অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। —ফাইল চিত্র।
কলকাতার ২৯-সি, হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটের বাড়িটি বৈধ ভাবে নির্মিত। এই দাবি করে কলকাতা হাই কোর্টের দারস্থ হলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাবা অমিত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং মা লতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
কলকাতা পুরসভার নোটিস খারিজের আর্জি জানিয়ে মামলা করেছেন বন্দ্যোপাধ্যায় দম্পতি। তাঁদের বক্তব্য, বৈধ ভাবে নির্মিত বাড়িতে বেআইনি নির্মাণ নিয়ে নোটিস দিয়েছে পুরসভা। আগামী বুধবার হাই কোর্টের হাই কোর্টের অবকাশকালীন বেঞ্চে ওই মামলার শুনানির সম্ভাবনা।
সম্প্রতি কলকাতা পুরসভা থেকে অভিষেকের একাধিক ঠিকানায় নোটিস গিয়েছে।শনিবার কালীঘাট রোডের বাড়ি থেকে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়েছিলেন অভিষেক। বাড়ির বেআইনি অংশ ভাঙা নিয়ে পুরসভার নোটিস সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘‘পুরসভাকে জিজ্ঞেস করুন। নোটিস যারা দিয়েছে...যারা বেছে বেছে মিডিয়ার কাছে এগুলো লিক করছে... একটা নোটিস লাগিয়ে চলে গেলাম যে এই অংশটা অবৈধ!’’ অভিষেক জানান, তাঁর কাছে ভিডিয়ো রয়েছে। নোটিসে লেখা রয়েছে, ‘এনক্লোজ়, প্লিজ ফাইলড ব্রিফ অফ ডিভিয়েশন। সেখানে আমার ডিভিয়েশন কোন অংশে, কী ব্রিফ, তার অ্যাটাচমেন্ট কোথায়? সেটা তো দেয়নি! আমি এ নিয়ে মামলাও করব। আমার অধিকার রয়েছে। বিচারব্যবস্থার দ্বারস্থ হবে। লিখিত ভাবে আমার যা রিপ্লাই ছিল, আমি দিয়েছি, জানিয়েছি।’’ তার পরেই আদালতে গেলেন অভিষেকের বাবা-মা।
অন্য দিকে, সপ্তাহ খানেক আগে কলকাতা পুরসভার কাছে ১০ দিন সময় চেয়েছিল অভিষেকের সংস্থা লিপ্স অ্যান্ড বাউন্ডস। পুরসভার বিল্ডিং বিভাগকে একটি চিঠি দেওয়া হয়েছিল। সেই চিঠিতে আবেদন করা হয়েছে, যে সব সম্পত্তি সংক্রান্ত বিষয় কলকাতা পুরসভা তাদের কাছে জানতে চেয়েছে, তা তারা জানাতে প্রস্তুত। কিন্তু এ ক্ষেত্রে তাদের কিছুটা সময় দেওয়া হোক। পর্যাপ্ত সময় পেলেই তারা যাবতীয় তথ্য কলকাতা পুরসভার হাতে তুলে দেবে। উল্লেখ্য, অভিষেকের সংস্থাকে সম্প্রতি পুরসভার একাধিক নোটিস পাঠিয়েছে। মূলত কলকাতার কালীঘাট রোড ও হরিশ মুখার্জি রোডে থাকা তাঁর এবং তাঁর সংস্থার নামে থাকা সম্পত্তি নিয়ে এই পদক্ষেপ করা হয়। পুরসভা সূত্রে জানানো হয়, কলকাতা পুরসভার ৪০১ ধারায় নোটিস পাঠিয়ে সংশ্লিষ্ট বাড়িগুলির অনুমোদিত বিল্ডিং প্ল্যান, নির্মাণ সংক্রান্ত নথি এবং অতিরিক্ত নির্মাণের অনুমতির কাগজ জমা দিতে বলা হয়েছে। অভিযোগ, কিছু ক্ষেত্রে অনুমোদিত নকশার বাইরে নির্মাণ হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
প্রথম দিকে দু’টি বাড়ি নিয়ে নোটিসের খবর প্রকাশ্যে এলেও পরে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয়, মোট ১৭টি সম্পত্তিতে নোটিস পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে অভিষেকের আত্মীয়দের নামেও থাকা কিছু সম্পত্তি রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। তবে অভিষেক বলেছিলেন, “বাড়ির কোন অংশ অবৈধ, সেটা নির্দিষ্ট করে বলা হোক, তার পর উত্তর দেব।”