—প্রতীকী চিত্র।
থানার সাইনবোর্ডে নাম বদলেছে, কিন্তু ভাঙড়ের মাটিতে পুলিশের শক্তি কি আদৌ বেড়েছে? কলকাতা পুলিশের ভাঙড় ডিভিশনের বাস্তব ছবি ঘিরে এই প্রশ্নই উঠছে। অভিযোগ, প্রয়োজনীয় জনবল ও পরিকাঠামো ছাড়াই গ্রামীণ ভাঙড়ে শহুরে পুলিশি পরিকাঠামো ‘চাপিয়ে’ দেওয়া হয়েছে। ফলে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষার বদলে থানা চালানোই চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
২০২৪ সালের ৮ জানুয়ারি রাজ্য পুলিশের ভাঙড় ও কাশীপুর থানা এলাকা নিয়ে কলকাতা পুলিশের অধীনে ভাঙড় ডিভিশনের সূচনা হয়। দু’টি থানার পরিবর্তে আটটি থানা চালু করার পরিকল্পনা হয়। প্রথম পর্যায়ে ভাঙড়, চন্দনেশ্বর, উত্তর কাশীপুর ও পোলেরহাট থানা চালু হলেও শুরু থেকেই জনবল ও পরিকাঠামোগত ঘাটতির অভিযোগ ছিল। সম্প্রতি চন্দনেশ্বর থানা ভেঙে মাধবপুর থানা হওয়ার পরে সেই সমস্যা আরও প্রকট হয়েছে।
চন্দনেশ্বর থানায় প্রথমে আট জন সাব-ইনস্পেক্টর, দু’জন মহিলা সাব-ইনস্পেক্টর, দু’জন সার্জেন্ট, ১১ জন এএসআই, এক জন মহিলা এএসআই, ৩৭ জন কনস্টেবল, ১১ জন মহিলা কনস্টেবল ও ৪৫ জন সিভিক ভলান্টিয়ার ছিলেন। গত ১০ ডিসেম্বর মাধবপুর থানা চালু হলে সেখানকার অধিকাংশ পুলিশকর্মীকেই চন্দনেশ্বর থানা থেকে পাঠানো হয়। ফলে, মাধবপুর থানায় বর্তমানে ছ’জন এসআই, দু’জন মহিলা এসআই, দু’জন সার্জেন্ট, এক জন মহিলা এএসআই, ১০ জন এএসআই, ২৫ জন কনস্টেবল ও ছ’জন মহিলা কনস্টেবল রয়েছেন। সিভিক ভলান্টিয়ারের সংখ্যা মাত্র ২৪। এত কম কর্মী নিয়ে থানা চালানো কার্যত অসম্ভব বলেই মত পুলিশের একাংশের।
সেই সঙ্গে বড় সমস্যা গাড়ির সঙ্কট। এক পুলিশকর্মীর অভিযোগ, থানার প্রিজ়ন ভ্যান দুর্ঘটনার পরে দীর্ঘদিন গ্যারাজে পড়ে। তিনটি সরকারি গাড়ির মধ্যে দু’টি ব্যবহার করেন ওসি ও অতিরিক্ত ওসি। ফলে এলাকায় টহল, অভিযান বা থানার কাজে ভরসা মাত্র একটি গাড়ি। একই অবস্থা উত্তর কাশীপুর, পোলেরহাট ও ভাঙড় থানারও। আগামী ফেব্রুয়ারিতে উত্তর কাশীপুর থানা ভেঙে বিজয়গঞ্জ বাজার থানা চালু হলে ওই এলাকায় পুলিশকর্মী ও গাড়ির সংখ্যা আরও কমে যাবে বলেই আশঙ্কা করছেন অনেকে। অন্য দিকে, চালতাবেড়িয়ায় কর্মতীর্থ ভবন ফাঁকা থাকা সত্ত্বেও ভাঙড় থানার ৫০০ মিটারের মধ্যে কেন বাড়ি ভাড়া নিয়ে বিজয়গঞ্জ বাজার থানা তৈরি হচ্ছে, সেই প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয়েরা।
ভাঙড়ের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বিভিন্ন সময়ে প্রশ্ন উঠলেও গত দু’বছরে তেমন বড় কোনও অবনতি হয়নি। তবে, গত বছরের ১৪ এপ্রিল ওয়াকফ সংশোধনী বিলের প্রতিবাদে আইএসএফ-সহ বিভিন্ন মুসলিম সংগঠনের মিছিলে পুলিশকে মারধরের ঘটনা ঘটে। এ ছাড়া, ভাঙড়ের তৃণমূল নেতা রাজ্জাক খান ভাঙড়ের বিজয়গঞ্জ বাজারের অদূরে খালধারে খুন হন।
দু’বছর পরেও ভাঙড় ডিভিশনে চালু হয়নি আলাদা ব্যাটালিয়ন। এ ছাড়া, ডিটেক্টিভ ডিপার্টমেন্ট (ডিডি), স্পেশাল ব্রাঞ্চ (এসবি) চালু হলেও পরিকাঠামোগত সমস্যায় ঠিকমতো কাজ হচ্ছে না। ভাঙড়ের গোটা এলাকা আজও সিসি ক্যামেরার আওতার বাইরে। এ ছাড়া, কলকাতায় ‘নবদিশা স্কুল’-সহ কলকাতা পুলিশের একাধিক সামাজিক প্রকল্প থাকলেও তা ভাঙড় ডিভিশনে এখনও চালু করা যায়নি।
তাই বিধানসভা ভোটের আগে ভাঙড় ডিভিশনের পরিকাঠামো ঢেলে সাজানো না হলে সুষ্ঠু ও অবাধে ভোট করা কঠিন হয়ে পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন পুলিশের একাংশ। এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে ভাঙড় ডিভিশনের এক কর্তা বলেন, ‘‘কিছু পরিকাঠামোগত সমস্যা রয়েছে ঠিকই। তার মধ্যেও আমাদের কাজ চালাতে হচ্ছে। সমস্যার কথা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।’’
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে