌঁছয় ২৭ মে। দেরিতে আসা কন্টেনারের সিল অক্ষতই ছিল। ৩০ মে সব পক্ষের সামনে কন্টেনার খোলা হলে দেখা যায়, দস্তার জায়গায় ভর্তি বালি।

তদন্তে পুলিশ দেখে, কন্টেনারের চালক উধাও। বাবলুর কথাতেও মেলে অসঙ্গতি। এক তদন্তকারী অফিসার বলেন, ‘‘স্থানীয় সূত্রে খবর, বাবলুর সঙ্গী গার্ডেনরিচের বাসিন্দা সুরজ বেপাত্তা। বাবলু, সুরজের বিরুদ্ধে আগে কন্টেনারের মাল চুরির অভিযোগ থাকায় সন্দেহ বাড়ে। বাবলুকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে ভেঙে পড়েন তিনি।’’

পুলিশ জানায়, বাবলুর বাড়ি থেকে মেলে বেশ কিছু দস্তা। সুরজকে তাঁর বাড়ি থেকে গ্রেফতারের পর লিলুয়ার চামরাইলে একটি গ্যারাজ থেকে ধরা হয় সুরিন্দরকে। তার কাছেও দস্তা মেলে।

পুলিশের দাবি, শুল্ক দফতর অনুমোদিত বেসরকারি ক্লিয়ারিং সংস্থা যে পরিবহণ সংস্থাকে মালটি বন্দরে পৌঁছতে দিয়েছিল, তাদের সঙ্গে যোগ রয়েছে বাবলুর। মূলত ওই সংস্থার সঙ্গে যোগসাজস করে বাবলুর নির্দেশে গ্যারাজে পৌঁছত মাল বোঝাই কন্টেনার। সেখানে সুরিন্দর ও তাঁর দল সিল ভেঙে মাল অন্যত্র নিয়ে যেতেন। পরে চোরাই মাল বেশি দামে বিক্রি হত। যার ভাগ পেতেন বাবলুরা। পুলিশের দাবি, সিল ভেঙে ২৪ তারিখই দস্তা সরানো হয়।

পুলিশের সন্দেহে রয়েছে শুল্ক দফতরের অনুমোদিত ক্লিয়ারিং সংস্থা ও পরিবহণ সংস্থার ভূমিকাও। যে ভাবে চুরির পরে কন্টেনার ফের শুল্ক দফতরের সিল করা হয়েছিল, তা থেকে পরিষ্কার চক্রে অনেকে জড়িত। পুলিশের দাবি, কন্টেনারের চালক ও গ্যারাজের মালিককের খোঁজ পেলে বহু তথ্য মিলবে।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement