West Bengal Assembly Election

পদে নেই স্থায়ী কেউ, ভোটের মুখে চিন্তা অপরাধ দমন নিয়ে 

রাজ্যে বিধানসভা ভোটের নির্ঘণ্ট প্রকাশ করেছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন। তার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই কলকাতার নগরপালের পদ থেকে সুপ্রতিম সরকারকে সরিয়ে দিয়েছে কমিশন। দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে অজয়কুমার নন্দকে। মঙ্গলবার নতুন করে রাজ্যের একাধিক জেলার পুলিশ সুপারদের বদলি করেছে কমিশন।

চন্দন বিশ্বাস

শেষ আপডেট: ১৯ মার্চ ২০২৬ ০৮:৪৭
Share:

—প্রতীকী চিত্র।

কলকাতা শহরের অপরাধ দমনের ক্ষেত্রে সব চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদ। কিন্তু দেড় বছরেরও বেশি সময় ধরে সেই পদের দায়িত্বে নেই স্থায়ী কেউ। অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে অস্থায়ী ভাবে সেই পদ সামলাচ্ছেন লালবাজারের ট্র্যাফিক বিভাগের কর্তা রূপেশ কুমার। ফলে, ভোটের মুখে প্রশ্ন উঠেছে, যুগ্ম নগরপাল (অপরাধ দমন) পদে স্থায়ী আধিকারিক ছাড়াই কি হবে এ বারের বিধানসভা নির্বাচনে কলকাতার একাধিক কেন্দ্রের ভোট গ্রহণ?

রাজ্যে বিধানসভা ভোটের নির্ঘণ্ট প্রকাশ করেছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন। তার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই কলকাতার নগরপালের পদ থেকে সুপ্রতিম সরকারকে সরিয়ে দিয়েছে কমিশন। দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে অজয়কুমার নন্দকে। মঙ্গলবার নতুন করে রাজ্যের একাধিক জেলার পুলিশ সুপারদের বদলি করেছে কমিশন। বদলি করা হয়েছে কলকাতা পুলিশের সেন্ট্রাল ডিভিশনের উপ-নগরপাল ইন্দিরা মুখোপাধ্যায়কেও। যদিও বুধবার রাত পর্যন্ত কলকাতা পুলিশের যুগ্ম নগরপাল (অপরাধ দমন) পদে স্থায়ী ভাবে কাউকে বসানো হয়নি। ফলে, আগের মতোই অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে ওই দায়িত্ব সামলাচ্ছেন রূপেশ কুমার।

‘অতিরিক্ত দায়িত্ব’-এর জটিলতা শুরু হয়েছিল ২০২৩-এর শেষের দিকে। তৎকালীন গোয়েন্দা-প্রধান শঙ্খশুভ্র চক্রবর্তীকে আচমকা সিআইডি-তে বদলি করা হয়। সেই সময়ে কিছু দিনের জন্য যুগ্ম নগরপালের (অপরাধ দমন) দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল তৎকালীন অতিরিক্ত নগরপাল (১) মুরলীধর শর্মাকে। পরে অবশ্য ওয়াকার রাজাকে কলকাতা পুলিশের ওই পদে স্থায়ী ভাবে নিয়ে আসা হয়। কিন্তু লোকসভা নির্বাচনের আগে আবার ‘কোপ’ পড়ে ওই পদে। ভোটের মুখে ওয়াকার রাজাকে বদলি করে পাঠানো হয় মুর্শিদাবাদ রেঞ্জের ডিআইজি হিসেবে। ফলে, ফের শূন্য হয়ে যায় যুগ্ম নগরপালের (অপরাধ দমন) পদ। আবারও অস্থায়ী গোয়েন্দা-প্রধান হিসেবে দায়িত্ব সামলান মুরলীধর। তবে, ভোট-পর্ব মিটতেই ২০২৪ সালের ১৯ নভেম্বর মুরলীধরকেও রাজ্য পুলিশে বদলি করা হয়। তার পর থেকে রূপেশ কুমার ট্র্যাফিকের সঙ্গে অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে গোয়েন্দা-প্রধানের কাজ চালাচ্ছেন।

কলকাতা পুলিশের যুগ্ম নগরপাল (অপরাধ দমন) একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদ। নির্বাচনের সময়ে এই পদের গুরুত্ব কয়েক গুণ বেড়ে যায়। নির্বাচনের আগে শহর হিংসামুক্ত রাখতে সক্রিয় ভূমিকা নিতে হয় যুগ্ম নগরপালকে (অপরাধ দমন)। ইতিমধ্যেই নির্বাচন ঘোষণার আগে শহরে হিংসার ঘটনা ঘটেছে। গিরিশ পার্কে মন্ত্রীর বাড়িতে হামলা এবং ভাঙচুর করা হয়েছে বলে অভিযোগ। দায়িত্ব নিয়েই গিরিশ পার্কের ঘটনাকে ‘খারাপ ঘটনা’ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন নতুন নগরপাল অজয়কুমার নন্দ। বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই ধরনের রাজনৈতিক সংঘর্ষের ঘটনা যে বাড়তে পারে, সেই আশঙ্কা রয়েছেই। সে ক্ষেত্রে যুগ্ম নগরপাল (অপরাধ দমন) পদে স্থায়ী ভাবে কোনও আধিকারিক না থাকলে পরিস্থিতির মোকাবিলা কী ভাবে করা হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে বিভিন্ন মহলে।

লালবাজারের এক পুলিশকর্তা যদিও আশঙ্কার কিছু নেই বলেই আশ্বাস দিচ্ছেন। ওই কর্তার কথায়, ‘‘পুলিশ সব সময়ে একটি দল হিসেবে কাজ করে। একাধিক বিভাগ একত্রে অপরাধের তদন্ত থেকে শুরু করে তার মোকাবিলা করে থাকে। স্থায়ী কেউ না থাকলেও নির্বাচন শান্তিপূর্ণ করতে সব রকম প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।’’

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন

এটি একটি প্রিমিয়াম খবর…

  • প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর

  • সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ

  • সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে

সাবস্ক্রাইব করুন