Sealdah Court

ডাকাতি ও খুনের চেষ্টায় দোষী সাঁতার প্রশিক্ষকের আজ সাজা ঘোষণা

এ দিন তার অপরাধ এবং সাজার বিষয়ে একে একে বিশ্লেষণ করেন বিচারক। বলা হয়, লুটের উদ্দেশ্য নিয়ে সন্দীপ ছাত্রীর বাড়ি গিয়েছিল। ছাত্রী বাধা দিলে তাকে খুনের চেষ্টা করেছিল বলেও তদন্তে প্রমাণিত।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৫:১৮
Share:

—প্রতীকী চিত্র।

চিৎপুর থানা এলাকায় লুটপাট, এক নাবালিকাকে খুনের চেষ্টা ও ডাকাতির মামলায় অভিযুক্ত সাঁতার প্রশিক্ষক সন্দীপ সাউকে দোষী সাব্যস্ত করল শিয়ালদহ আদালতের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা বিচারক অনির্বাণ দাস। শুক্রবার আদালতে সন্দীপকে পেশ করে কাঠগড়ায় তোলা হয়। একাধিক ধারায় দোষী সাব্যস্ত করা হয় তাকে। আদালত সূত্রের খবর, আজ, শনিবার বেলা সাড়ে ১১টা নাগাদ সাজা ঘোষণা করা হতে পারে।

এ দিন তার অপরাধ এবং সাজার বিষয়ে একে একে বিশ্লেষণ করেন বিচারক। বলা হয়, লুটের উদ্দেশ্য নিয়ে সন্দীপ ছাত্রীর বাড়ি গিয়েছিল। ছাত্রী বাধা দিলে তাকে খুনের চেষ্টা করেছিল বলেও তদন্তে প্রমাণিত। নাবালিকার একা থাকার সুযোগে বাড়িতে ঢুকে সাঁতার প্রশিক্ষক সন্দীপ প্রথমে গামছা দিয়ে তারশ্বাসরোধের চেষ্টা করে। পরে রান্নাঘর থেকে ছুরি এনে গলা চিরে দেয়। মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরেছে সেই নাবালিকা। ভারতীয় ন‍্যায় সংহিতার ১০৯ নম্বর ধারা, অর্থাৎ, খুনের চেষ্টায় সন্দীপকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। এই ধারায় সর্বোচ্চ সাজা যাবজ্জীবন।

নাবালিকাকে জখম করার পরে বাড়ির আলমারি ভেঙে সোনার গয়না (তিনটে নেকলেস ও চারটি চুরি)লুট করে সন্দীপ। চুরিগুলি বিক্রি করে সে। গয়না বিক্রির টাকা এবং চুরি যাওয়া সোনার নেকলেস তার কাছ থেকে উদ্ধার হয়। ভারতীয় ন‍্যায় সংহিতার ৩০৯, অর্থাৎ, ডাকাতি ও লুটপাটের ধারায় তাকে দোষী সাব্যস্ত করেন বিচারক। ওই ধারায় সর্বোচ্চ সাজা ১০ বছর কারাদণ্ড বলে জানানো হয়।

ডাকাতি ও লুটপাটের উদ্দেশ্যে নাবালিকাকে গুরুতর জখম করে সন্দীপ। যার ফলে নাবালিকার মৃত্যুর আশঙ্কা প্রবল ছিল। ভারতীয় ন‍্যায় সংহিতার ৩১১ ধারায় তাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। ওই ধারায় সর্বনিম্ন সাজা সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ড।

সূত্রের খবর, ২০২৫ সালের ১৮ মার্চ দুপুরে নাবালিকা একা থাকাকালীন ফ্ল্যাটে যায় সন্দীপ। স্থানীয় প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে সাঁতার শিখত মেয়েটি, সেই সুবাদে সন্দীপকে চিনত সে। সন্দীপ বাড়িতে ঢুকে নাবালিকাকে বলে, ‘‘তোমার বাবা খুব অসুস্থ। বাড়িতে থাকা গয়না বিক্রি করে চিকিৎসার ব্যবস্থাকরতে হবে। নাবালিকার কাছ থেকে চাবি নিয়ে আলমারি খুলে গয়নানিতে থাকে সন্দীপ। সব গয়না নিতে দেখে নাবালিকার সন্দেহ হয় এবং চিৎকার করে। এর পরেই গামছার ফাঁস দিয়ে নাবালিকার শ্বাসরোধকরে তাকে বিছানায় ফেলে দেয় সন্দীপ। মৃত্যু নিশ্চিত করতে রান্নাঘর থেকে ছুরি নিয়ে এসে গলার নলিও কেটে দেয়। এর পরে গয়না নিয়ে স্কুটার চালিয়ে পালায় সন্দীপ।

কয়েক ঘণ্টা পরে নাবালিকার জ্ঞান ফিরলে হামাগুড়ি দিয়ে পাশের ফ্ল্যাটের কাকিমার কাছে সে পৌঁছয়। নাবালিকাকে স্থানীয় নার্সিংহোমে ভর্তি করে চিকিৎসকেরা দ্রুত অস্ত্রোপচার করেন। ১৯ মার্চ জ্ঞান ফিরলে সে সমস্ত ঘটনা কাগজে লিখে দেয়। তার ভিত্তিতে পুলিশে অভিযোগ দায়ের হয়।

সিসি ক্যামেরার ফুটেজের সূত্রে সন্দীপকে চিহ্নিত করে আটক করা হয়। একে একে গয়না উদ্ধার হয়। গয়না বিক্রির আশি হাজার টাকাও উদ্ধার করা হয়। গত ২০ মার্চ সন্দীপকে শিয়ালদহের অতিরিক্ত মুখ্য বিচার বিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে তোলা হয়।

সরকারি আইনজীবী অসীম কুমার বলেন, ‘‘৪৫ দিনের মধ্যে সন্দীপকে অভিযুক্ত দায়ের করে চার্জশিট পেশ করা হয়। অগস্টে মামলার চার্জ গঠন করে বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়। এই মামলায় ২২ জন সাক্ষী রয়েছেন। অগস্ট থেকে প্রায় প্রতিদিনমামলার বিচার প্রক্রিয়া চলেছিল। সন্দীপের বিরুদ্ধে সমস্ত প্রমাণ দ্রুত আদালতে প্রতিষ্ঠিত হয়। এ দিন বিচারক অভিযুক্তকে দোষী সাব্যস্ত করেছেন।’’

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন

এটি একটি প্রিমিয়াম খবর…

  • প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর

  • সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ

  • সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে

সাবস্ক্রাইব করুন