মানিক ভট্টাচার্য। —ফাইল চিত্র।
প্রাথমিকের নিয়োগ মামলার সর্বশেষ চার্জশিটে অভিযুক্ত হিসাবে নাম থাকলেও আদালতে হাজিরা দিলেন না প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক মানিক ভট্টাচার্য। এই মামলায় সিবিআই সর্বশেষ যে চার্জশিট দিয়েছে, তাতে অভিযুক্ত হিসাবে মানিক ছাড়াও আরও দু’জনের নাম নতুন করে যুক্ত হয়েছে। তাঁরা হলেন প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের প্রাক্তন সচিব রত্না চক্রবর্তী বাগচী এবং বীরভূমের নলহাটির ২ নম্বর ব্লকের প্রাক্তন তৃণমূল সভাপতি বিভাস অধিকারী। শুক্রবার কলকাতার নগর দায়রা আদালতে তাঁরা সশরীরে হাজির হয়ে আদালতে আত্মসমর্পণ করলেও কেবল অনুপস্থিত ছিলেন প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের প্রাক্তন সভাপতি মানিক।
মানিকের অনুপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভপ্রকাশ করেন বিচারকও। তবে মানিকের আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন। প্রাথমিকের মামলার শুনানি থাকায় শুক্রবার আদালতে হাজিরা দেন ‘কালীঘাটের কাকু’ ওরফে সুজয়কৃষ্ণ ভদ্রও। আইনজীবী মারফত হাজিরা দেন রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়। পার্থ, সুজয়কৃষ্ণ, কুন্তল ঘোষেদের নাম অভিযুক্ত হিসাবে সিবিআইয়ের আগের চার্জশিটগুলোয় রয়েছে। প্রাথমিকের নিয়োগ মামলার সর্বশেষ চার্জশিটে অভিযুক্ত হিসাবে নাম না-থাকলেও আদালতে গিয়েছিলেন অর্পিতা মুখোপাধ্যায়। আদালতকে তিনি জানান, চিকিৎসার জন্য দক্ষিণ ভারতে যেতে চান।
২০২৫ সালের অক্টোবরে প্রাথমিকে নিয়োগ দুর্নীতির মামলায় চূড়ান্ত চার্জশিট জমা দেয় সিবিআই। প্রাথমিকে নিয়োগের ক্ষেত্রে ঘুরপথে ৩৫০ জনকে চাকরি দেওয়া হয়েছিল বলে সিবিআইয়ের তদন্তে উঠে এসেছে। তদন্তকারীদের সন্দেহ, এই চক্রে এজেন্ট হিসাবে কাজ করেছিলেন মানিক-‘ঘনিষ্ঠ’ বিভাস। বেসরকারি বিএড এবং ডিএলএড কলেজ সংগঠনের প্রাক্তন সভাপতি ছিলেন তিনি তাঁর বিরুদ্ধে নকল থানা চালানোরও অভিযোগ ওঠে। এক সময় নয়ডা পুলিশ গ্রেফতারও করেছিল বিভাসকে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃতেরা দাবি করতেন, তাঁদের ব্রিটেনেও অফিস রয়েছে। ইন্টারপোল এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার কমিশনের সঙ্গেও যোগাযোগ রয়েছে তাঁদের। পুলিশের দাবি, এই নথি দেখিয়েই অভিযুক্তেরা মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করতেন।
অভিযোগ, চাকরি দেওয়ার নাম করে কোটি কোটি টাকা তোলা হত অযোগ্য প্রার্থীদের কাছ থেকে। বীরভূমের কৃষ্ণপুরের একটি আশ্রমে ঘুষের লেনদেন হত। বস্তায় ভরে সেই টাকা পাঠানো হত কলকাতায় মানিকের ঠিকানায়।