মেছুয়ার হোটেলে অগ্নিকাণ্ড। ফাইল চিত্র।
ঘটনার পরে কেটে গিয়েছে প্রায় ন’মাস। পুলিশ নির্দিষ্ট সময়ে চার্জশিট জমা দিলেও জোড়াসাঁকো থানা এলাকার মেছুয়ার হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১৪ জনের মৃত্যুর ঘটনায় চার্জ গঠন হয়নি এখনও। আগামী ৪ ফেব্রুয়ারি এই মামলার পরবর্তী শুনানি।
পুলিশ সূত্রের খবর, অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যেই বেশ কিছু আবেদন করা হয়েছে। ৪ তারিখ সেগুলির শুনানি হবে। এ ছাড়া, যে সব ধারায় পুলিশ চার্জশিট দিয়েছে, সেগুলির বিরুদ্ধেও আবেদন করেছেন অভিযুক্তেরা। ওই দিন তারও শুনানি হতে পারে বলে সূত্রের খবর। এই মামলায় পুলিশের তরফে পাঁচ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দেওয়া হয়েছিল। সূত্রের খবর, তাঁরা সকলেই বর্তমানে জামিনে আছেন।
গত বছরের ২৯ এপ্রিল রাতে মেছুয়ার ফলপট্টির একটি হোটেলে আগুন লাগে। ধোঁয়ায় দমবন্ধ হয়ে এবং প্রাণ বাঁচাতে উপর থেকে ঝাঁপ দিয়ে প্রাণ হারান হোটেলের আবাসিক এবং কর্মী মিলিয়ে ১৪ জন। জখম হন ১৩ জন। আগুন লাগার প্রায় ২৪ ঘণ্টা পরে দমকলের ১০টি ইঞ্জিন তা আয়ত্তে আনতে সক্ষম হয়। প্রাথমিক তদন্তে উঠে আসে, ওই হোটেলের দমকলের ছাড়পত্রের মেয়াদ শেষ হয়ে গিয়েছিল ঘটনার প্রায় তিন বছর আগে। দমকল আরও জানিয়েছিল, হোটেলের নিজস্ব অগ্নি-নির্বাপণ ব্যবস্থা থাকলেও তা কাজ করেনি।
তদন্তে জানা যায়, ছ’তলা ওই হোটেলের দোতলায় প্রথমে আগুন লাগে। তদন্তকারীদের দাবি ছিল, হোটেলের ওই জায়গায় রান্না করা হত। সেখানে সিঁড়ির পথ আটকে রান্না করা হচ্ছিল। পাশেই রাখা ছিল বিভিন্ন দাহ্য বস্তু। ওই রান্না থেকেই প্রথমে আগুন লাগে। তা মুহূর্তে ছড়িয়ে পড়ে পুরো হোটেলে। সেই সময়ে হোটেলের ৪২টি ঘরে প্রায় ১০০ জন আবাসিক ছিলেন। এ ছাড়াও ছিলেন কর্মীরা। তাঁদের মধ্যে ১৪ জনের মৃত্যু হয়।
ওই ঘটনায় পুলিশ হোটেলের মালিক-সহ চার জনকে গ্রেফতার করে। পরে দু’মাসের মাথায় ওই চার জন এবং আরও এক জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দেয় কলকাতা পুলিশের বিশেষ তদন্তকারী দল। চার্জশিটে পুলিশ দাবি করে, হোটেলের দোতলায় রান্নার জন্য ওভেন ও গ্যাস রাখা ছিল। হোটেলের দোতলা জুড়ে চলছিল পানশালা, ডান্স ফ্লোরের কাজ। সেখানেই মজুত থাকা প্লাইউড, রং এবং কিছু রাসায়নিক আগুন ছড়ানোয় অনুঘটকের কাজ করে।
লালবাজার জানিয়েছে, অভিযুক্ত হোটেল কর্তৃপক্ষ-সহ পাঁচ জনের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা এবং পশ্চিমবঙ্গ দমকল আইনের একাধিক ধারায় চার্জশিট দেওয়া হয়েছে। এ বার অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত চার্জ গঠনের আবেদন জানানো হবে।
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে