শহরে অটোয় সফর রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবের (মাঝখানে)। ছবি: সংগৃহীত
জট কেটে যাওয়ায় শহরে মেট্রো প্রকল্পগুলির বেশির ভাগ আগামী কয়েক বছরের মধ্যে সম্পূর্ণ হয়ে যাবে। সম্প্রসারিত মেট্রোপথে যাত্রীদের সফরের চাহিদা মেটাতে আগামী পাঁচ বছরে কলকাতাকে ৬০টি নতুন প্রজন্মের মেট্রো রেক দেওয়ার কথাও জানালেন রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব। শনিবার রাজ্যের রেল এবং মেট্রো প্রকল্পগুলি নিয়ে নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে আলোচনার জন্য শহরে আসেন রেলমন্ত্রী। সেখানেই ওই খবরজানান তিনি।
এ দিন সকালে কলকাতা বিমানবন্দরে নামার পরে রেলমন্ত্রী আচমকা গত অগস্টে উদ্বোধন হওয়া বিমানবন্দর মেট্রো দেখতে যান। বিমানবন্দর সংলগ্ন জয়হিন্দ স্টেশন থেকে নোয়াপাড়া পর্যন্ত মেট্রোয় সফর করেন তিনি। বিমানবন্দর মেট্রো স্টেশনের পরিচ্ছন্নতা এবং ব্যবস্থপনা ঘুরে দেখেন তিনি ও সাফাইকর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন। যাত্রীদের কাছে সফরের অভিজ্ঞতা এবং পরিষেবা সম্পর্কে জানতে চান রেলমন্ত্রী।
পরে তিনি নোয়াপাড়া মেট্রো স্টেশন থেকে অটোয় চড়ে বেলঘরিয়া এক্সপ্রেসওয়ে যান। সেখান থেকে গাড়িতে নবান্নে যান। এই দীর্ঘ পথে রেলমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন বিজেপি বিধায়ক তথা রাজ্যের ক্যাবিনেট মন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়। নবান্নে পৌঁছলে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী রেলমন্ত্রীকে স্বাগত জানান।
নবান্নে প্রশাসনিক বৈঠকের পরে অন্য কয়েকটি কর্মসূচি সেরে বিকেলের দিকে দিল্লি ফেরার জন্য বিমানবন্দরে যাওয়ার পথে চিংড়িঘাটায় আসেন তিনি। নিউ গড়িয়া-বিমানবন্দর মেট্রো প্রকল্পের উড়ালপথের একাংশের কাজ দীর্ঘ দেড় বছরের বেশি সময় ধরে থমকে ছিল। সে জন্য বিগত রাজ্য সরকারকে ‘উন্নয়ন বিরোধী’ বলে আখ্যা দেন রেলমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘‘রাজ্য প্রশাসনের চাহিদা অনুযায়ী রাস্তাঘাটের প্রয়োজনীয় বদল সেরে ফেলার পরেও পুলিশের অনুমতি মেলেনি। ওই কাজের অনুমতি পেতে হাই কোর্টের পরে সুপ্রিম কোর্টেও যেতে হয়েছে। আদালতের নির্দেশও মানেনি আগের সরকার।’’
মেট্রো প্রকল্প নিয়ে কেন্দ্রের তৎপরতার কথা বলতে গিয়ে রেলমন্ত্রী বলেন, ‘‘১৯৭২ সাল থেকে পরের ৪২ বছরে কলকাতায় মাত্র ২৮ কিলোমিটার মেট্রোপথ তৈরি হয়েছিল। মোদী সরকার ক্ষমতায় আসার পর, ১২ বছরে কলকাতায় ৪৫ কিলোমিটার মেট্রোপথ তৈরি হয়েছে।’’
মেট্রো সূত্রের খবর, কলকাতার বিভিন্ন মেট্রোপথ, বিশেষত, নিউ গড়িয়া-বিমানবন্দর, নোয়াপাড়া-বিমানবন্দর এবং জোকা মেট্রোর জন্য আধুনিক রেডিয়ো সঙ্কেত নির্ভর সিগন্যালিং ব্যবস্থার উপযোগী রেকের প্রয়োজন পড়বে। সবচেয়ে বেশি রেক লাগবে নিউ গড়িয়া-বিমানবন্দর মেট্রোর জন্য। ওই মেট্রোর প্রয়োজনে গত বছর, আরভিএনএল আট কোচের ১০টি রেকের জন্য দরপত্র আহ্বান করেও পরে নানা কারণে বাতিল করে।
আধুনিক সিগন্যালিং ব্যবস্থার উপযোগী ওই রেকগুলিতে অ্যান্টি ড্র্যাগ প্রযুক্তি থাকার কথা। যাত্রীদের মেট্রোয় ওঠার সময়ে দরজায় জামা, ব্যাগ বা জুতোর সামান্যতম অংশ আটকে গেলেও দরজা খুলে যাবে। পাশাপাশি, রেকও নড়বে না। একই ভাবে থার্ড রেলে কোনও ধাতব টুকরো, পাথর বা কোনও বাধা রয়েছে, এমনটা ট্রেন আঁচ করতে পারলে, সঙ্গে সঙ্গে ট্রেন থেমে যাবে। ওই সব রেকে ট্রেনের সামনে ও পিছনে সিসি ক্যামেরা ছাড়াও বর্তমান রেকগুলির তুলনায় আরও বিশেষত্ব থাকার কথা। যাত্রী নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে ওই সব বিশেষত্ব যোগ করা হয়েছে।
মেট্রোর আধিকারিকদের একাংশ জানাচ্ছেন, আগামী দিনে আধুনিক প্রযুক্তির ওই সব রেক আনার কথাই এ দিন রেলমন্ত্রী বলেছেন। নতুন রেকগুলি এলে, তাতে চালকের ভূমিকা অনেকটাই গৌণ হয়ে যাবে।
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে