আর জি কর হাসপাতাল। ফাইল চিত্র।
আর জি করের নিহত চিকিৎসক পড়ুয়ার ভিসেরা নমুনা নষ্ট করা হয়েছিল বলে এ বার অভিযোগ তুললেন তাঁর মা-বাবা। গত মে মাসে রাজ্য ফরেন্সিক পরীক্ষাগারের প্রাক্তন কর্মী পরিচয়ে পর পর দু’টি চিঠি পাঠিয়ে নির্যাতিতার বাবাকে এটাই জানানো হয়েছে বলে দাবি। বৃহস্পতিবার সেই চিঠি শিয়ালদহের অতিরিক্ত মুখ্য বিচার বিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে জমা করেছে নির্যাতিতার পরিবার।
সূত্রের খবর, চিঠিতে অভিযোগ করা হয়, ফরেন্সিক পরীক্ষার জন্য নির্যাতিতার শরীর থেকে সংগৃহীত ভিসেরার নমুনা বেলগাছিয়ার পরীক্ষাগার থেকে কেন্দ্রীয় ফরেন্সিক অ্যান্ড সায়েন্স ল্যাবরেটরিতে পাঠানোর আগেই বিকৃত করা হয়েছিল। এবং তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে সেই কাজ করা হয়েছিল। আরও অভিযোগ করা হয়েছে, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী এবং তৃণমূলের নির্দেশে রাজনৈতিক হিংসায় নিহত বিজেপি ও সিপিএম কর্মীদের অসংখ্য ভিসেরা নমুনার ক্ষেত্রেও একই ধরনের কারচুপির ঘটনা ঘটেছে।
এ দিন নির্যাতিতার বাবা-মায়ের আইনজীবী অমর্ত্য দে, রাজদীপ হালদারেরা আদালতে বলেন, “চিঠিতে জানানো হয়েছে এফএসএলের তিন আধিকারিক এই কাজের সঙ্গে জড়িত। তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী এবং তাঁর দলের নির্দেশে এই কাজ করা হয়েছিল। বিকৃত ওই ভিসেরার নমুনাই ফরেন্সিক বিশ্লেষণের জন্য পরে কেন্দ্রীয় পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়েছিল।” বিচারক সুলতান মামুদের কাছে অমর্ত্য আর্জি জানান, চিঠিটির সত্যতা তদন্ত করে দেখা হোক। সত্য হলে সেই অনুযায়ী পদক্ষেপ করা হোক। পাশাপাশি চিঠির বিষয়টি সিবিআই এবং আর জি কর তদন্তে গঠিত ‘সিট’-কেও জানানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন অমর্ত্য। তবে এ দিন আদালতে সিবিআইয়ের আইনজীবী ছিলেন না।
প্রসঙ্গত, সিবিআই তাদের স্টেটাস রিপোর্টে উল্লেখ করেছিল, ২০২৪-এর ৯ অগস্ট আর জি করের মর্গে নির্যাতিতার ময়না তদন্তের পরে ভিসেরা নমুনা সংরক্ষণ করা হয়। এবং ১৩ অগস্ট তা পরীক্ষার জন্য বেলগাছিয়ার পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়। যদিও নমুনা পাঠাতে চার দিন কেন দেরি হয়েছিল, তার ব্যাখ্যা কলকাতা পুলিশ দিতে পারেনি। এ দিন নির্যাতিতার বাবা আবারও বলেন, “সিবিআই নিজের কাজ ঠিক মতো করছে না।”
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে