বিধাননগর পুরসভা।
মেয়র পদ থেকে কৃষ্ণা চক্রবর্তীর ইস্তফার পরেই জল্পনা শুরু হয়েছিল। দু’দিনের মাথায় সেই জল্পনাই সত্যি হল। বিধাননগর পুরসভার পুরবোর্ড ভেঙে দিয়ে প্রশাসক নিয়োগ করল রাজ্য সরকার। পুর ও নগরোন্নয়ন দফতর সূত্রের খবর, শনিবার বিধাননগর পুরসভার কমিশনার রবি আগরওয়ালকেই প্রশাসক হিসেবে নিয়োগের নির্দেশ জারি হয়েছে।
পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল জানিয়েছেন, কিছু দিনের মধ্যেই বর্ষা শুরু হবে। পুরপ্রতিনিধিরা দায়িত্ব পালন করতে না পারলে প্রশাসকের মাধ্যমেই পরিষেবা চালাতে হবে। তবে পুরবোর্ড ভাঙার বিষয়ে সরকারি ভাবে এখনও অবহিত নন বলে জানিয়েছেন কয়েক জন পুরপ্রতিনিধি।
গত বৃহস্পতিবার মেয়র পদ থেকে ইস্তফা দেন কৃষ্ণা চক্রবর্তী। সরকারি ভাবে ব্যক্তিগত কারণের কথা বললেও পরে জানান, কার্যত কাজ করা যাচ্ছিল না। তাঁর অভিযোগ, বহু পুরপ্রতিনিধি পুরসভায় আসছিলেন না। মেয়র পারিষদ ও পুরপ্রতিনিধিদের নিয়ে বৈঠকও করা যাচ্ছিল না। ফলে নাগরিক পরিষেবা ব্যাহত হচ্ছিল।
অন্য দিকে, কৃষ্ণার ইস্তফাকে ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন পদক্ষেপ’ বলে মন্তব্য করেছিলেন পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী। তিনি সংবাদমাধ্যমে জানিয়েছিলেন, অসুবিধা থাকলে সরকারকে জানানো যেত, প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হত। তবে সদ্য প্রাক্তন মেয়র নিজের সিদ্ধান্তে অনড় থাকেন।
তৃণমূলের একাংশের দাবি, পালাবদলের পরে বহু পুরপ্রতিনিধি এলাকায় ফিরতে পারছেন না। কয়েক জন গ্রেফতার হয়েছেন। তাঁদের অভিযোগ, এক দিকে কাজ চালিয়ে যেতে বলা হয়েছে, অন্য দিকে গ্রেফতারি ও বাড়িতে চড়াও হওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।
বিজেপির পাল্টা দাবি, তৃণমূলের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের ভিত্তিতেই আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। দীর্ঘ দিন ধরে তোলাবাজি, হুমকি ও মারধরের অভিযোগে ক্ষুব্ধ মানুষ এখন প্রকাশ্যে অভিযোগ জানাচ্ছেন।
বিজেপি নেতা দেবাশিস জানা বলেন, ‘‘মেয়র ইস্তফা দিয়েছেন। পরিষেবা স্বাভাবিক রাখতে রাজ্য সরকার প্রশাসক বসাল।’’
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে