সুগত মারজিত
কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনের দিনেই প্রাধান্য পেয়ে গেল আর্থিক তছরূপের অভিযোগে ফিনান্স অফিসারের সাসপেন্ডের প্রসঙ্গ।
এই প্রথম ওই বিষয়ে সরাসরি মুখ খুললেন উপাচার্য সুগত মারজিত। বুধবার সমাবর্তনের পরে নিজের ঘরে বসে উপাচার্য দ্রুত তদন্ত না হওয়ায় বিরক্ত প্রকাশ করার পাশাপাশি ইঙ্গিত দিয়ে বললেন, ‘‘ওঁর (ফিনান্স অফিসার) আমলে বহু কাজই কোনও রকম তথ্যপ্রমাণ ছাড়াই হয়েছে। কোনও কর্তৃপক্ষ বা ফিনান্স কমিটির কোনও রিস্যোলিউশন নেই। কোনও লিখিত প্রমাণ নেই। ফলত এখন কাজ গিয়ে সমস্যায় পড়তে হয়।’’ এ বিষয়ে অবশ্য যৌথ মঞ্চের আহ্বায়ক দিব্যেন্দু পাল বলেন, ‘‘যেটাই হোক তদন্ত করে বের করা দরকার। আমরা শ্বেতপত্র প্রকাশ তো করতেই বলেছি।’’
আর্থিক তছরূপের অভিযোগে সাসপেন্ড করা হয়েছে ফিনান্স অফিসার হরিসাধন ঘোষকে। তবে এর পিছনে অন্য রাজনীতি রয়েছে বলে অভিযোগ তুলে জুন মাসে শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মচারিরা যৌথ মঞ্চ গঠন করে তদন্তের দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন। উপাচার্য হিসাবে সুগতবাবু দায়িত্ব নেওয়ার পরেই তাঁকে কমিটি গঠন করে দ্রুত তদন্ত করার নির্দেশ দেন রাজ্যপাল তথা আচার্য কেশরীনাথ ত্রিপাঠী। কিন্তু সেই তদন্তের কাজ শেষ না হওয়ায় সমাবর্তনের আগের দিন সারা রাত অবস্থানে বসেন যৌথমঞ্চ। অথচ বুধবার উপাচার্যকে পাশে বসিয়েই আচার্য ‘‘বিশ্ববিদ্যালয়ে শান্তির পরিবেশ রয়েছে।’’ এরপরে প্রশ্ন উঠে যায় বিক্ষোভের পরের দিনই অনুষ্ঠানে কী ভাবে শান্তিপূর্ণ বললেন আচার্য?
উপাচার্যের মন্তব্য,‘‘ওঁরা যে আন্দোলন করছেন সেটার তো ভিত্তি আছে। তদন্ত কমিটির রিপোর্ট না আসায় আমিও উদ্বিগ্ন। আমি নিজে অনেকবার চিঠি দিয়েছি শৃঙ্খলারক্ষা কমিটিকে। ওঁরা বলছেন আইনগত পদক্ষেপ রয়েছে কিছু। সেখানে তো আমার হাত পা বাঁধা।’’ এছাড়া অনভিপ্রেত কোনও ঘটনা না ঘটায় রাজ্যপালের একথা মনে হয়ে থাকতে পারে বলে ধারনা উাপাচার্যের।
এরপরই অবশ্য তিনি ইঙ্গিত দেন নিয়ম না মেনে কাজ হয়েছে হরিসাধনবাবুর আমলেই।
বিধি তৈরি না হওয়ার প্রসঙ্গও উঠে আসে সুগতবাবুর কথায়। এ ক্ষেত্রে আগের জমানাকে কার্যত কাঠগড়ায় দাঁড় করালেন তিনি। ‘‘স্ট্যচুট তৈরির একটি নির্দিষ্ট কমিটি ছিল, তাঁরা কিছু কাজ করেছিল। সেটা আপলোড করার সময় এসেছে। তারপর সেটা সরকারের কাছে পাঠানো হয়। কিন্তু স্ট্যাটুটের কাজ কিছুই এগোয়নি। কমিটিকে বলেছি ডিসেম্বরের মধ্যে অন্তত আপলোড করে দিতে।’’-বলেন উপাচার্য।
তবে এ দিন বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৯ তম সমাবর্তনে সরাসরি চেন্নাইয়ের প্রাকৃতিক দুর্যোগের প্রভাব পড়ল। চেন্নাইয়ের প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে ওই অনুষ্ঠানে পৌছতে পারলেন না কৃষ্ণস্বামী বিজয়রাঘবন ও গোপালকৃষ্ণ গাঁধী। বারাণসী থেকে কলকাতার বিমান পরিষেবা না থাকার কারণে ডি-এসসি পুরস্কার নিতে অনুষ্ঠানে আসতে পারলেন না টি.ভি রামাকৃষ্ণন। পাশাপাশি শারীরিক কারণে অনুপস্থিত থাকলেন প্রধান অতিথি শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়।
কৃষ্ণস্বামী বিজয়রাঘবন-এর সঙ্গে অবশ্য মঞ্চ থেকেই মোবাইলে কথা বলা হয়। শ্রোতাদের তা শোনানোর ব্যবস্থাও করেন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। বিজয়রাঘবন ফোনে তাঁর বক্তব্য পেশ করেন। সেখানে তিনি জানান, প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে তাঁর মায়ের শারীরিক অবস্থা খারাপ হয়ে গিয়েছে। যে কারণে তিনি আসতে পারেননি। এ দিন ওই অনুষ্ঠানে ডি-লিট দেওয়া হয় জয় গোস্বামী ও বিরজু মহারাজকে। ডিএসসি পান টি.ভি রামাকৃষ্ণন ও খলিদ হামিদ।