Road Accident

পার্ক স্ট্রিটে দুর্ঘটনায় নিখোঁজ গাড়িচালক, সঙ্কটজনক মহিলা

শনিবার সকাল সাড়ে ৬টা নাগাদ দুর্ঘটনাটি ঘটে পার্ক স্ট্রিট থানা এলাকার পার্ক স্ট্রিট রোডে। জখম মহিলার নাম দীপান্বিতা মুখোপাধ্যায় (৫০)। পেশায় বেসরকারি হাসপাতালের কর্মী ওই মহিলা বেলঘরিয়ার নিমতা রোডের বাসিন্দা।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৬ জানুয়ারি ২০২৬ ০৯:৪৩
Share:

—প্রতীকী চিত্র।

পার্ক স্ট্রিটের ফাঁকা রাস্তায় ঝড়ের গতিতে মহিলাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিয়ে চম্পট দিয়েছিল একটি গাড়ি। শনিবার সকালের সেই ঘটনার এক দিন পরেও এখনও অধরা অভিযুক্ত গাড়িচালক। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ মামলা রুজু করলেও এখনও আটক করা যায়নি সাদা রঙের গাড়িটিকেও। ওই দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত ওই মহিলা আপাতত সঙ্কটজনক অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

শনিবার সকাল সাড়ে ৬টা নাগাদ দুর্ঘটনাটি ঘটে পার্ক স্ট্রিট থানা এলাকার পার্ক স্ট্রিট রোডে। জখম মহিলার নাম দীপান্বিতা মুখোপাধ্যায় (৫০)। পেশায় বেসরকারি হাসপাতালের কর্মী ওই মহিলা বেলঘরিয়ার নিমতা রোডের বাসিন্দা। পরিবার সূত্রের খবর, এ দিন কাজে যোগ দিতে সহকর্মীদের সঙ্গে মল্লিকবাজারে বাস থেকে নেমেছিলেন দীপান্বিতা। সেখান থেকে হেঁটে পার্ক স্ট্রিটের হাসপাতালের দিকে যাচ্ছিলেন। ওই হাসপাতালের এক কর্মী রাজীব মুখোপাধ্যায় রবিবার জানান, হাসপাতালের কিছুটা আগে বিস্কুট কিনতে দোকানে দাঁড়িয়েছিলেন ওই মহিলা। তখন তাঁর সহকর্মীরা হাসপাতালে ঢুকে যান। রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে ব্যাগে বিস্কুট ঢোকানোর সময়েই সাদা রঙের বেপরোয়া গাড়িটি ঝড়ের গতিতে এসে ধাক্কা মারে দীপান্বিতাকে। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, গাড়ির ধাক্কায় কয়েক সেকেন্ড শূন্যে ভেসে কয়েক মিটার দূরে ছিটকে যান ওই মহিলা। যদিও বেপরোয়া গাড়িটি গতি না কমিয়েই তৎক্ষণাৎ ঘটনাস্থল থেকে চম্পট দেয়।

জানা গিয়েছে, স্থানীয়েরাই প্রথমে দুর্ঘটনার খবর দেন পার্ক স্ট্রিট থানায়। এর পরে পুলিশ এসে আহতকে উদ্ধার করে প্রথমে ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। পরে তাঁর পরিবারের সদস্যেরা মল্লিকবাজার সংলগ্ন একটি বেসরকারি হাসপাতালে তাঁকে ভর্তি করেন। জখম মহিলার মেয়ে মন্থনা মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘‘আমাকে ফোন করে মায়ের দুর্ঘটনার খবর দেওয়া হয়। হাসপাতালে এসে দেখি, মা এমার্জেন্সি বিভাগের স্ট্রেচারে শুয়ে রয়েছেন। সারা শরীর রক্তে ভেজা। এর পরে দ্রুত আমরা বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে আসি।’’

সূত্রের খবর, ওই মহিলার মাথা, কোমর, হাত এবং মুখে মারাত্মক আঘাত লেগেছে। বাঁ হাত এবং কোমর ভেঙে যাওয়ার পাশাপাশি, মাথার ভিতরে একাধিক জায়গায় রক্ত জমাট বেঁধে রয়েছে বলে পরিবারকে জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা। তাঁর মাথায় ইতিমধ্যে ১৫টি সেলাই পড়েছে। হাসপাতালের ভেন্টিলেশনে রেখে চিকিৎসা চললেও তিনি এখনও বিপন্মুক্ত নন বলে হাসপাতালের তরফে জানানো হয়েছে।

শনিবার সন্ধ্যায় আহত মহিলার মেয়ে এসে পার্ক স্ট্রিট থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। তার ভিত্তিতে মামলা রুজু করেছে পার্ক স্ট্রিট থানা। পুলিশ সূত্রের খবর, ইতিমধ্যেই সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে গাড়িটিকে চিহ্নিত করেছেন তদন্তকারীরা। তবে গাড়ি এবং চালকের খোঁজ মেলেনি। সূত্রের খবর, গাড়িটির নম্বর দেখে প্রথমে মালিকের খোঁজ করা হয়। কিন্তু গাড়িটি হাতবদল হয়ে যাওয়ায় আপাতত চালককে গ্রেফতার করতে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। এক তদন্তকারী আধিকারিক বলেন, ‘‘সিসি ক্যামেরার ফুটেজ ইতিমধ্যেই খতিয়ে দেখা হয়েছে। কোন পথ দিয়ে গাড়িটি গিয়েছিল, কোন পথ দিয়ে এসেছিল— তা দেখা হচ্ছে। সব দিক খতিয়ে দেখে অভিযুক্ত চালকের খোঁজ চালানো হচ্ছে।’’

দিনকয়েক আগেই শহরের রাস্তায় পথ দুর্ঘটনায় মৃত্যুর সংখ্যা কমেছে বলে দাবি করেছিলেন কলকাতার নগরপাল মনোজ বর্মা। শহরে এর আগেও একাধিক ‘হিট অ্যান্ড রান’-এর উদাহরণ রয়েছে। দুর্ঘটনায় একাধিক প্রাণহানিও ঘটেছে। প্রসঙ্গত, শনিবার সকালেও রেড রোডে প্রজাতন্ত্র দিবসের কুচকাওয়াজের শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতির সময়ে একটি বেপরোয়া গাড়ি গার্ডরেলে ধাক্কা দেয়। রেড রোডের সেই ঘটনার মধ্যেই পার্ক স্ট্রিটের এই দুর্ঘটনা শহরের একাধিক ‘হিট অ্যান্ড রান’-এর উদাহরণ মনে করাচ্ছে।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন

এটি একটি প্রিমিয়াম খবর…

  • প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর

  • সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ

  • সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে

সাবস্ক্রাইব করুন