(বাঁ দিকে) শমীক ভট্টাচার্য। পার্থ ভৌমিক (ডান দিকে)। —ফাইল চিত্র।
বাংলা কবিতার ক্ষেত্রে জীবনানন্দ দাশের পর সেরা কবির শিরোপা অনেকেই দিয়ে থাকেন ‘রাস্তা বদল হয় মাঝ রাতে’র কবি শক্তি চট্টোপাধ্যায়কে। সাহিত্য-নাটকের অনুরাগী বিজেপি রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের প্রিয় কবি সেই শক্তি। কবির টানেই শনিবার অ্যাকাডেমি অফ ফাইন আর্টসে উপস্থিত হয়েছিলেন বিজেপির রাজ্যসভার সাংসদ। যে নাটক তিনি দেখলেন, তার অভিনেতা আবার তৃণমূল সাংসদ পার্থ ভৌমিক!
রাজনৈতিক ভাষণে শক্তির কোনও কবিতার পঙ্ক্তি শমীক উদ্ধৃত করেনই করেন। কবির জীবন অবলম্বনে ‘আ-শক্তি’ ইতিমধ্যে মঞ্চসফল নাটক। শক্তির সৃষ্টি ও জীবনদর্শনের উপর ভিত্তি করে নাট্যদল ‘পূর্ব-পশ্চিম’ প্রযোজিত ওই নাটকের নাট্যকার উজ্জ্বল চট্টোপাধ্যায়। কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেছেন দেবশঙ্কর হালদার। ‘কলকাতা’ শহরের রূপক চরিত্রে অভিনয় করেছেন সাংসদ এবং অভিনেতা পার্থ। বিকেলে সেই নাটক দেখার পর গ্রিন রুমে গিয়ে পার্থ-সহ অভিনেতাদের অভিনন্দন জানিয়েছেন মুগ্ধ শমীক। তার পর অ্যাকাডেমি চত্বরে দাঁড়িয়ে তাঁর ঘোষণা, ‘‘শিল্পী এবং শিল্পসত্ত্বাকে খুন করার অধিকার কোনও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব তথা সরকারের নেই। নাটক নাটকের মতো চলবে।’’
অভিনেতা পার্থ ভৌমিকের যে তিনি ভক্ত, সেটা আগেও বলেছেন বিজেপি নেতা। আবার পার্থের অভিনয় দক্ষতার প্রশংসা করে শমীক বলেন, ‘‘পার্থ যখন নেতা হয়নি, তখন থেকে আমি ওর অভিনয় দেখেছি। নেতা পার্থ আমার কাছে নতুন ছিল, অভিনেতা নয়।’’
পূর্বতন সরকারের আমলে বিরোধী রাজনৈতিক স্বর উচ্চারিত হলেই সেই শিল্পকর্ম ‘নিষিদ্ধ’ হত বলে বার বার অভিযোগ উঠেছে। শমীক জানাচ্ছেন, নতুন সরকারের আমলে সেই সংস্কৃতি অতীত। তাঁর কথায়, ‘‘কোনও শিল্পসত্ত্বাকে খুন করার অধিকার কোনও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, কোনও সরকারের নেই। নাটক নাটকের মতো চলবে। সরকারের সমালোচনাও হবে। সরকারের বিচ্যুতি তুলে ধরে যদি কেউ নাটক করতে চান, কেউ কবিতা লিখতে চান, কেউ প্রবন্ধ লিখতে চান, যদি তাতে কেউ বাধা দেন, আমার মনে হয়, সে দিনই এই দেশের, এই মাটির, এই সংস্কৃতির মৃত্যু ঘটবে।’’
বিজেপি সরকারের আমলে রাজ্য রাজধানীতে শিল্পীদের জন্য বড় ঘোষণা হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন শমীক। তাঁর কথায়, ‘‘আমাদের দেশের বর্তমান কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যৌবনে নাট্যকর্মী ছিলেন। এমনকি, তিনি অহমেদাবাদ থেকে ট্রেনে চেপে পৃথ্বী থিয়েটারে (মুম্বই) নাটক দেখতে যেতেন। তিনি তো ঘোষণা করেইছেন যে পুণেতে যেমন ফিল্ম ইনস্টিটিউট আছে, কলকাতাতেও নাট্যচর্চার কেন্দ্র তৈরি হবে। একমাসের মধ্যে সরকারি ঘোষণা পাবেন।’’
অন্য দিকে, দর্শক শমীককে নিয়ে কোনও মন্তব্য করতে চাননি অভিনেতা পার্থ।