১৭৬৯ সালে মাদ্রাজ বন্দরে পা রাখলেন টিলি কেটল। ছবি আঁকার কাজে এ দেশে আসা তিনিই প্রথম গুরুত্বপূর্ণ ব্রিটিশ শিল্পী। তার পরে নিয়মিত ভাবে ইউরোপ থেকে শিল্পীরা ভারতে আসা শুরু করেন। প্রতিকৃতি ছাড়াও তাঁদের আঁকা ভারতের প্রকৃতি ও নানান স্থাপত্যের ছবি সমসাময়িক ইতিহাসের নির্ভরযোগ্য দলিল রূপে স্বীকৃতি পেয়েছে। আজও তাই বিদেশিদের চোখে দেখা ভারত নিয়ে আলোচনা সম্পূর্ণ হয় না কেটল, জোফানি, সলভিন্স বা ড্যানিয়েলদের মতো প্রথম যুগের চিত্রকরদের কথা ছাড়া।
শুরুর দিকে যে বিদেশি শিল্পীরা ভারতে আসতেন, তাঁদের লক্ষ্য ছিল ভারতের প্রাচীন সভ্যতা ও ইতিহাসকে পশ্চিমে পরিচিত করানো। কিন্তু উনিশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধ থেকে যে বিদেশি ‘ওরিয়েন্টালিস্ট’ চিত্রশিল্পীরা এলেন, তাঁরা ভারতের সাধারণ মানুষের জীবনকে খুব কাছ থেকে দেখার চেষ্টা করলেন। ভিক্টোরীয় যুগে যখন ইউরোপে ভারত-চর্চা আরও বাড়ল, তখন এই শিল্পীরা মূলত বাজার ও রাস্তার দৃশ্য, মানুষের রোজকার জীবন নিয়ে ছবি আঁকা শুরু করেন। এডওয়ার্ড লিয়ার থেকে শুরু করে অন্য পর্যটক-শিল্পীদের কাজে এই দৃষ্টিভঙ্গির সমতা দেখা যায়।
তুলনামূলক ভাবে এই দ্বিতীয় গোষ্ঠীর শিল্পীদের কথা যেন অনেকটাই আলোচনার বাইরে থেকে গেছে। এই বিষয়টি নজরে রেখে দিল্লি আর্ট গ্যালারি মিউজ়িয়মস, আলিপুর মিউজ়িয়মের সঙ্গে যৌথভাবে আয়োজন করেছে ‘ডেস্টিনেশন ইন্ডিয়া: ফরেন আর্টিস্টস ইন ইন্ডিয়া, ১৮৫৭-১৯৪৭’ নামে এক প্রদর্শনী। ভারতের মহাবিদ্রোহ থেকে শুরু করে স্বাধীনতা পর্যন্ত দীর্ঘ সময়কালে ব্রিটেন ছাড়াও জার্মানি, হল্যান্ড, ডেনমার্ক, ফ্রান্স, আমেরিকা ও জাপানের মতো বিশ্বের নানা দেশ থেকে যে শিল্পীরা ভারতে এসেছিলেন, তাঁদের কাজ এখানে তুলে ধরা হয়েছে। এই কাজগুলোকে ‘ওরিয়েন্টালিস্ট আর্ট’-এর শেষ পর্যায়ের অনন্য উদাহরণ হিসেবে দেখা যেতে পারে।
যেমন, উদাহরণ হিসাবে বলা যায় ওলন্দাজ শিল্পী মারিয়ুস বাউয়ার-এর তুলিতে হুমায়ুনের সমাধির বিশাল স্থাপত্যের প্রেক্ষাপটে সাধারণ মানুষের ব্যস্ততা, কিংবা দিনেমার শিল্পী হুগো পেদারসন-এর মন্দিরের প্রবেশপথের ছবির কথা। ইটালীয় শিল্পী ওলিন্তো গিলার্দি-র কাজে ধরা দিয়েছে ভারতের সাংস্কৃতিক ঐশ্বর্য। উল্লেখ্য, এই গিলার্দির কাছেই অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর কিছু দিন জলরঙের পাঠ নিয়েছিলেন; শশীকুমার হেশ ও রোহিণীকান্ত নাগের মতো বাঙালি শিল্পীদের গড়ে তোলার পিছনেও তাঁর বড় ভূমিকা ছিল। এই শিল্পীরা ছাড়াও প্রদর্শনীতে উইলিয়াম সিম্পসন, এরিখ কিপস, এডউইন লর্ড উইকস এবং হিরোশি ইয়োশিদা-র মতো চিত্রশিল্পীদের কাজের নিদর্শন দেখা যাবে।
জাইলস টিলটসন-এর কিউরেশনে সাজানো প্রদর্শনীটি দিল্লি ও মুম্বই ঘুরে এ বার কলকাতায়। আলিপুর মিউজ়িয়মে গতকাল ছিল বিশেষ প্রদর্শন, সকলের জন্য উন্মুক্ত আজ ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে। দেখা যাবে আগামী ২ মে পর্যন্ত। প্রদর্শনীর সঙ্গে প্রকাশিত, শশী তারুরের ভূমিকা-সহ ফেরোজ়া গোদরেজ ও জাইলস টিলটসন-এর লেখা বইটি বিদেশি শিল্পীদের চোখে দেখা ভারত নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি এ দেশের শিল্প, সংস্কৃতি ও ইতিহাস সম্পর্কেও মানুষের কৌতূহল জাগাবে। ছবি, প্রদর্শনী থেকে।
সুরসাগর
কুমিল্লার সন্তান, ছত্রিশ বছরের স্বল্পায়ু জীবন ছিল সুরসাগর হিমাংশু দত্তের (ছবি)। যৌবনে সুরসঙ্গী গীতিকার অজয় ভট্টাচার্য, শিল্পী-সুরকার শচীন দেব বর্মণ। চাঁদ-চামেলী সিরিজ়ের অবিস্মরণীয় সব গান থেকে গিয়েছে ইতিহাসে: ছিল চাঁদ মেঘের পারে, চাঁদ কহে চামেলী গো, আলোক আঁধার যেথা করে খেলা— আজও তারা সুররসিকের স্মৃতির অক্ষয় ধন। পাশ্চাত্য-হারমোনির সার্থক প্রয়োগে দেশজ কথা ও কণ্ঠগুলিতে এই শিল্পী আনতে পেরেছিলেন অন্য বিভা। নিভৃতে সেই সব গানের চর্চা হয় আজও। রজনীকান্ত সেনের দৌহিত্র দিলীপকুমার রায়ের সুরসঙ্গী অর্চনা ভৌমিক তেমনই এক বিরল কারিগর— ছাত্রছাত্রী গড়ছেন নিরলস। ওঁরই নেতৃত্বে, ‘সুরে সুরে সুরসাগর’ শিরোনামে অনুষ্ঠান আগামী কাল ১ মার্চ, বিকেল ৫.৪৫-এ অশ্বিনী দত্ত রোডে শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের বাসভবনে, ‘মধুরা’ শিল্পীগোষ্ঠীর অনুষ্ঠান। রবীন্দ্র-পরবর্তী সুরসাধনার নিবিষ্ট সাধক হিমাংশু দত্তকে ফিরে শোনার এ সুবর্ণসুযোগ ছাড়ার নয়।
ভরসায় থিয়েটার
কোভিডকালে নাট্যকর্মীদের অসহায়তা বুঝে, ২০২০-র মার্চে বিশিষ্ট নাট্যজনদের শুভবোধ থেকে জন্ম নেয় সংগঠন ‘সৌভ্রাতৃত্ব’। গড়া হয় আর্থিক তহবিল, লকডাউনের প্রথম বছরে দেড়শোরও বেশি অভিনেতা-কলাকুশলী সাহায্যধন্য, উপকৃত হয় প্রায় ১৮০টি পরিবার। নাট্যকর্মী, নেপথ্যশিল্পীদের পাশে দাঁড়ানোর সেই ব্রত চলছে আজও, পাশাপাশি প্রবীণ নাট্যগুরুদের কৃতির সংরক্ষণ ও প্রদর্শন, প্রয়াত নাট্যজনের স্মরণ। কাজ বেড়েছে, প্রত্যাশাও, চাই অর্থও। সেই লক্ষ্যে এ বার ওঁদের উদ্যোগ ‘ভরসা ও ভালবাসার থিয়েটার উৎসব’। ১-৪ মার্চ অ্যাকাডেমি মঞ্চে পাঁচটি নাটক— ফ্র্যাঙ্কেনস্টাইন, গল্পে যা নেই, যে জানলাগুলোর আকাশ ছিল, আক্ষরিক ও ভানু।
বিজ্ঞান দিবসে
১৯৩০-এ সি ভি রমন নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন ‘রমন এফেক্ট’ আবিষ্কারের জন্য। তা মনে রেখে প্রতি বছর ২৮ ফেব্রুয়ারি ভারতে পালিত হয় জাতীয় বিজ্ঞান দিবস। আজ শহরে দিনটি পালন করছে নীলরতন সরকার মেডিক্যাল কলেজ (এনআরএস) ও দ্য সায়েন্স অ্যাসোসিয়েশন অব বেঙ্গল, এনআরএস প্রেক্ষাগৃহে। মানুষকে বিজ্ঞানমুখী করে তোলার পাশাপাশি নতুন আবিষ্কার ও উদ্ভাবনে উৎসাহ দেওয়াই লক্ষ্য। এ বছর বিজ্ঞান-প্রযুক্তিতে নারীদের সাফল্য বিশেষ ভাবে তুলে ধরা হবে, সম্মানিত হবেন বিজ্ঞানক্ষেত্রে সফল নারীরা। এনআরএস-এর শিক্ষার্থীরা চিকিৎসাবিজ্ঞানের নানা উন্নতি নিয়ে প্রদর্শনীর আয়োজন করছে। বিজ্ঞান-প্রযুক্তি ও চিকিৎসাজগতের গুণিজন আলোচনা করবেন নানা দিক নিয়ে।
গানের বাড়ি
কলকাতার সাংস্কৃতিক মানচিত্রে মার্বেল প্যালেসে সুতানুটি উৎসবে রাত-জাগা শাস্ত্রীয় সঙ্গীতানুষ্ঠানের আছে নিজস্ব আসন। পারভিন সুলতানার তারসপ্তকের সুরমূর্ছনায় বাড়ির চিড়িয়াখানার পক্ষিকুলের অসময়ে জেগে ওঠার কলতানও কিংবদন্তিসম। মধ্যরাতে আলি আকবর খাঁ শোনাচ্ছেন নতুন রাগ, সঙ্গতে স্বপন চৌধুরী; সামনে বসে তবলার প্রবাদপ্রতিম শিল্পী, উস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁর সঙ্গতকার হীরু গাঙ্গুলি: অক্ষয় স্মৃতি। ‘গানের বাড়ি’ মার্বেল প্যালেসের পারিবারিক উদ্যোগে এ বার মার্গসঙ্গীত অনুষ্ঠান সেখানে, আগামী কাল ১ মার্চ সন্ধ্যা ৬টায়। সরোদ-সানাই দ্বৈতবাদন, খেয়াল ও ঠুংরি: উস্তাদ হাসান হায়দার খান তপেন্দ্র মল্লিক পণ্ডিত রাজেন সিজুয়ার পণ্ডিত সুখদেব মিশ্র সৌমেন নন্দী ও পিনাকী চক্রবর্তীর পরিবেশনা।
উৎসবময়
তৃপ্তি মিত্র, বাদল সরকার, সলিল চৌধুরী ও ঋত্বিক ঘটক স্মরণে নিবেদিত ‘পূর্ব পশ্চিম’ নাট্যদলের ষোড়শ নাট্য উৎসব, আগামী ৬ থেকে ১০ মার্চ অ্যাকাডেমি মঞ্চে। পূর্ব পশ্চিম-এর এক মঞ্চ এক জীবন, আ-শক্তি, শ্রী ও নিধুবাবু কথা ছাড়াও ‘থিয়েটার প্ল্যাটফর্ম’, ‘বাংলা অপেরা’, ‘ইচ্ছেমতো’ ও ‘চেতনা’র প্রযোজনায় কল্পনার অতীত, কথা ছিল হেঁটে যাব ছায়াপথ, যে জানলাগুলোর আকাশ ছিল ও মেঘে ঢাকা ঘটক। আ-শক্তি দেবশঙ্কর হালদার অভিনীত শততম নাটক, এই কীর্তি উদ্যাপনে পূর্ব পশ্চিম জীবনকৃতি সম্মাননায় ভূষিত হবেন তিনি, থাকবেন রুদ্রপ্রসাদ সেনগুপ্ত ও জয় গোস্বামী; অভিনেতাকে নিয়ে বেরোবে পুস্তিকা। রমাপ্রসাদ বণিক স্মৃতি পুরস্কারে সম্মানিত হবেন পদ্মনাভ দাশগুপ্ত। রোজ বেরোবে থিয়েটার বুলেটিন, সুমন কবিরাজের আর্ট ইনস্টলেশনে সেজে উঠবে প্রাঙ্গণ।
স্মরণে, সম্মিলনে
স্কুল ছুটির পর মারামারিই নিত্য রুটিন ছিল দুরন্ত ছেলেটার। একটু উঁচু ক্লাসে উঠে ছবি এঁকে প্রাইজ় পেলেন, স্কুল-পত্রিকায় কবিতা লিখে বাংলার শিক্ষক সাহিত্যিক তারাপদ রাহার প্রশংসাও। জগদ্বন্ধু ইনস্টিটিউশনের সেই ছাত্রই পরবর্তী কালে খ্যাত গীতিকার গৌরীপ্রসন্ন মজুমদার (ছবিতে বাঁ দিকে)। ত্রিশের দশকে এই স্কুলের ছাত্র তিনি, পঞ্চাশের দশকে সেখানেই মাস্টারমশাই জ্যোতিভূষণ চাকি (ডান দিকের ছবি)। “আপনি কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করেন?” রমারঞ্জন মুখোপাধ্যায়ের প্রশ্নে যিনি বলেছিলেন, “ফার্ন রোডের বাঁকে জগদ্বন্ধু বিশ্ববিদ্যালয়ে।” দক্ষিণ কলকাতার শতাব্দীপ্রাচীন এই স্কুলের প্রাক্তনীরা দুই প্রবাদপ্রতিম ব্যক্তিত্বের শতবর্ষ উদ্যাপন করবেন পুনর্মিলন উৎসবে। আজ বিকেল ৫টায় বিদ্যালয়-মিলনায়তনে জ্যোতিভূষণ ও ভাষা নিয়ে আলোচনায় পবিত্র সরকার ও সঞ্জয় ঘোষ; গৌরীপ্রসন্নের গান শোনাবেন অলক রায়চৌধুরী। প্রকাশিত হবে স্মারক পত্রিকাও।
শতবর্ষী
এ বছর নট ও নির্দেশক কুমার রায়ের (ছবি) জন্মশতবর্ষ। শম্ভু মিত্রের ছাত্র ছিলেন, পরে দীর্ঘ সময় ধরে শম্ভু মিত্র প্রতিষ্ঠিত ‘বহুরূপী’ নাট্যদলের কান্ডারি ছিলেন তিনি। ‘কুমার রায় স্মৃতিরক্ষা সমিতি’-র সহযোগিতায় বহুরূপী এ বার ‘কুমার রায় স্মারক বক্তৃতা’ অনুষ্ঠান আয়োজন করেছে। আগামী ২ মার্চ সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি সভাগৃহে এ বছরের স্মারক বক্তৃতার বক্তা পদ্মশ্রী সম্মানপ্রাপ্ত বিশিষ্ট নাট্যনির্দেশক, নীলম মান সিংহ চৌধুরী। অনুষ্ঠানের সঞ্চালনায় থাকবেন নাট্য-সমালোচক শমীক বন্দ্যোপাধ্যায়। অন্য দিকে, কুমার রায়ের জন্মশতবর্ষে ‘জীবনস্মৃতি আর্কাইভ’-এর শ্রদ্ধার্ঘ্য— ইন্দ্রপ্রমিত রায় প্রযোজিত ও অরিন্দম সাহা সরদার পরিচালিত সাক্ষীচিত্র আমি থিয়েটারের লোক। আগামী কাল ১ মার্চ সন্ধ্যা ৬.১৫-য় প্রথম প্রদর্শন সল্টলেকে ‘অন্য থিয়েটার’ ভবনে।
সিনেমা-যাপন
সিনেমায় শুধু গল্প বলাটাই কি শেষ কথা? নন-ফিকশন সিনেমার ধারাটি সমৃদ্ধ করে চলেছেন দেশ-বিদেশের তথ্যচিত্র-প্রামাণ্যচিত্র তথা ডকুমেন্টারি-নির্মাতারা, গত বাইশ বছর ধরে বসন্তের কলকাতা সাক্ষী তাঁদের সম্মিলনের। ভারতের একমাত্র ডকুমেন্টারি ফিল্ম ফোরাম ও ল্যাব ‘ডকেজ কলকাতা’র ২৩তম অধিবেশন আগামী ২-৯ মার্চ। কলকাতা, ভারত ও বিশ্বের নানা প্রান্তের তথ্যচিত্র-চিন্তকেরা আসবেন তাঁদের নতুন চিন্তাভাবনা, ছবির ধারণা, তৈরি হতে-চলা ছবির টুকরো অংশ নিয়ে, বিশেষজ্ঞ তথা ‘মেন্টর’দের সঙ্গে বসবেন সম্ভাব্য ছবির নির্মাণ থেকে বিপণন সব কিছু ঘিরেই। গত দু’দশকে এই প্রক্রিয়াই জন্ম দিয়েছে সাড়া ফেলে দেওয়া ছোট-বড় নানা তথ্যচিত্রের। এ বারের থিতু ঠিকানা গ্যেটে ইনস্টিটিউট, সঙ্গে চার দিন ছবির উৎসব: নন্দন, আইসিসিআর, এসআরএফটিআই-এ। মাস্টারক্লাস, আলোচনা, কথোপকথন— আট দিন ধরে ভিন্নধারার সিনেমা-যাপন।
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে