স্ত্রীর শ্লীলতাহানির প্রতিবাদ করায় যুবক প্রহৃত, সাহায্যে এগোল না কেউ

দোলের সন্ধ্যায় সস্ত্রীক পার্ক সার্কাসের গির্জায় প্রার্থনায় যোগ দিতে যাচ্ছিলেন এক যুবক। পথে, কসবায় খোলা বাজারে সকলের সামনে শ্লীলতাহানির শিকার হলেন যুবকের স্ত্রী। ভরসন্ধ্যায় শহরের বুকে এই ঘটনায় সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে আবার প্রশ্ন উঠে গেল। বহু মানুষের সামনে এমন ঘটনা ঘটলেও সাহায্যের জন্য কেউ এগিয়ে না আসার অভিযোগ করেছেন দম্পতি। পরে পুলিশ গিয়ে ঘটনাস্থল থেকে দু’জনকে গ্রেফতার করেছে।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৪ মার্চ ২০১৬ ২১:২৮
Share:

দোলের সন্ধ্যায় সস্ত্রীক পার্ক সার্কাসের গির্জায় প্রার্থনায় যোগ দিতে যাচ্ছিলেন এক যুবক। পথে, কসবায় খোলা বাজারে সকলের সামনে শ্লীলতাহানির শিকার হলেন যুবকের স্ত্রী। ভরসন্ধ্যায় শহরের বুকে এই ঘটনায় সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে আবার প্রশ্ন উঠে গেল। বহু মানুষের সামনে এমন ঘটনা ঘটলেও সাহায্যের জন্য কেউ এগিয়ে না আসার অভিযোগ করেছেন দম্পতি। পরে পুলিশ গিয়ে ঘটনাস্থল থেকে দু’জনকে গ্রেফতার করেছে।

Advertisement

পুলিশ জানিয়েছে, পার্ক সার্কাসের কাছে একটি শপিং মলে কাজ করেন তিলজলার সাপগাছি সেকেন্ড লেনের বাসিন্দা ওই যুবক। বুধবার দুপুরে মোটরবাইকে স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে কসবার প্রসন্ন নস্কর লেনে শ্বশুরবাড়িতে যান। সন্ধ্যায় শ্বশুরবাড়ি থেকে শাশুড়িকে পার্ক সার্কাসের ওই গির্জায় ছে়ড়ে আসেন। স্ত্রীকে কসবার কলোনি বাজারে অপেক্ষা করতে বলেন। অভিযোগ, সেই সময় একটি গাড়িতে এসে চার যুবক তাঁর স্ত্রীর উদ্দেশে অশালীন মন্তব্য করে এবং শ্লীলতাহানির চেষ্টা করে। একটু দূরে গিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে যুবকের দল।

ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্ত্রীর কাছ থেকে ঘটনা শুনে তাঁকে মোটরবাইকে বসিয়ে ওই গাড়ির সামনে গিয়ে দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ করেন ঘটনার। অভিযোগ, তখনই ক্ষিপ্ত হয়ে ওই যুবকেরা তাঁকে মারতে শুরু করে। ঘটনায় ডান হাতে এবং মাথায় চোট লাগে রোজারিওর। তাঁকে বাঁচাতে গিয়ে আহত হন তাঁর স্ত্রীও। আশপাশের লোকজন দাঁড়িয়ে দেখলেও কেউ সাহায্যের জন্য এগিয়ে আসেননি বলে অভিযোগ করেছেন ওই যুবক।

Advertisement

ওই পাড়ায় দম্পতির এক পরিচিত বাসিন্দা তাঁর বাড়িতে দম্পতিকে ঢুকে যেতে বলেন। যুবক মোটরবাইক নিয়ে যেতে গেলে ওই দুষ্কৃতীরা তাঁকে আবার মারতে থাকে। তখন মোটরবাইক ফেলেই তিনি ওই পরিচিতের বাড়িতে আশ্রয় নেন। খবর দেন পুলিশকে। ওই দুষ্কৃতীরা ভাঙচুর করে তাঁর মোটরবাইক। পেট্রল বার করে রাস্তায় ছড়িয়ে দিয়ে জ্বালিয়ে দেওয়ার হুমকি দিতে থাকে। যুবকের দাবি, এই দুষ্কৃতীদের সকলেই মদ্যপ ছিল। এর মধ্যে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ। দু’জন ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে গেলেও সানি এবং সুরজিৎ ওরফে মুরগি ভোলা নামে দু’জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

ঘটনার পর ২৪ ঘণ্টা কেটে গেলেও আতঙ্ক কাটেনি দম্পতির। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘‘বাজার এলাকায় সকলের সামনে আধ ঘণ্টা ধরে ওরা দাপিয়ে বেড়ালো, কিন্তু আশপাশের লোকজন শুধু দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখল। মানুষের সাহস এবং মনুষ্যত্ববোধ হয়তো পুরোপুরিই হারিয়ে গিয়েছে।’’

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement