Special Schools

টাকা আসেনি পাঁচ মাস, বিশেষ চাহিদাসম্পন্নদের ৭৪টি স্কুলে সঙ্কট

বিশেষ স্কুলের শিক্ষকেরা জানাচ্ছেন, রাজ্য জুড়ে এই ধরনের বিশেষ স্কুল রয়েছে ৭৪টি। সেখানে মোট ৯৩৭০ জন পড়ুয়া পড়াশোনা করে। স্কুলগুলির বেশির ভাগই আবাসিক।

আর্যভট্ট খান

শেষ আপডেট: ১০ জানুয়ারি ২০২৬ ০৬:০৯
Share:

—প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র।

জনশিক্ষা প্রসার ও গ্রন্থাগার পরিষেবা দফতরের অধীনে বিশেষ স্কুলের (স্পেশ্যাল স্কুল) বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন পড়ুয়াদের হস্টেলের থাকা-খাওয়ার খরচ মিলছে না গত পাঁচ মাস ধরে। ওই স্কুলের দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকেরা জানাচ্ছেন, এই ধরনের বিশেষ স্কুলগুলিতে বেশির ভাগ পড়ুয়াই হস্টেলে থেকে পড়াশোনা করে। তার জন্য পড়ুয়াপিছু মাসে ১৬০০ টাকা দেওয়া হয় দফতর থেকে। কিন্তু অভিযোগ, গত পাঁচ মাস ধরে ওই পড়ুয়াদের হস্টেলে থাকার খরচ না মেলায় হস্টেল চালানোই কঠিন হয়ে উঠেছে। এই নিয়ে প্রধান শিক্ষকেরা কয়েক বার জনশিক্ষা দফতরে চিঠিও দিয়েছেন। কিন্তু এখনও সুরাহা হয়নি।

ওই বিশেষ স্কুলের শিক্ষকেরা জানাচ্ছেন, রাজ্য জুড়ে এই ধরনের বিশেষ স্কুল রয়েছে ৭৪টি। সেখানে মোট ৯৩৭০ জন পড়ুয়া পড়াশোনা করে। স্কুলগুলির বেশির ভাগই আবাসিক। কিছু স্কুলে কেবল চতুর্থ শ্রেণি এবং অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ানো হয়। বাকি স্কুলগুলিতে উচ্চমাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত পড়াশোনা হয়। মধ্যশিক্ষা পর্ষদের অনুমোদিত পাঠ্যক্রমই সেখানে পড়ানো হয়। গ্রামাঞ্চলে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন পড়ুয়াদের জন্য এই স্কুলগুলিই অন্যতম প্রধান ভরসা।

হাওড়ার উলুবেড়িয়ার আনন্দ ভবন ডেফ অ্যান্ড ব্লাইন্ড স্কুলের টিচার-ইন-চার্জ অজয় দাস জানান, কলকাতার বেহালায় ক্যালকাটা ব্লাইন্ড স্কুল, টালিগঞ্জের লাইটহাউস ফর দ্য ব্লাইন্ড, মুকুন্দপুরের হেলেন কেলার বধির বিদ্যালয় থেকে শুরু করে বিভিন্ন জেলার প্রত্যন্ত এলাকায় বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন পড়ুয়াদের এই আবাসিক স্কুলগুলি রয়েছে। পড়ুয়াদের চার বেলা খাওয়া ছাড়াও তাদের হস্টেলে থাকা, বিদ্যুতের খরচ, জ্বালানির খরচ—সবটাই ১৬০০ টাকার মধ্যে ধরা থাকে। অজয় বলেন, ‘‘আমাদের হস্টেলে ৮০ জন পড়ুয়া রয়েছে। এই টাকা গত পাঁচ মাস ধরে না পাওয়ায় হস্টেল চালানোই সমস্যা হয়ে যাচ্ছে। বাজারে বিভিন্ন দোকানে ধার-দেনা করে চালাতে হচ্ছে। কিন্তু এই ভাবে কত দিন চলতে পারে?’’ তিনি জানান, ছাত্রপিছু ১৬০০ টাকায় এমনিতেই চালানো কঠিন। গত অক্টোবরে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানানো হয়েছিল যে, এই খরচ বাড়িয়ে ২২০০ টাকা করা হবে। কিন্তু ২২০০ টাকা তো দূর, পড়ুয়াপিছু মাসিক ১৬০০ টাকাই মিলছে না।

মালদহের মঙ্গলবাড়ি এলাকার আর পি রায় মেমোরিয়াল ব্লাইন্ড স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বিমল সিংহ জানান, তাঁদের স্কুলে ৪১ জন পড়ুয়া রয়েছে। বিমল বলেন, ‘‘এ বারই প্রথম নয়। এর আগেও এ রকম হয়েছে। দুই থেকে তিন মাস টাকা পাওয়া ‌যায়নি। কিন্তু এ বার পাঁচ মাস হয়ে গেল। কী ভাবে হস্টেল চলবে?’’ বীরভূমের রামপুরহাটের কাছে শ্রী শ্রী রামকৃষ্ণ সত্যানন্দ দৃষ্টিদীপ শিক্ষা নিকেতনের হস্টেল সুপারিন্টেন্ডেন্ট শুভাশিস রায়চৌধুরী বলেন, ‘‘হস্টেল চালানোর জন্য পাঁচ মাস টাকা বাকি থাকায় এখন বাজারে যেখান থেকে আমরা চাল, ডাল, আনাজ কিনি, সেখান থেকে ধারও পাচ্ছি না।’’ আবাসিক স্কুলগুলির শিক্ষকেরা জানাচ্ছেন, এখন এমন অবস্থা যে, অনেক ক্ষেত্রেই নিজেদের পকেট থেকে টাকা দিয়ে হস্টেল চালাতে হচ্ছে। তাঁদের প্রশ্ন, নিজেদের বেতনের টাকা দিয়ে কত দিন হস্টেল চালানো সম্ভব? কবে পড়ুয়াদের বরাদ্দ টাকা আসবে, সেই দিকে তাঁরা তাকিয়ে আছেন।

জনশিক্ষা প্রসার ও গ্রন্থাগার পরিষেবা দফতরের তরফ থেকে আশ্বাস দিয়ে জানানো হয়েছে, দ্রুত এই বকেয়া মেটানো হবে। দফতরের এক আধিকারিক বলেন, ‘‘রাজ্য জুড়েই এই ধরনের স্কুলগুলির হস্টেলে পড়ুয়াদের টাকা বকেয়া রয়েছে। আমরা অর্থ দফতরে ফাইলপাঠিয়েছি। অর্থ দফতর থেকে জানানো হয়েছে, খুব দ্রুত তারা এই বকেয়া টাকা ছেড়ে দেবে। আশা করছি, আগামী সপ্তাহেই এই টাকা স্কুলগুলি পেয়ে যাবে।’’

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন

এটি একটি প্রিমিয়াম খবর…

  • প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর

  • সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ

  • সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে

সাবস্ক্রাইব করুন