ঋণ দেওয়ার নামে প্রতারণা, পাকড়াও যুবক

এলগিন রোডের শপিং মলে ঝাঁ চকচকে অফিস। কিন্তু ঋণের কথা কখনওই অফিসে হতো না! কাফেটেরিয়া বা ফুড কোর্টে কথাবার্তার পরে দেওয়া হতো সুদে ছাড়ের টোপ। বিনিময়ে দিতে হবে ‘সামান্য’ কিছু দক্ষিণা।

Advertisement

শিবাজী দে সরকার

শেষ আপডেট: ২৯ জানুয়ারি ২০১৭ ০০:২১
Share:

এলগিন রোডের শপিং মলে ঝাঁ চকচকে অফিস। কিন্তু ঋণের কথা কখনওই অফিসে হতো না! কাফেটেরিয়া বা ফুড কোর্টে কথাবার্তার পরে দেওয়া হতো সুদে ছাড়ের টোপ। বিনিময়ে দিতে হবে ‘সামান্য’ কিছু দক্ষিণা। পুলিশ জানাচ্ছে, এ ভাবেই কয়েক লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছিলেন এক যুবক। অভিযোগ পেয়ে ভবানীপুর থানার তদন্তকারীরা হন্যে হয়ে খুঁজলেও তাঁর নাগাল পাননি। শুক্রবার বিকেলে ফের ঋণ পাইয়ে দেওয়ার নাম করে এক ব্যক্তিকে এলগিন রোডের ওই শপিং মলে নিয়ে আসেন ওই অভিযুক্ত। সেখান থেকেই পাকড়াও করা হয় ওই যুবককে।

Advertisement

পুলিশ জানায়, ধৃতের নাম অনিরুদ্ধ দাস মুখোপাধ্যায়। বাড়ি মুদিয়ালি এলাকায়। ঋণ পাইয়ে দেওয়ার নাম করে প্রতারণার একাধিক অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। ধৃতকে শনিবার আদালতে তোলা হলে বিচারক তাঁকে পুলিশি হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেন। শপিং মলের যে সব অফিস ঋণগ্রহীতাদের দেখানো হতো তার সঙ্গে অনিরুদ্ধের কোনও সম্পর্কই ছিল না বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ সূত্রের দাবি, অনিরুদ্ধ প্রথমে ফোন করে কম সুদে ঋণ পাইয়ে দেওয়ার কথা বলতেন। সেই টোপ গিললে ঋণ নিতে ইচ্ছুক লোকদের এলগিন রোডের একটি শপিং মলে আসতে বলা হতো। অনিরুদ্ধ সেখানে যে কোনও একটি অফিসকে নিজের অফিস বলে দাবি করতেন। তা দেখানোর পরে গ্রাহককে মলের কোনও কাফেটেরিয়া বা ফুড কোর্টে নিয়ে যেতেন তিনি। গ্রাহকদের বলতেন, অফিসে লোক বেশি রয়েছে। ফাঁকায় বসে কথা বলতে সুবিধা হবে। নানা কথা বলার পরেই দ্রুত ঋণ পাইয়ে দেওয়া এবং সুদে ছাড় দেওয়ার টোপ দিতেন। বিনিময়ে হাজার দশেক টাকা নগদে দিতে বলতেন। গ্রাহক সেই ফাঁদে পা দিয়ে টাকা দেওয়ার পরেই মোবাইল বন্ধ করে দিতেন অনিরুদ্ধ। এ ভাবে বেশ কয়েক জনকে ঠকানো হয়েছে বলে অভিযোগ।

Advertisement

পুলিশের খবর, দিন কয়েক আগে ব্রজনাথ মাহাতো নামে এক ট্যাক্সি চালককেও একই কায়দায় ঠকানো হয়েছে। ব্রজনাথ পুলিশকে জানান, তাঁর ট্যাক্সিতে চেপে টালিগঞ্জ থেকে এলগিন রোডে এসেছিলেন অনিরুদ্ধ। পথে পুরনো ট্যাক্সি বিক্রি করে নতুন ট্যাক্সি কেনার কথা বলেন। দ্রুত ঋণ পাইয়ে দেওয়ার টোপ দেন। তার পরে একই কায়দায় ১০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেন।

একাধিক অভিযোগ আসার পরে ওই শপিং মল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেন পুলিশ অফিসারেরা। তখনই জানতে পারেন, ওই সব অফিসের সঙ্গে এই ঘটনার কোনও যোগ নেই। এর পরে সিসিটিভি-র ছবি থেকে অভিযুক্তকে চিহ্নিত করা হয়। তাঁর ছবি দিয়ে দেওয়া হয় মলের নিরাপত্তারক্ষীদেরও। এর পরেই শুক্রবার অনিরুদ্ধ শপিং মলে আসতেই নিরাপত্তারক্ষীরা তাঁকে আটক করেন। খবর যায় ভবানীপুর থানায়।

কলকাতা পুলিশের এক কর্তার বক্তব্য, ‘‘এখনও পর্যন্ত কয়েকটি অভিযোগ মিলেছে। এ বার ধৃতকে জেরা করে আরও তথ্য বার করা হবে। নতুন কেউ অভিযোগ জানালে তা-ও নেওয়া হবে।’’

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement