রাতের অন্ধকারেই আগুন লাগছে গাড়িতে, ত্রস্ত মহানগরে দিশেহারা পুলিশ

শুধু এই গাড়িই নয়, গত এক সপ্তাহে উত্তর কলকাতার বিভিন্ন জায়গায় রাস্তার ধারে রাখা বেশ কয়েকটি মোটরবাইক ও প্রাইভেট গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এই কাজে কারা যুক্ত, সে ব্যাপারে এখনও অন্ধকারে পুলিশ। গ্যারাজ না থাকায় রাতে রাস্তার ধারে যাঁরা গাড়ি রাখছেন, এ নিয়ে তাঁদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়েছে।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৫ মার্চ ২০১৯ ০২:৩৫
Share:

দগ্ধ: এ ভাবেই রাস্তায় দাঁড়ানো গাড়ি আগুনে পুড়ে গিয়েছে। সোমবার, হাতিবাগান এলাকায়। ছবি: স্নেহাশিস ভট্টাচার্য

নিজের বাড়ির সামনে গাড়ি দাঁড় করিয়ে রেখেছিলেন হাতিবাগান সংলগ্ন গণেন্দ্র মিত্র লেনের এক বাসিন্দা। রবিবার মাঝরাতে এক আত্মীয়ের চিৎকারে ঘুম ভেঙে যায় তাঁর। বেরিয়ে এসে দেখেন, তাঁর গাড়িতে আগুন লেগেছে। কোনও রকমে সেই আগুন যখন নেভানো হল, তত ক্ষণে গাড়ির পিছনের দিকের অনেকটা অংশই পুড়ে গিয়েছে।

Advertisement

শুধু এই গাড়িই নয়, গত এক সপ্তাহে উত্তর কলকাতার বিভিন্ন জায়গায় রাস্তার ধারে রাখা বেশ কয়েকটি মোটরবাইক ও প্রাইভেট গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এই কাজে কারা যুক্ত, সে ব্যাপারে এখনও অন্ধকারে পুলিশ। গ্যারাজ না থাকায় রাতে রাস্তার ধারে যাঁরা গাড়ি রাখছেন, এ নিয়ে তাঁদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। অভিযোগ, বছরের পরে বছর ধরে তাঁরা রাস্তার ধারে গাড়ি রাখেন। এ ভাবে গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার ঘটনা আগে কখনও ঘটেনি। গত শনিবার রাতে গণেন্দ্র মিত্র লেনে রাখা আর একটি গাড়িতেও আগুন ধরে যায়। আগুন লাগে হাতিবাগান এলাকার স্টার কমিউনিটি সেন্টারের সামনে রাখা একটি মোটরবাইকেও। এক দিনে একই এলাকায় তিনটি গাড়িতে আগুন লাগায় রীতিমতো চাঞ্চল্য ছড়ায় পুরো এলাকায়।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানাচ্ছেন, রাত দু’টো থেকে আড়াইটের মধ্যে গাড়িগুলিতে আগুন লাগানো হয়। যাঁদের গাড়িতে আগুন লাগানো হয়েছে, সেই বাড়ির বাসিন্দা অন্তরা দত্ত বলেন, ‘‘রাত দু’টো নাগাদ বাড়ির সামনে মোটরবাইকের জোরে আওয়াজ শুনি। তার পরেই কারা যেন চিৎকার করে উঠলেন, গাড়িতে আগুন লেগেছে বলে। নীচে এসে দেখি, গাড়ি দাউদাউ করে জ্বলছে।’’ অন্তরা জানান, তাঁদের গাড়ি গলিতে থাকত না। গ্যারাজেই থাকত। দিন কয়েক ধরে গাড়িটি খুব দরকার পড়ছিল। তাই তাঁরা গলির মুখে গাড়ি রাখছিলেন। মাত্র বছর চারেকের পুরনো দামি গাড়ি পুড়ে যাওয়ায় কার্যত ভেঙে পড়েছে ওই পরিবার। স্থানীয়রা জানাচ্ছেন, দমকলকে ডাকার আগেই তাঁরা বালতি বালতি জল ঢেলে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। তবু আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। শেষে দমকল এলে আগুন নেভে।

Advertisement

উত্তর কলকাতার সরু সরু গলিতে গাড়িগুলি একদম বাড়ি ঘেঁষেই রাখা থাকে। গাড়িতে আগুন লাগলে তা থেকে বাড়িতেও আগুন ধরে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। স্টার কমিউনিটি হলের সামনে দাঁড়ানো যে মোটরবাইকে আগুন ধরে, তার ধার ঘেঁষেই রয়েছে শাশ্বত বসু নামে এক ব্যক্তির বাড়ি। তিনি বলেন, ‘‘মোটরবাইকে আগুন লাগার পরে তার শিখা প্রায় আমাদের বাড়ির বারান্দা পর্যন্ত চলে এসেছিল।’’

দমকল ও স্থানীয় সূত্রে খবর, গত সাত দিনে হাতিবাগান, উল্টোডাঙা, আমহার্স্ট র্স্টিট এলাকা মিলিয়ে বেশ কয়েকটি গাড়ি ও মোটরবাইকে আগুন লেগেছে। স্থানীয় বড়তলা থানা ও শ্যামপুকুর থানার পুলিশ জানিয়েছে, রাতে তাদের টহলদারি বাড়ানো হয়েছে। সেই সঙ্গে এলাকার বাসিন্দাদেরও সর্তক করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, দোষীরা দ্রুত ধরা পড়বে। সেই সঙ্গে পুলিশ এলাকার বাসিন্দাদের গলিগুলিতে সিসিটিভি বসানোর পরামর্শও দিয়েছে।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement
Advertisement