Banner

পুর বিজ্ঞাপন নীতি ঠান্ডা ঘরে, অবৈধ হোর্ডিংয়ে মুখ ঢেকেছে শহর

শহর ঘুরে দেখা গিয়েছে, হোর্ডিং, ব্যানার টাঙাতে কোনও নিয়ম-নীতির বালাই নেই। উদ্যান থেকে শুরু করে মেট্রো স্টেশন— সর্বত্র বিপজ্জনক ভাবে ঝুলছে হোর্ডিং।

মেহবুব কাদের চৌধুরী

শেষ আপডেট: ১৫ জানুয়ারি ২০২৬ ১০:২৮
Share:

হোর্ডিং ও ব্যানারে ঢেকে গিয়েছে কাশীপুর সেতুতে ওঠার মুখে থাকা হাইট বার। ছবি: বিশ্বনাথ বণিক।

শহর কলকাতার দৃশ্যদূষণ ঠেকাতে পুরসভার বিজ্ঞাপন নীতি চালু হয়েছে আগেই। ওই বিজ্ঞাপন নীতি অনুযায়ী, শহরে যত্রতত্র হোর্ডিং-ব্যানার ঝুলবে না। সেগুলি কোথায় টাঙানো যাবে অথবা যাবে না, তা বিস্তারিত ভাবে বলা হয়েছে সংশ্লিষ্ট নীতিতে। অথচ সম্প্রতি শহরের বেশির ভাগ জায়গায় ঘুরে যত্রতত্র ঝুলতে দেখা গেল দেদার হোর্ডিং ও ব্যানার।

শহর ঘুরে দেখা গিয়েছে, হোর্ডিং, ব্যানার টাঙাতে কোনও নিয়ম-নীতির বালাই নেই। উদ্যান থেকে শুরু করে মেট্রো স্টেশন— সর্বত্র বিপজ্জনক ভাবে ঝুলছে হোর্ডিং। উত্তর কলকাতার বাগবাজার লাগোয়া চিৎপুর লকগেট উড়ালপুলের এক দিক দিয়ে ছোট গাড়ি পারাপারের জায়গায় রয়েছে হাইট বার। সেই হাইট বার ঢেকে দিয়ে বিপজ্জনক ভাবে হোর্ডিং ঝুলতে দেখা গেল। স্থানীয়দের অভিযোগ, ওই হোর্ডিং ভেঙে পড়লে যে কোনও সময়ে বড়সড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। অথচ, সামনেই ট্র্যাফিক পুলিশ ডিউটিরত থাকলেও তারা এ বিষয়ে নির্বিকার। ব্যবস্থা নিচ্ছে না পুরসভাও। আবার, গ্যালিফ স্ট্রিটের মুখে দেখা গেল, এখনও দুর্গাপুজোর হোর্ডিং ঝুলছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ‘‘দীর্ঘদিন ধরে হোর্ডিংটি ঝুলছে। বড়ই বেমানান। এগুলো কি পুরসভার নজরে পড়ে না?’’

ধর্মতলা থেকে বাগবাজার যেতে চিত্তরঞ্জন অ্যাভিনিউয়ের দু’পাশ ঢেকে গিয়েছে অবৈধ হোর্ডিং, ব্যানারে। বি বি গাঙ্গুলি স্ট্রিটের মুখে সেন্ট্রাল মেট্রো স্টেশনের সামনে এমন ভাবে হোর্ডিং দেওয়া যে, স্টেশনে ঢোকা দায়! সাবধান না হলে হোর্ডিংয়ের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে বিপদ ঘটতে পারে। মহম্মদ আলি পার্কের সামনেও হোর্ডিং ঝুলতে দেখা গেল। কোথাও আবার ছেয়ে রয়েছে পুজোর বিজয়া সম্মিলনীর পুরনো হোর্ডিং-ব্যানার।

শুধু উত্তর কলকাতাই নয়, দক্ষিণের একাধিক জায়গায় ঢুঁ মেরেও দেখা মিলল দেদার অবৈধ হোর্ডিং-ব্যানারের। ধর্মতলা থেকে ভবানীপুর যেতে আশুতোষ মুখার্জি রোড ও হরিশ মুখার্জি রোডের দু’পাশে তুলনামূলক ভাবে অবৈধ হোর্ডিং, ব্যানার কম চোখে পড়েছে। তবে এর ঠিক বিপরীত দশা বেহালায়। সেখানকার একাধিক এলাকা কার্যত মুখ ঢেকেছে বেআইনি হোর্ডিং, ব্যানারে। বেহালার প্রায় সব এলাকাই দৃশ্যদূষণের শিকার।

নিয়ম মতো, অবৈধ হোর্ডিং-ব্যানারের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে সেগুলি সরানোর কথা পুরসভার বিজ্ঞাপন দফতরের। মাসকয়েক আগে মেয়র ফিরহাদ হাকিম ঘোষণা করেছিলেন, শহরের সৌন্দর্যায়ন ফেরাতে ও দৃশ্যদূষণ রুখতে নয়া বিজ্ঞাপন নীতিতে রাজ্য সরকারের সিলমোহর মিলেছে। তাই এ বার কলকাতা পুরসভা সেই বিজ্ঞাপন নীতি মেনেই শহরে হোর্ডিং-ব্যানার বসাতে দেবে। প্রশ্ন উঠছে, সেই ঘোষণার পরে তিন মাস পার হতে চললেও এখনও শহরে দৃশ্যদূষণের এমন দশা কেন?

পুর বিজ্ঞাপন দফতরের এক আধিকারিকের সাফাই, ‘‘বিজ্ঞাপন দফতরে কর্মী থাকার কথা ৫৫ জন। আছেন সর্বসাকুল্যে ৩০ জন। বিশাল শহরে গুটিকয়েক ইনস্পেক্টরদের দিয়ে অভিযান চালানো সম্ভব নয়। মানুষ সচেতন না হলে একা পুরসভার পক্ষে বেআইনি হোর্ডিং-ব্যানার সরানো অসম্ভব।’’

তা হলে পুর বিজ্ঞাপন নীতির প্রকৃত বাস্তবায়ন কী ভাবে সম্ভব? উত্তর মেলেনি।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন

এটি একটি প্রিমিয়াম খবর…

  • প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর

  • সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ

  • সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে

সাবস্ক্রাইব করুন