প্রতীকী ছবি।
বারো তলার ফ্ল্যাটের বারান্দা থেকে পড়ে মৃত্যু হল এক ব্যক্তির। শুক্রবার সকাল ৬টা নাগাদ ঘটনাটি ঘটেছে লাউডন স্ট্রিটের একটি বহুতলে। পুলিশ জানিয়েছে, মৃতের নাম মুকেশ খেমকা (৫২)। তিনি পড়ে যাওয়ার পরেই দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করা হয়।
প্রাথমিক তদন্তের পরে ওই ব্যক্তি আত্মঘাতী হয়েছেন বলেই অনুমান পুলিশের। তবে সুইসাইড নোট মেলেনি। তদন্তকারীদের দাবি, মৃতের পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, মুকেশ সম্প্রতি ব্যবসা সংক্রান্ত গোলমাল ও মেদবাহুল্যজনিত সমস্যার জেরে গভীর অবসাদে ভুগছিলেন। তাঁর ওজন ১০০ কেজির বেশি হওয়ায় চেষ্টা করছিলেন ওজন কমাতে। এর জন্য হাঁটতেন ও শারীরচর্চা করতেন। তার পরেও ওজন না-কমায় অবসাদে ভুগছিলেন তিনি। তার ওষুধও মুকেশ খাচ্ছিলেন বলে পরিবারের তরফে পুলিশকে জানানো হয়েছে। ওজনের জন্য তাঁকে কোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হয়েছিল কি না, তা খোঁজ নিচ্ছে পুলিশ।
ওই আবাসনের নিরাপত্তারক্ষীরা জানান, এ দিন সকাল ৬টা নাগাদ ওই বহুতলের নীচে সিমেন্টের চাতালে ভারী কিছু পড়ার শব্দ শুনতে পান তাঁরা। সেখানে পৌঁছে তাঁরা দেখেন, মুকেশ রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছেন। পরিবারের লোক ও আবাসনের বাসিন্দারা তাঁকে কাছেই একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা মৃত বলে জানান।
এ দিন ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, মুকেশ যেখানে পড়েছিলেন, সেই জায়গাটি দড়ি দিয়ে ঘিরে রাখা রয়েছে। সংবাদমাধ্যমকে আবাসনের ভিতরে ঢুকতে দেননি নিরাপত্তারক্ষীরা। কথা বলতে রাজি হননি মৃতের পরিজনেরাও। এ দিনের ঘটনায় হতভম্ব ওই আবাসনের অন্য বাসিন্দারাও। তাঁরা বিষয়টি নিয়ে মন্তব্য করেননি। এক আবাসিক শুধু বলেন, ‘‘মুকেশকে সকালে হাঁটতে যেতে দেখতাম। তিনি অবসাদে ভুগছিলেন কি না, তা জানি না।’’ শেক্সপিয়র থানার এক পুলিশ আধিকারিক বলেন, ‘‘মৃতের বড় ব্যবসা ছিল। তাঁর পরিবারের তরফে ওজন সংক্রান্ত সমস্যার জেরে অবসাদের বিষয়টি জানানো হয়েছে। পুলিশ সব দিক খতিয়ে দেখছে।’’
এই ঘটনার প্রেক্ষিতে মনোরোগ চিকিৎসক অনিরুদ্ধ দেব বলেন, ‘‘মেদবাহুল্যের জন্য কেউ কটূক্তি করলে তাঁকে মনে করিয়ে দিতে হবে, আমরা কেউ-ই ‘পারফেক্ট’ নই। আরও বলতে হবে যে, তিনি মজা পেলেও আসলে তা তাঁর মনের সঙ্কীর্ণতার প্রকাশ। আর বেশি ওজনের সমস্যা থাকলে পরিবারের সহায়তা নিন, নিজের উপরে বিশ্বাস রাখুন। নানা কাজে নিজেকে যুক্ত করুন। প্রয়োজনে চিকিৎসকের সাহায্য নিন।’’