ধুলোয় ঢেকেছে পথ। — নিজস্ব চিত্র
চারদিকে উড়ছে ধুলো। ধুলোয় দূরের গাড়ি দেখা যাচ্ছে না। নাকে রুমাল দিয়ে হাঁটতে বাধ্য হচ্ছেন পথচারী। হেলমেট পড়লেও অসুবিধায় পড়ছেন বাইক আরোহী। ধুলোয় কাহিল বাসযাত্রীরা বাধ্য হচ্ছেন বাসের জানলা বন্ধ করতে। প্রশাসনের সাফাই, রাস্তার সম্প্রসারণ চলছে। আর তাই রাজারহাট রোড ধরে চিনার পার্ক থেকে রাজারহাটের দিকে এগোতে থাকলে এমন ধুলোর মধ্যে দিয়েই যেতে হচ্ছে। অভিযোগ, পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য বিদ্যুৎ বণ্টন সংস্থা
এবং পূর্ত দফতরের মধ্যে সমন্বয়ের অভাবে এই অবস্থা।
ভিআইপি রোডের জোড়া মন্দিরের কাছ থেকে শুরু রাজারহাট রোড। রাজারহাটের সঙ্গে যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা এটি। সম্প্রসারণের কাজ সামনের বছরের এপ্রিলের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা। কিন্তু কাজের জেরে দিনের বেলায়ও ধুলোর চাদরে ঢেকে যাচ্ছে রাস্তা। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, কাজের জন্য নানা সমস্যা
হতে পারে। কিন্তু ধুলোয় দুর্বিষহ অবস্থা। অভিযোগ, নিয়মিত ওই রাস্তায় জল দেওয়া হচ্ছে না। তাই এত ধুলো উড়ছে।
বায়ু দূষণের কারণে সম্প্রতি দিল্লি কুয়াশার চাদরে ঢাকা পড়ে গিয়েছিল। জনজীবন কার্যত সেখানে স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল। কালীপার্ক, খেলার মাঠ, স্থানীয় ডিরোজিও কলেজ এলাকার বাসিন্দাদের দাবি, ধুলোর জেরে শীতের রাতে রাজারহাট রোডে ঘন কুয়াশা হচ্ছে। রাজারহাট চৌমাথায় রাস্তার উপরে দোকান ও বাড়ির বাসিন্দারাও এই সমস্যায় জেরবার।
এই সমস্যার কথা মানছে পূর্ত দফতর। দফতরের দাবি, পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য বিদ্যুৎ বণ্টন সংস্থার বিদ্যুতের স্তম্ভগুলি এখনও রাস্তা থেকে ওঠানো যায়নি। তাই বিটুমিনের কাজ করা যাচ্ছে না। দফতরের এগ্জিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার কনকেন্দু সিংহ বলেন, ‘‘রাস্তায় বিটুমিনের চাদর দিয়ে দিলে ওই সমস্যা আর থাকবে না। তার আগে বিদ্যুতের খুঁটি তুলে ফেলা জরুরি। বণ্টন সংস্থার কাছে অনুরোধ করেছি খুঁটিগুলি সরিয়ে দিতে।’’
পূর্ত দফতরের অভিযোগ মানতে রাজি নয় বণ্টন সংস্থা। সংস্থার তরফ জানান হয়েছে, সম্প্রতি পূর্ত দফতরের সঙ্গে তাদের আধিকারিকেরা রাজারহাট রোড পরিদর্শন করেছিলেন। তার পর থেকে বণ্টন সংস্থা পুরনো খুঁটি তুলে ফেলার কাজ জোর কদমে চালাচ্ছেন। চওড়া হওয়ার পরে রাস্তার নীচ দিয়ে বিদ্যুৎ এর কেবল বসার কথা।