জঞ্জাল ধরতে লেন্সের ফাঁদ

স্থানীয় বাসিন্দাদের যত্রতত্র জঞ্জাল ফেলার প্রবণতা নিয়ে একমত প্রায় সব পুরসভার জনপ্রতিনিধিরা। সমস্যা থেকে মুক্ত নয় বিধাননগর পুর নিগমের ১০ নম্বর ওয়ার্ডও। আবর্জনা সংগ্রহে বাড়ি বাড়ি যায় পুরসভার গাড়ি।

Advertisement

সৌরভ দত্ত

শেষ আপডেট: ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ ০২:৩৫
Share:

—ফাইল চিত্র।

নজরদারির এমন পন্থা সচরাচর দেখা যায় না। প্রায় বাধ্য হয়েই নিজের ওয়ার্ডে মশা নিয়ন্ত্রণে ‘নজরদার’-এর গুরুদায়িত্ব কাঁধে নিয়েছেন বিধাননগর পুরসভার মেয়র পারিষদ (স্বাস্থ্য) প্রণয় রায়। যাঁরা যত্রতত্র জঞ্জাল ফেলেন, তাঁদের ধরতে এক ডজন ক্লোজ্‌ড সার্কিট (সিসি) ক্যামেরা বসাচ্ছেন তিনি! প্রণয়বাবুর কথায়, ‘‘ওয়ার্ড উন্নয়নের তহবিল থেকে কাজটা করব। ১২টা জায়গা দেখেও রেখেছি।’’

Advertisement

স্থানীয় বাসিন্দাদের যত্রতত্র জঞ্জাল ফেলার প্রবণতা নিয়ে একমত প্রায় সব পুরসভার জনপ্রতিনিধিরা। সমস্যা থেকে মুক্ত নয় বিধাননগর পুর নিগমের ১০ নম্বর ওয়ার্ডও। আবর্জনা সংগ্রহে বাড়ি বাড়ি যায় পুরসভার গাড়ি। তবুও সুযোগ বুঝে খালের জলে প্লাস্টিকে মোড়া নোংরা ফেলা অনেকে রপ্ত করে ফেলেছেন। খালের ধারে আবাসন। নীচে নামতে হচ্ছে না। জানলা থেকে নিখুঁত টিপে জঞ্জালের খালপ্রাপ্তি ঘটাচ্ছেন বহুতলের বাসিন্দাদের একাংশ। পিকনিক হোক বা বিয়েবাড়ি— ভোজের থালা-বাটি ফেলার জায়গাও খাল! ফল যা হওয়ার তাই হচ্ছে। ভাসমান জঞ্জালে জল জমে তাতে দেদার ডিম পেড়ে যাচ্ছে মশা।

পুরকর্মীরা জানান, এ কাজ যাঁরা করেন তাঁদের কৌশলই আলাদা। এক পুরকর্মীর কথায়, ‘‘গভীর রাত, ভোর, দুপুরে যে সময় রাস্তা সুনসান, তখনই ফাঁকা জমি বা খালের জলে জঞ্জাল ফেলার প্রবণতা সবচেয়ে বেশি। রাস্তা দিয়ে কেউ হাঁটছেন। আচমকা মোড়ের মুখে বাতিস্তম্ভের গায়ে জঞ্জালের প্যাকেট ফেলে দ্রুত হাঁটা লাগালেন তিনি, এমন দৃশ্যও দেখেছি!’’

Advertisement

এ ধরনের দৃশ্যদূষণ রোধে নিজের ওয়ার্ডে সিসিটিভি বসানোর কথা ভেবেছেন প্রণয়বাবু। স্থানীয় সূত্রে খবর, খালের পাশাপাশি যত্রতত্র জঞ্জাল নিক্ষেপে ১০ নম্বর ওয়ার্ডের শাস্ত্রী বাগান ও রেলপুকুরের ‘সুনাম’ রয়েছে।
ওই সব এলাকাতেই ক্যামেরা বসানো হবে। মেয়র পারিষদের কথায়, ‘‘যাঁরা এ কাজ করছেন, তাঁরা স্থানীয় না বহিরাগত? একযোগে তাঁরা জঞ্জাল ফেলছেন কি না, জানতে চাই। লক্ষ টাকা খরচ করে সাফাই অভিযান করা পুর নিগমের পক্ষে ব্যয়সাপেক্ষ।’’

পুর নিগম সূত্রে খবর, গত বছর দু’নম্বর বরোতেই বিশেষ সাফাই অভিযানে খরচ হয়েছিল ২০ লক্ষ টাকারও বেশি। ১০ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর প্রণয়বাবু বলছেন, ‘‘পুজোর ফুল জঞ্জালের গাড়িতে ফেলতে আপত্তি। কিন্তু খালে ফেলা হচ্ছে। খাল দিয়ে কি গঙ্গা জল বইছে!’’

ক্যামেরার ফুটেজ নিরীক্ষণে ওয়ার্ড অফিসে খোলা হবে কন্ট্রোল রুম। চলবে নজরদারি। প্রক্রিয়ার পরিকল্পনা খোলসা করতে চাননি প্রণয়বাবু। তাঁর কথায়, ‘‘অসভ্যতা যেমনই হোক, তা আটকানোই লক্ষ্য। চেষ্টা করতে ক্ষতি কী! সিসিটিভি-র ভয়ে ৩০ শতাংশ মানুষেরও যদি জঞ্জাল ফেলার প্রবণতা কমে, তা হলেও অনেক।’’

যদিও এই বিষয়টা নিয়ে আপাতত ভাবতেই রাজি নয় কলকাতা পুরসভা। কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের মেয়র পারিষদ দেবব্রত মজুমদার বলছেন, ‘‘আমাদের এখনই পরিকল্পনা নেই। নজরদারি চালাতে এমন ব্যবস্থা করার পরিকাঠামোও পুরসভার নেই।’’

শুধু জঞ্জাল ফেলার প্রবণতা বন্ধ করার চেষ্টাই নয়। স্থানীয় অন্নদাসুন্দরী গার্লস স্কুলের স্কুল কমিটির চেয়ারম্যান প্রণয়বাবু সচেষ্ট হয়েছেন ওই বিদ্যালয়ে নজরদারিতেও। তাঁর কথায়, ‘‘স্কুলের ভিতরে এবং বাইরে ৩৮টি সিসিটিভি বসানো হয়েছে।’’

ছিলেন অঙ্কের শিক্ষক। পরীক্ষার হলে নকল ধরার তালিকা মন্দ নয়। প্রণয়বাবু বলেন, ‘‘যে যেমনই ফন্দি আঁটুক, নজরে ঠিক পড়েই যেত।’’

এলাকাবাসী সাবধান। মাস্টারমশাই কিন্তু সব দেখছেন!

(সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। ফলো করুন আমাদের Google News, X (Twitter), Facebook, Youtube, Threads এবং Instagram পেজ)

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
Advertisement
Advertisement
আরও পড়ুন