— প্রতীকী চিত্র।
কেউ যাচ্ছেন দেশের অন্যতম পরিচিত সাত হাজারি শৃঙ্গ অভিযানে। কেউ অল্পের জন্য অধরা শৃঙ্গে আরও এক বার পাড়ি জমাচ্ছেন, শেরপাদের সাহায্য ছাড়াই। কেউ আবার সদলবলে দেশের দুর্গম পর্বত অভিযানে রওনা হচ্ছেন। এ বছরের এভারেস্ট মরসুম মিটতেই এ দেশের হিমালয়ের বুকে একাধিক অভিযান শুরু করে দিয়েছেন বাঙালি পর্বতারোহীরা।
উত্তরাখণ্ডের বিখ্যাত ত্রিশূল শৃঙ্গে (৭১২০ মিটার) অভিযান চালাতে ইতিমধ্যেই সেই রাজ্যে পৌঁছে গিয়েছে দলনেতা, এভারেস্টজয়ী রমেশ রায়ের নেতৃত্বে ১১ জনের একটি দল। সেই দলে রয়েছেন এভারেস্টজয়ী মলয় মুখোপাধ্যায়। সঙ্গে ৬ জন শেরপা। ইতিহাস বলছে, ১৯০৫ সালে পর্বতারোহী টি জি লংস্টাফ প্রথম পৌঁছেছিলেন এই শৃঙ্গের শীর্ষে। ভারতীয়দের মধ্যে ১৯৫১ সালে প্রথম ত্রিশূলের চূড়ায় পৌঁছেছিলেন গুরদয়াল সিংহের নেতৃত্বাধীন একটি দল। ত্রিশূলের শীর্ষে গুরদয়ালের শীর্ষাসনের ছবি আজও পর্বতারোহণ মহলে জনপ্রিয়। সেই ছবি স্থান পেয়েছে ভারতীয় ডাকটিকিটেও।
দলনেতা রমেশ জানাচ্ছেন, কর্ণপ্রয়াগ থেকে শীতেল গ্রাম ছুঁয়ে দিন তিনেকের ট্রেক করে হেমকুণ্ডে পৌঁছে বেসক্যাম্প। ক্রমশ ওঠা শুরু। রমেশ বলছেন, ‘‘নন্দাঘুন্টি অভিযানের সময়ে প্রথম ত্রিশূলকে দেখেছিলাম। এ বার তুলনায় কঠিন শৃঙ্গে অভিযানের ইচ্ছে ছিল সকলেরই। এখানে লুকোনো ক্রেভাস, কঠিন বরফ ও পাথুরে দেওয়াল, আচমকা রক ব্যান্ড, তুষারধস প্রবণ এলাকা— সবই রয়েছে। তাই নিজেদের চ্যালেঞ্জ জানাতেই গাড়োয়াল হিমালয়ের এই শৃঙ্গে অভিযান।’’ যদিও উত্তরাখণ্ডে নতুন বিধিনিষেধের কারণে অতিরিক্ত খরচের প্রাথমিক ধাক্কা সামলাতে হচ্ছে দলকে। তাই মলয় বলছেন, ‘‘নানা বিধিনিষেধের কারণে উত্তরাখণ্ডে অভিযান কমছে। সেই সঙ্গে টাকা এবং সময়াভাবে সাত হাজারি শৃঙ্গাভিযানের সংখ্যাও কমছে দেশে। তবে নন্দাদেবী অভয়ারণ্যের দুর্গম এলাকা এই অভিযানে দেখার সুযোগ বড় প্রাপ্তি।’’
অন্য দিকে, হিমাচলের লাহুল-স্পিতি জেলার মূলকিলা বা এম৪ (৬৫১৭ মিটার) শৃঙ্গে অভিযান চালাতে গত মাসের শেষেই রওনা হয়েছেন পর্বতারোহী রুদ্রপ্রসাদ হালদার ও তাঁর সঙ্গীরা। সোনারপুরের একটি পর্বতারোহণ ক্লাবের তরফে দলনেতা রুদ্রপ্রসাদ-সহ আট জনের একটি দল ‘অ্যালপাইন স্টাইলে’, অর্থাৎ শেরপাদের সাহায্য ছাড়াই অভিযান চালাবে এই দুর্গম পাহাড়ে, যা স্থানীয়দের কাছে ‘সিলভার গড’ নামেও পরিচিত। ইতিহাস বলছে, ১৯৩৯ সালে ব্রিটেনের একটি পর্বতারোহীদের দল এই শৃঙ্গে প্রথম আরোহণ করেন। তবে গত কয়েক বছরে একাধিক অভিযান হলেও কেউই সফল হননি।
২০১৮ সালে এই মূলকিলায় অভিযান করেছিলেন রুদ্রপ্রসাদেরা। শীর্ষের ১৫১ মিটার নীচ থেকে ফিরতে হয় তাঁকে। রুদ্রপ্রসাদ বলছেন, ‘‘হোয়াইট আউট হয়ে যাওয়ায় কোথায় পা ফেলব, দেখা যাচ্ছিল না। এ দিকে চারদিকে ক্রেভাস হাঁ করে। ভাল আবহাওয়ার জন্য যে অপেক্ষা করব, সুযোগ ছিল না। এ বারও একই রুটে যাব। হিমবাহের মাথা থেকে ৭০ ডিগ্রি খাড়া বরফের দেওয়াল বেয়ে উঠতে হবে। শেরপাহীন এই অভিযান যথেষ্ট চ্যালেঞ্জিং হতে চলেছে।’’
এ ছাড়াও হিমাচলেরই কুলু ও লাহুল জেলার সীমানায় দুর্গম মুকার বে (৬০৬৯ মিটার) শৃঙ্গে অভিযানে রওনা হয়েছেন বর্ষীয়ান এভারেস্টজয়ী পর্বতারোহী বসন্ত সিংহরায় ও তাঁর ছয় সঙ্গী। ওই অঞ্চলে পাঁচ হাজারি শীতিধর শৃঙ্গে অভিযান চালাবেন কৃষ্ণনগরের ওই পর্বতারোহণ ক্লাবেরই আরও ১০ সদস্য।
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে