Kolkata police

বাড়ছে চাহিদা, শহরে বাজেয়াপ্ত ২ কোটির চোরাই বিদেশি সিগারেট

মায়ানমার এবং বাংলাদেশ থেকে চোরা পথে আসা প্রায় ২০ লাখ বিদেশি সিগারেট বাজেয়াপ্ত করল কেন্দ্রীয় শুল্ক দফতর ডিরেক্টরেট অব রেভেনিউ ইনটেলিজেন্স (ডিআরআই)।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

কলকাতা শেষ আপডেট: ১৯ এপ্রিল ২০১৯ ১৫:২৫
Share:

বিদেশি সিগারেট বাজেয়াপ্ত করল কেন্দ্রীয় শুল্ক দফতর ডিরেক্টরেট অব রেভেনিউ ইনটেলিজেন্স (ডিআরআই)। নিজস্ব চিত্র।

মায়ানমার এবং বাংলাদেশ থেকে চোরা পথে আসা প্রায় ২০ লাখ বিদেশি সিগারেট বাজেয়াপ্ত করল কেন্দ্রীয় শুল্ক দফতর ডিরেক্টরেট অব রেভেনিউ ইনটেলিজেন্স (ডিআরআই)।

Advertisement

ডিআরআইয়ের গোয়েন্দারা জানিয়েছেন, বাজেয়াপ্ত করা সিগারেটের বেশিটাই চিন এবং দক্ষিণ কোরিয়ার বিভিন্ন ব্র্যান্ডের। তবে সেই সঙ্গে ইন্দোনেশিয়া, আরব আমিরশাহি এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেরও কয়েকটি ব্র্যান্ডের সিগারেট রয়েছে।

শুল্ক দফতরের এক গোয়েন্দা বলেন, ‘‘গোপন সূত্রে খবর পেয়ে আমরা ডানকুনি ট্রাক টার্মিনালে হানা দিই। সেখানে একটি পিক-আপ ভ্যান থেকে উদ্ধার হয় ৭৪ কার্টন বিদেশি সিগারেট।” পিক-আপ ভ্যানের চালককে জেরা করে জানা যায়, ওই সিগারেট তিনি ওই ট্রাক টার্মিনালে দাঁড়ানো একটি ট্রাক থেকে সংগ্রহ করেছেন। তদন্তে উঠে আসে ওই ট্রাকটি এসেছে অসমের গুয়াহাটি থেকে। সেখানেই নিত্য প্রয়োজনীয় অন্য জিনিসপত্রের আড়ালে ওই সিগারেট বোঝাই করা হয় ট্রাকে। সেই সঙ্গে কলকাতার তপসিয়া এলাকার একটি গুদামের ঠিকানা পাওয়া যায় যেখানে পিক-আপ ভ্যানের ওই সিগারেট চালান হওয়ার কথা ছিল।

Advertisement

আরও পড়ুন: হেমন্ত কারকারেকে অসম্মান সাধ্বীর, বললেন, তাঁর অভিশাপেই মৃ্ত্যু হয়েছে প্রাক্তন এটিএস কর্তার​

ডিআরআইয়ের গোয়েন্দারা জানিয়েছেন, তপসিয়ার ওই গুদামে হানা দিয়ে ১২ লাখেরও বেশি বিদেশি সিগারেট উদ্ধার করা হয়। শুল্ক দফতরের গোয়েন্দাদের দাবি, বাজেয়াপ্ত সিগারেটের দাম দু’কোটি টাকারও বেশি।

তবে এই প্রথম নয়। গত এক বছরে বেশ কয়েক বার বিভিন্ন বিদেশি ব্র্যান্ডের সিগারেট কলকাতায় উদ্ধার করেছে ডিআরআই। যে ব্র্যান্ডগুলির সিগারেট উদ্ধার হয়েছে সেগুলি শহর কলকাতার প্রায় সব দোকানেই প্রকাশ্যে বিক্রি হয়। গোয়েন্দারা স্বীকার করেন যে, ওই সিগারেটগুলি কলকাতার ধূমপায়ীদের কাছে বেশ জনপ্রিয়। গোয়েন্দাদের একাংশ বলেন, ‘‘বিদেশি সিগারেটের দাম নাগালের মধ্যে হওয়াতেই দ্রুত চাহিদা বাড়ছে ওই সিগারেটের। এবং সেই কারণেই পাল্লা দিয়ে বাড়ছে চোরা পথে আমদানি।”

আরও পড়ুন: এখনও উত্তপ্ত চোপড়া, তৃণমুল-বিজেপি সংঘর্ষের মাঝে গুলিবিদ্ধ স্কুলপড়ুয়া

পার্ক স্ট্রিটের একটি বেসরকারি সংস্থার কর্মী সুমন সরকার। তিনি দক্ষিণ কোরিয়ার একটি ব্র্যান্ডের সিগারেট নিয়মিত কেনেন। তাঁর অফিসের সামনেই পাওয়া যায় ওই সিগারেট। তিনি বলেন, ‘‘গড়ে ১০৫ থেকে ১২০ টাকার মধ্যে ঘোরাফেরা করে ২০টি সিগারেটের একটি প্যাকেটের দাম।’’ অর্থাৎ প্রতি সিগারেটের দাম পাঁচ থেকে ছ’টাকার মধ্যে। সুমনের দাবি, আগে ওই মানের যে ভারতীয় সিগারেট তিনি কিনতেন, গত তিন বছরে সেই সিগারেটের দাম লাফিয়ে লাফিয়ে বেড়েছে। ১০টি সিগারেটের প্যাকেটের দাম ৬০ থেকে বেড়ে হয়ে গিয়েছে ৯৫ টাকা। সেই অনুসারে কোরীয় ওই সিগারেটের মান ভাল, অন্য দিকে দামও অনেক কম।

আরও পড়ুন: সাধ্বী প্রজ্ঞার প্রার্থিপদ বাতিল চেয়ে মামলা এনআইএ আদালতে

ধর্মতলা চত্বরে সিগারেটের দোকান শেখ শামিমের। তিনি ওই বিদেশি সিগারেট বিক্রি করেন। তিনি বলেন, ‘‘সাপ্লায়ার আছে। তারাই দিয়ে যায়। এখন ওই বিদেশি সিগারেটের খুব ভাল বাজার।” তিনি আরও বলেন, ‘‘বিদেশি সিগারেটের দাম কম। মানও ভাল। পাশাপাশি বাজেটের আগে থেকেই দেশি সিগারেটের ডিলাররা যে ভাবে কৃত্রিম চাহিদা তৈরি করে কালোবাজারি করে, সেই সমস্যা নেই বিদেশি সিগারেটের ক্ষেত্রে।”

দিল্লি দখলের লড়াই

গোয়েন্দারাও স্বীকার করেন, ক্রমাগত বাড়তে থাকা করের চাপ দেশি সিগারেটকে দিনে দিনে মহার্ঘ করে তুলেছে। সেই সুযোগেই বাড়ছে বিদেশি সিগারেটের চাহিদা। ফলে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে চোরা কারবার। কারণ, চোরাপথে আনা ওই বিদেশি সিগারেটে কোনও কর লাগছে না। ফলে সোনার মতোই সিগারেটের চোরাচালান নিয়েও চিন্তায় গোয়েন্দারা।

(সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। ফলো করুন আমাদের Google News, X (Twitter), Facebook, Youtube, Threads এবং Instagram পেজ)

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
Advertisement
Advertisement
আরও পড়ুন