বাপি রহমান
বাগুইআটির জগৎপুরে তৃণমূলকর্মী সঞ্জয় রায় ওরফে বুড়োকে খুনে অন্যতম অভিযুক্ত বাপি রহমানকে অবশেষে গ্রেফতার করল বিধাননগর পুলিশ। শনিবার রাতে ধরা পড়ার পরে রবিবার বারাসত আদালতে ১২ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ হয়েছে বাপির। পুলিশের দাবি, ঘটনায় জড়িতদের মধ্যে এখনও অধরা ভিন্ রাজ্যের এক দুষ্কৃতী।
গত ২৬ ফেব্রুয়ারি সকালে বাগুইআটির জগৎপুরে সঞ্জয়কে গুলি করে, ধারালো অস্ত্রে কুপিয়ে খুন করে দুষ্কৃতীরা। তার পরে বোমা ছুড়তে ছুড়তে পালায়। এর আগে পুলিশ বিভিন্ন জায়গা থেকে চার জনকে গ্রেফতার করেছিল। কিন্তু অন্যতম অভিযুক্ত বাপি পালিয়ে বেড়াচ্ছিল। শনিবার রাতে বাপি বাগুইআটিতে ঢুকেছে খবর পেয়ে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। পুলিশের দাবি, বাপিও গুলি চালিয়েছিল।
পুলিশ সূত্রে খবর, বাপির বাড়ি কেষ্টপুরের শরৎপল্লিতে। এর আগে বিভিন্ন অপরাধে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের হয়েছে। সঞ্জয়কে খুনের ঘটনার কিছু দিন আগেই সে জেল থেকে ছাড়া পেয়েছিল। ঘটনার তদন্তে নেমে এক অভিযুক্ত রঞ্জুর বাড়িতে হানা দিয়েছিল পুলিশ। সেখান থেকে পাওয়া একটি নীল ডায়েরিতে বাপির নাম ছিল। রঞ্জুকে গ্রেফতার করার পরে জেরাতেও বাপির নাম সামনে আসে।
বাণিজ্যিক ও ব্যক্তিগত শত্রুতার জেরেই এই খুন বলে তদন্তকারীদের দাবি। পুলিশের দাবি, আগে তৃণমূলকর্মী সঞ্জয় এবং ধৃতেরা সকলেই রাজারহাট-গোপালপুরের এক প্রভাবশালী যুবনেতার সঙ্গে ছিল। এর পরে ব্যবসার ভাগ-বাঁটোয়ারা ঘিরে গোলমাল বাধলে আলাদা হয়ে যায় তারা। স্থানীয় সূত্রে খবর, সঞ্জয়ের দাপটে কিছুতেই বাগুইআটি-জগৎপুরে ব্যবসা-বাণিজ্য থেকে তোলাবাজির বাজার দখলে নিতে পারেনি তারা। সেই দখলদারির জেরেই সঞ্জয়কে খুন করা হয় বলে মনে করছেন স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ।