আরজি কর হাসপাতাল। —ফাইল চিত্র।
কর্তব্যরত অবস্থায় তরুণী চিকিৎসককে খুন ও ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছিল আর জি করের জরুরি বিভাগ বিল্ডিংয়ে। আবার বিতর্কে সে-ই বিল্ডিং। যেখানকার পাঁচতলার একটি ঘরে হাসপাতালের এক কর্মী ও তাঁর সঙ্গীদের নেশা করার অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার ওই ভিডিয়ো (যার সত্যতা আনন্দবাজার পত্রিকা যাচাই করেনি) প্রকাশ্যে এসেছে।
জানা যাচ্ছে, জরুরি বিভাগ বিল্ডিংয়ের পাঁচতলায় রয়েছে অস্থি বিভাগ। ভাইরাল হওয়া
ভিডিয়োয় দেখা যাচ্ছে, ওই বিভাগের একটি ঘরে কয়েকটি আলমারির মাঝে কাঠের টুলে বসে রয়েছেন ফেসিলিটি ম্যানেজার রঞ্জিত গোঁসাই। উল্টো দিকে তাঁর পরিচিত সঙ্গীরা
রয়েছেন। সকলে মিলে নেশা করছেন। সেই সঙ্গে বিরিয়ানি খাওয়া চলছে। ২০২৪ সালে আর জি কর কাণ্ডের পরে জানা গিয়েছিল, ঘটনার রাতে ওই বিল্ডিংয়ে এমনই একটি পার্টি হয়েছিল। এ দিন ওই ভিডিয়ো প্রকাশ্যে আসতেই ফের হাসপাতালের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
আর জি করের সুপার সপ্তর্ষি চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘‘ঘটনাটি কয়েক বছরের পুরনো বলে দাবি
করছেন ওই কর্মী। তবে বিষয়টি জানার পরেই তাঁকে ফেসিলিটি ম্যানেজার পদ থেকে সরিয়ে ইউরোলজি-শল্য বিভাগে চতুর্থ শ্রেণির কর্মীর কাজে বদলি করা হয়েছে। বিষয়টি
খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’’ তিনি আরও জানান, আর জি করে চতুর্থ শ্রেণির কর্মী হিসেবেই চাকরি করেন রঞ্জিত। তবে কয়েক বছর আগে মৌখিক নির্দেশে তাঁকে সমস্ত চতুর্থ শ্রেণির কর্মীদের কাজের তদারকির দায়িত্ব দিয়ে ফেসিলিটি ম্যানেজার করা হয়েছিল।
এ দিন শহরের এক অনুষ্ঠানে গিয়ে বিধায়ক চিকিৎসক ইন্দ্রনীল খাঁ বলেন, ‘‘দীর্ঘ দিন ধরেই তৃণমূলের প্রশ্রয়ে হাসপাতালগুলিতে নেশার আসর, সিন্ডিকেট, দালাল রাজ চলেছে। এগুলি বরদাস্ত না করার জন্য মুখ্যমন্ত্রীর কড়া নির্দেশ রয়েছে। হাসপাতাল রোগী পরিষেবার জায়গা।’’ বিষয়টি স্বাস্থ্য দফতরের নজরে আনা হয়েছে বলেও জানান ইন্দ্রনীল।
আর জি করের অন্দরের খবর, ৪ মে বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার কয়েক দিন আগে ওই পার্টি হয়েছিল। ভিডিয়োয় দেখা যাচ্ছে, রঞ্জিত নিজেকে তৃণমূলের এক প্রভাবশালী মন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ বলেও দাবি করছেন। এবং নিজের নামও বলছেন। অন্য দিকে ভিডিয়োয় তাঁরই ছবি দেখা গিয়েছে বলে এ দিন স্বীকার করেছেন রঞ্জিত। তাঁর দাবি, ‘‘আমার জন্মদিনের পার্টি ছিল। তবে হাতে থাকা প্লাস্টিকের গ্লাসে কী ছিল, আর কোথায় ওই পার্টি হয়েছিল, মনে নেই। আমাকে ফাঁসানো হচ্ছে।’’
তৃণমূলের প্রভাবশালী মন্ত্রীর সঙ্গে রঞ্জিতের ছবিও যেমন প্রকাশ্যে এসেছে, তেমনই দিন কয়েক আগে আর জি করের রোগী কল্যাণ সমিতির বৈঠকের শেষে বিধায়ক রীতেশ তিওয়ারির সঙ্গেও তাঁর ছবি সামনে এসেছে। রীতেশ বলেন, ‘‘এখন অনেকেই নিজেকে বিজেপি বলে দাবি করছেন। পাশে দাঁড়িয়ে ছবি তোলার চেষ্টা করছেন। কিন্তু ছবি তুললেই তো দোষটা মাফ হয়ে যায় না।’’
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে